শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি?

কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোন প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয় এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hearing Impairment)’ বলতে মৃদু থেকে চরম পর্যন্ত যেকোন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায়। এর আওতায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা ও আংশিক মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এ দুই উপ-বিভাগ অন্তর্ভুক্ত (ব্রিল, ম্যকনেইল ও নিউম্যান-১৯৮৬)।

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা-
ক. শিশুর শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার মাত্রা,
খ. কোন বয়সে শ্রবণ নষ্ট হয়েছে এবং
গ. শ্রবণ সমস্যার ধরন।
এ সকল দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করা হলোঃ

শ্রবণ মাত্রাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (Degree Hearing Loss) : শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক হল ডেসিবল (dB)। তাই শিশুর শ্রবণের অক্ষমতার মাত্রা ডেসিবল দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কোন শিশুর ০ থেকে ২৬ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণ অক্ষমতা থাকলে তাদের শ্রবণে সমস্যা হয় না বলে তাদের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা সম্পন্ন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ২৬ ডেসিবল-এর চেয়ে তীব্র শব্দগুলি শুনতে সমস্যা হলে সে অবস্থাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। শ্রবণ অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী প্রতিবন্ধিতা শ্রেণিবিভাগ উপস্থাপন করা হলো-

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণি শ্রবণ অক্ষমতার মাত্রা
আংশিক মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hard of Hearing) মৃদু শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Mild Hearing Impairment) ২৭-৪০ ডেসিবল
মধ্যম শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Moderate Hearing Impairment) ৪১-৫৫ ডেসিবল
মধ্যম মাত্রার গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Moderately Severe Hearing Impairment) ৫৬-৭০ ডেসিবল
বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Deaf) গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Severe Hearing Impairment) ৭১-৯০ ডেসিবল
চরম শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Profound Hearing Impairment) ৯১ ডেসিবল বা তদূর্ধ্ব

মাত্রাভিত্তিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

মাত্রাভিত্তিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ নীচে উল্লেখ করা হলো-
ক. আংশিক (Hard of Hearing) : আংশিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hard of Hearing) বলতে এমন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায় যার ফলে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করে অবশিষ্ট শ্রবণ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভাষাগত তথ্য শ্রবণ সম্ভব হয়। (ব্রিল, ম্যাকনেইল ও নিউম্যান ১৯৮৬)।

  1. মৃদু শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Mild Hearing Impairment) : কোন শিশুর শ্রবণ অক্ষমতাকে ২৭ থেকে ৪০ ডেসিবল পর্যন্ত তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে মৃদু শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। মৃদু বা দূরবর্তী শব্দ শুনতে অসুবিধা হতে পারে। তবে বক্তার কাছাকাছি থাকলে ভালোভাবে শুনতে পায়। সীমিত কথা বলতে পারে। ভাষাভিত্তিক শিল্পকলার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
  2. মধ্যম শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Moderate Hearing Impairment) : কোন শিশুর শ্রবণ অক্ষমতা ৪১ থেকে ৫৫ ডেসিবল পর্যন্ত হলে তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে মধ্যম প্রতিবন্ধিতা বলে। সামনাসামনি ৩-৫ ফুট দূরের কথোপকথন বুঝতে পারে। মৃদু কন্ঠস্বর হলে কিংবা দৃষ্টি বরাবর না হলে ৫০% আলোচনা শুনতে ব্যর্থ হতে পারে। শব্দভান্ডার কম হতে পারে এবং শব্দ উচ্চারণে ত্রুটি থাকতে পারে। দলীয় আলোচনার ক্ষেত্রে তারা অসুবিধায় পড়ে। শ্রেণিকক্ষের বাইরের শব্দের জন্য (noise) শ্রেণিকক্ষের বাইরের কথায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়।
  3. মধ্যম মাত্রার গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Moderately Severe Hearing Impairment) : কোন শিশুর শ্রবণ অক্ষমতা ৫৬ থেকে ৭০ ডেসিবল পর্যন্ত হলে তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে মধ্যম মাত্রার গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলে। কেবলমাত্র জোরে কথা বললে শুনতে পায়। দলীয় আলোচনায় সমস্যা হতে পারে। শব্দের উচ্চরণ ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। ভাষা ব্যবহার ও বোধগম্যতায় ঘাটতি থাকতে পারে। শব্দভাণ্ডার সীমিত হতে পারে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়। ছোটবেলা থেকেই এই সমস্যা থাকলে কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

খ. বধির মাত্রার প্রতিবন্ধিতা (Deaf) : বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলতে এমন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায় যার ফলে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করে বা না করে ভাষাগত তথ্য শ্রবণে সমস্যা হয় (ব্রিল, ম্যাকনেইল ও নিউম্যান ১৯৮৬)।

  1. গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Severe Hearing Impairment) : কোন শিশুর শ্রবণ অক্ষমতা ৭১ তেকে ৯০ ডেসিবল পর্যন্ত হলে তাদের শ্রবণ প্রতিবন্থিতাকে গরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলে। এক ফুট দূর থেকে উচ্চ শব্দ শুনতে পারে। পরিবেশের শব্দের উৎস চিহ্নিত করতে পারে। কেবলমাত্র অতিতীব্র শব্দ বা চিৎকার শুনতে পায় এবং এর কোন অর্থ বুঝতে পারে না। বিকল্প হিসাবে সহজাত কিছু ইশারা-ইংগিতের মাধ্যমে অন্যের সাথে ভাব বিনিময় করে। এক বছর বয়সের পূর্বে শ্রবণ সমস্যা দেখা দিলে ভাষার বিকাশ হয় না।
  2. চরম শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Profound Hearing Impairment) : কোন শিশু শ্রবণের অক্ষমতা ৯১ ডেসিবল বা তদূর্ধ্ব হলে তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে চরম শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলে। কিছু উচ্চশব্দ যেমন- মেঘের গর্জন বা প্লেনের আওয়াজ শুনতে পারে, তবে শব্দের তুলনায় কম্পন অনুভবের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়। ভাব বিনিময়ের জন্য শব্দের তুলনায় স্পর্শ ও দর্শন ইন্দ্রিয়ের উপর বেশি নির্ভর করে। কথা ও ভাষা ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে অবনতি হতে পারে। বিকল্প হিসাবে সহজাত কিছু ইশারা-ইংগিতের মাধ্যমে অন্যের সাথে ভাব বিনিময় করে। এক বছর বয়সের পূর্বে শ্রবণ সমস্যা দেখা দিলে ভাষার বিকাশ হয় না।

শ্রবণ সমস্যা শুরুর বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (Time of Hearing Loss)

শিশুর শ্রবণ সমস্যা কখন শুরু হয়েছে এই বিষয়টিও ভাষা বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের দুই ভাগে পৃথক করা যায়। যথাঃ ১. প্রাক-ভাষাশিক্ষা শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Pre-lingual Hearing Impairment) ও ২. ভাষাশিক্ষা পরবর্তী শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Post-lingual Hearing Impairment).

  1. প্রাক-ভাষাশিক্ষা শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Pre-lingual Hearing Impairment) : ভাষা শিক্ষার পূর্বেই এসব শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়। অর্থাৎ অতি শৈশবে বা মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে থাকে। প্রাক-ভাষাশিক্ষা শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ভাষাজ্ঞান না থাকায় মৌখিক ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে।
  2. ভাষাশিক্ষা পরবর্তী শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Post-lingual Hearing Impairment) : অন্যদিকে ভাষাশিক্ষা পরবর্তী শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু ভাষা বিকাশের পর কোন কারণে শ্রবণ ক্ষমতা হারায়। এসব শিশুর স্মৃতিতে ভাসা ব্যবহারের দক্ষতা থাকার কারণে যেকোন মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও তারা সহজে ভাষা আয়ত্ব করতে পারে।

শ্রবণ সমস্যার ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ (Types of Hearing Loss)

কানের গঠনগত ত্রুটি ও ত্রুটিযুক্ত কার্যাবলির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা যায়। যথা- ১. শব্দ পরিবহনে বাধাযুক্ত শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Conducting Hearing Loss) ও ২. স্নায়ুবিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Sensorineural Hearing Loss).

  1. শব্দ পরিবহনে বাধাযুক্ত শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Conducting Hearing Loss) : বাতাসের শব্দ তরঙ্গ বহিঃকর্ণের পর্দা ও মর্ধকর্ণে অবস্থিত অস্থির মধ্যে দিয়ে পরিবাহিত হয়ে অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। এই প্রবাহে কোন বাধা না হলে মানুষ সঠিকভাবে শুনতে পায়। কানের গঠনগত ত্রুটি, কোনরূপ আঘাত থেকে পর্দায় ছিদ্র, কানপাকা রোগের কারণে মধ্যকর্ণের ক্ষুদ্র অস্থির ক্ষয় বা কোন ত্রুটি শব্দ তরঙ্গ প্রবাহে বাধা দেয়। এ কারণে অন্ত:কর্ণে শব্দ পৌঁছানো সমস্যা হয়। আর এই সমস্যার জন্য ৩০ থেকে ৭০ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণ অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।
  2. স্নায়ুবিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Sensorineural Hearing Loss) : অন্তঃকর্ণ ও শব্দ তরঙ্গ পরিবাহী স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে গুরুতর মাত্রার অর্থাৎ ৭০ থেকে ৯০ ডেসিবল বা এর চেয়ে অধিক মাত্রার শ্রবণ ক্ষমতা হারায় কিংবা আংশিক বা বিশেষ ফ্রিক্যুয়েন্সীর শব্দ পরিবাহী স্নায়ু কর্তৃক শব্দ তরঙ্গ মস্তিষ্কের শ্রবণ এলাকায় সঠিকভাবে পাঠানোর সমস্যার কারণে স্নায়ুবিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

সঞ্চালন দকক্ষতার বিকাশ (Motor Development) :
অন্য কোন সমস্যা না থাকলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক শিশুর মতই শারীরিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর সঞ্চালনমূলক আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়। ছোটবেলা থেকে মা-বাবার মৌখিক নির্দেশনা শুনতে না পাওয়ার কারণে সঞ্চালনমূলক দক্ষতার বিকাশ কিছুটা বিলম্বে হয়। এ কারণে স্থুল ও সূক্ষ্ম কাজের ক্ষেত্রে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় কম দক্ষ হয় (ওয়গারসমা ও উয়ান ডরভেলডে ১৯৮৩)।

পরিজ্ঞানমূলক বিকাশ (Cognitive Development) :
শিশুর শ্রবণ ক্ষমতা পরিজ্ঞানমূলক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ কি-না এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা পরিবেশগত নয়। বরং জিনগত বা জন্মগত সূত্রে হয়ে থাকে, এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ব্যক্তির শ্রবণ অক্ষমতা বুদ্ধিমত্তা বিকাশে প্রতিবন্ধক নয়। স্বাভাবিক শ্রবণ-ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর তুলনায় তাদের প্রত্যক্ষণ, শিক্ষণ, স্মৃতি এসব পরিজ্ঞানমূলক বিকাশে তেমন পার্থক্য পাওয়া যায়নি (কোনরাড ১৯৭৯)। কারসমার বেলমন্টস (১৯৭৬) লক্ষ করেন যে, স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অধিকারী শিশুদের তুলনায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিজ্ঞানমূলক দক্ষতা একই স্তরে রয়েছে। তাদের মতে, পরিজ্ঞানমূলক দিক হতে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা সম্পন্নদের তুলনায় পিছিয়ে নেই। বরং বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা জানে না কিভাবে তারা তাদের পরিজ্ঞান বা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে। মাইকলেবাষ্ট ও ব্রিটন (১৯৫৩) বলেন, বুদ্ধির দিক হতে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা পিছিয়ে থাকে না।

তবে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা গুণগতভাবে সমপর্যায়ের হলেও পরিমাণগতভাবে স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতার অধিকারী শিশুদের তুলনায় পিছিয়ে থাকে এবং বিমূর্ত চিন্তনের ক্ষেত্রে শিশুরা অর্জিত বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের তুলনায় কর্মসম্পাদন দক্ষতার স্কেলে সাফল্য বেশি পায়। এমনকি বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী পিতামাতার বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্কোরও বেশি হয়। জন্মগতভাবে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়া ও অভিভাবক বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ার জন্য ছোটবেলা থেকে ইশারা ভাষা ব্যবহার করায় বুদ্ধির বিকাশে কোন প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয় না। ভারনন (১৯৬৭) ১৯৩০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের বুদ্ধিমত্তার উপর যে সকল গবেষণা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর তুলনায় পিছিয়ে থাকে না।

ভাব বিনিময় বা যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ (Communication Development) : জন্মগতভাবে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা পরিবারে ব্যবহৃত বিভিন্ন কথা-বার্তা শোনা থেকে বঞ্চিত হয়। সে কারণে অতি ছোটবেলায় স্পর্শ ও দৃষ্টির সমন্বয়ে মা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে মৌখিক ভাষার পরিবর্তে অঙ্গভঙ্গি ও সহজাত ইশারার মাধ্যমে নিজের চাহিদা, সুবিধা-অসুবিধা ও আবেগকে প্রকাশ করে থাকে।

পেটিটো ও মারেনটেটো (১৯৯১)-এর মতে, বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর ন্যায় বিকাশকালীন সময়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে। ৭/৮ মাস বয়সে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা ব্যাবলিং ধ্বনি করে। কিন্তু নিজ সৃষ্ট ধ্বনি শুনতে পায় না বলে এই ধ্বনি শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায় এবং অনুরূপ হাতের ভঙ্গি করে। এটাই পরে স্বতঃস্ফূর্ত ইশারা ভাষায় পরিণত হয়।

তাই বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর পিতামাতার উচিত তাদের স্বাভাবিক হাত-পায়ের নাড়াচাড়াকে অনুমোদন ও পুরস্কৃত করা যেভাবে তারা তাদের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর মৌখিক ভাষার ক্ষেত্রে মুখভঙ্গিকে বুঝে মায়ের বোধগম্য ভাব প্রকাশ করে এবং হাসি, কু-ধ্বনি, হাত-গোল্ডউইন, মিডো ও ফেল্ডম্যান (১৯৭৫)-এর মতে, বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী দম্পতির বধির মাত্রার শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন দম্পত্তির তুলনায় ভাল।

কারণ বধীর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী দম্পত্তি তাদের বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী সন্তানের অঙ্গভঙ্গির প্রকাশকে অনুমোদন ও পুরস্কৃত করেন এবং অল্প বয়স হতেই ইশারা ভাষা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের সমস্যা হল সমাজে প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতার অভাব। তাদের ভাষা ব্যবহারের জটিলতা দূর করতে পারলে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা সহজ হয়।

ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিকাশ (Personal and Social Development) : সমাজের অন্যান্যদের সাথে সঠিকভাবে মিশতে পারা ও যথাযথ আচরণ প্রদর্শন করাই হচ্ছে সামাজিক বিকাশ। কিন্তু শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে সামাজিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। শ্রবণ প্রত্যক্ষণ না থাকার কারণে কোনরূপ মৌখিক নির্দেশনায় এই শিশুরা শুনতে পায় না। তাই সামাজিক ও নৈতিক বিষয়গুলি শিক্ষার ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত হবার বিষয়টি তাদের কাছে অস্বচ্ছ থাকে।

গ্রিগরী (১৯৭৬) সামাজিক বিকাশমূলক গবেষণার ফলাফলে দেখেন যে, পরিবারের সদস্যরা বধির শিশুর সাথে কম আন্তরিক আচরণ করে। শিশুর বয়স দুই বছর হওয়ার পর থেকেই কথাবার্তা কমিয়ে দেয়। বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু সম্পর্কে অনেকে মনে করেন যে এই শিশুরা বেশি রাগী, একরোখা, অল্পতে অন্যকে ভুল বোঝে। যে সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু গুরুতর মাত্রার ও যাদের কথা অস্পষ্ট এবং গলার স্বর শ্রুতিকর নয় সে সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর কথা অন্যরা বুঝতে পারে না।

এমনকি বাবা-মা, ভাই-বোনেরা পর্যন্ত বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু বা ব্যক্তি পরিবারে থেকেও নিঃসঙ্গ থাকার কারণে মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব, অবসাদ ও হতাশার মধ্যে কাটায় এবং বাধ্য হয়ে বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী বন্ধু বা সঙ্গীর খোঁজ করে। বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা দ্বারা তাদের সামাজিক আচরণ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রভাবিত হয়ে থাকে।

তবে মৃদু ও মধ্যম মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্যাখ্যাসহ কোন বিষয় বলা হলে তা সহজে শিখতে পারে। অন্যদিকে গুরুতর ও চরম মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে মৌখিক নির্দেশনার সাথে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে বুঝানো হলে তারা তা শিক্ষা লাভ করতে পারে।

আনিফা (১৯৮২) ও পিন্টনার (১৯৩৩)-এর মতে, বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা সমবয়সী শ্রবণক্ষম শিশুর তুলনায় আবেগীয়ভাবে অধিক অন্তমুখী ও অনুগত, তবে বেশির ভাগ গবেষণার ফলাফলেই দেখা যায়, এরা বয়সের তুলনায় অপরিণত, আবেগতাড়িত, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে অদক্ষ, চিন্তনে কম সৃজনশীল, কম আত্মবিশ্বাসী। আর এসবের জন্য দায়ী অতি সংরক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশ। ব্যক্তিত্ব অভীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা যায়, সাধারণ শিশুর তুলনায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর উপযোজনমূলক সমস্যা বেশি হয়।

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার হার

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫% বিদ্যালয় বয়সী শিশুদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা আছে (বেনসবার্জ ও সাইগেলম্যান ১৯৭৬, ডেভিস ও সিলভারম্যান ১৯৭০)। তবে এ ধরনের সকল শিশুরই বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। হোয়েম্যান ও ব্রিজা (১৯৮১)-এর হিসাব মতে, মাত্র ২% শিশু (প্রতি ৫০০ শিশুর মধ্যে ১ জন) বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধী। অপরপক্ষে বাংলাদেশে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, জনগোষ্ঠীর ১/০৪% শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

শ্রবণে সমস্যা হওয়ার কারণ :
শ্রবণে সমস্যা হওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে। গবেষকদের মতে, মাত্র ৬০% কারণ জানা সম্ভব হয়েছে, বাকী ৪০% কারণ এখনও অজানা। বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার সংখ্যা ও কারণ নির্ভর করে। জন্মপূর্ব, জন্মকালীন কিংবা জন্ম-পরবর্তী সময়ে কোন রোগ বা দুর্ঘটনার ফলে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে। গুরুত্বানুসারে কারণগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো-

  1. বংশগত বা জিনগত উপাদান :
    বিভিন্ন জিনগত অবস্থা শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার জন্য দায়ী বলে বিশেণজ্ঞগণ একমত হয়েছেন। তবে বংশগতির কারণে শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ার সঠিক হার নির্ণয় কঠিন।
  2. মাতৃত্বকালীন জটিলা বা অসুখ :
    1. রুবেলা বা জার্মান হাম :
      গর্ভাবস্তায় প্রথম তিন মাসের মধ্যে মা রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ ভ্রুণের ক্ষতি হয়। এ সময় শিশুর মস্তিষ্কসহ সকল ইন্দ্রিয় গঠিত হয় বলে এই ভাইরাসের আক্রমণে ত্রুটিযুক্ত ইন্দ্রিয় গঠিত হয়। হার্ডি (১৯৬৮) রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ১৯৯টি শিশুর মধ্যে গবেষণা করে দেখেন যে, ৫০% শিশুরই শ্রবণে সমস্যা, ২০% দৃষ্টির সমস্যা, ৩৫% হৃদরোগ দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত শিমুর কক্‌লিয়া নষ্ট হয়ে স্নায়ুবিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা হয়।
    2. সাইটোমেগালা ভাইরাস :
      গর্ভাবস্থায় সাইটোমেগালা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু রুবেলার তুলনায় শিশুর ক্ষতির পরিমাণ কম। গর্ভের যেকোন সময়ে এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে শিশুর ২৫-৫০% এর মধ্যে স্নায়ুবিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা লক্ষ করা যায় (প্যাটারসন ১৯৭৭)।
    3. ঔষধপত্র ও অ্যালকোহল :
      গর্ভাবস্থায় কোন কোন ঔষধ ভ্রুণের কানের গঠনগত ত্রুটির কারণ হিসাবে চিহ্নিত। যেমন- থ্যালাডোমাইড, কুইনাইন ইত্যাদি। অ্যালকোহল বা নেশাদ্রব্য সেবনের কারণে শিশুর শ্রবণ সমস্যা হতে পারে।
    4. রক্তের আর-এইচ উপাদানের জটিলতা :
      পিতা ও মাতার রক্তে আর-এইচ উপাদানের অসামঞ্জস্যতার জন্য ভ্রুণের রক্তে এন্টিবডির (বিলিরুবিন) উপস্থিতি শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বা অন্য কোন অসুবিধা ঘটায়। এরুপ ক্ষেত্রে প্রথম শিশুর তুলনায় পরবর্তী শিশু অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  3. জন্মকালীন জটিলতা :
    1. অপরিণত শিশু : গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই শিশুর জন্ম হলে এবং ওজন ৫ পাউন্ডের কম হলে, কম বয়সে বা ঘন ঘন সন্তান ধারণ করলে অথবা গর্ভকালে রক্তস্বল্পতা বা মারাত্মক পুষ্টির শিকার হলে সে শিশুর নানা জটিলতাসহ শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    2. জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট : শিশুর প্রসবের সময়কাল বেশি হলে, শিশুর গলায় জন্মনাড়ী পেঁচানোর কারণে বা শিশু জন্মের পর পর শ্বাস নিতে অক্ষম হওয়ার ফলে শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেনের স্বল্পতার জন্য মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণে শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হতে পারে।
    3. সংক্রমণ: প্রসবকালীন সময়ে শিশু যদি হার্পিস সিমপ্লেক্স দ্বারা সংক্রমিত হয় তবে শিশুর শ্রবণ সমস্যা হতে পারে।
  4. শৈশবকালীন অসুখ : অতি শৈশবে বা কিশোর বয়সের এমন অনেক অসুখ রয়েছে যার সাথে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার সম্পর্ক রয়েছে। যথা-
    1. ভাইরাস সংক্রমণ : শিশু মাম্পস, হাম, মেনিনজাইটিস ইত্যাদির জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হলে শ্রবণে সমস্যা হতে পারে।
    2. কান-পাকা রোগ (Otitis media) : শিশুদের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার অন্যতম কারণ হচ্ছে কান পাকা রোগ। কোন কারণে মধ্যকর্ণে সংক্রমণ হলে পুঁজ হয়, ব্যথা হয়, কান বন্ধ বলে মনে হয়। এটাই কান-পাকা রোগ। এ রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ জমে বা অস্থির ক্ষয়জনিত কারণে শব্দ তরঙ্গ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    3. গ. জমাট অস্থি (Otosclerosis) : মধ্যকর্ণের আরও একটি রোগ হচ্ছে জমাট অস্থি। এই রোগে মধ্যকর্ণের হাড়গুলির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। হাড়ের সংযোগস্থলে ক্যালসিয়াম জমে বা হাড় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এ সমস্যা দেখা দেয়। আর এই বৃদ্ধি স্বাভাবিক শব্দ তরঙ্গ প্রবাহে বাধা দেয়।
  5. শব্দ দূষণ (Sound truma) : ক্রমাগত উচ্চশব্দ কানের শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট করে। ৭০ ডেসিবলের চেয়ে উচ্চ শব্দের মধ্যে প্রতিদিন আট ঘণ্টার বেশি সময় কানের কোন প্রকার প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা ছাড়া কাজ করলে শ্রবণ ক্ষমতার ক্ষতি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ওয়াকম্যান ব্যবহার ও উচ্চ তীব্রতায় গান-বাজনা শোনার অভ্যাস থেকেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কানের কাছে প্রচণ্ড শব্দ হলে অনেক সময় কানের পর্দা ফেটে যায় বা শ্রবণ ক্ষমতা লোপ পায়।
  6. নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ (Cousin Marrige) : নিকট আত্মীয় যথা- খালাতো-মামাতো-চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ হলে সেক্ষেত্রে শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হতে পারে।

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ

সময়মত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা সাবধানতা অবলম্বন করলে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এড়ানো সম্ভব। নিম্নে সম্ভাব্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ আলোচনা করা হলো-

  1. ঘনিষ্ট রক্ত সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করতে পারলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের হার কমবে।
  2. বংশে শ্রবণ প্রতিবন্ধতার ইতিহাস থাকলে জেনেটিক পরামর্শ গ্রহণপূর্বক সন্তান গ্রহণ করতে হবে।
  3. গর্ভবতী মাকে পুষ্টিকর খাবার ও আয়োডিনযুক্ত লবণ দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন রকম ঔষধ সেবন করা ঠিক নয়। সন্তান ধারণের রুবেলা বা জার্মান হামের টিকা গ্রহণ করতে হবে।
  4. পিতামাতার রক্তে আর-এইচ উপাদানের অসামঞ্জস্যতা থাকলে গর্ভ ধারণের পূর্বেই পরীক্ষা করে সে মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।
  5. গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্লিনিক বা হাসপাতালে সন্তান প্রসব করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  6. শিশু অবস্থায় ক্ষতিকর ঔষধ না দেয়া।
  7. কানে কোন ধরনের সংক্রমণ না ঘটে তার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। কানে কোন প্রকার সংক্রমণ হলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  8. মাথায় বা কানে আঘাত লাগলে সাথে সাথে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। মারাত্মক আঘাতের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  9. উচ্চ শব্দযুক্ত স্থানে কাজের ক্ষেত্রে কানের প্রতিরোধমূলাক ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুদের দীর্ঘসময় ওযাকম্যান ব্যবহার এবং উচ্চ শব্দে গান শোনা থেকে বিরত রাখতে হবে।
  10. কোন শক্ত কাঠি যথা- দেয়াশলাইয়ের কাঠি, চুলের ক্লিপ, পেন্সিল ইত্যাদি দিয়ে কান খোঁচানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

শ্রবণ সমস্যা শনাক্তকরণ

কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে শিশুর শ্রবণ সমস্যা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। বর্তমানে জন্মের পর থেকে দুই-এক বছরের মধ্যেই গুরুতর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা চিহ্নিত করা যায়। তবে আংশিক শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা চিহ্নিত করা খুবসহজ নয়। শিশুর মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা গেলে শ্রবণে সমস্যা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যায়। অডিওমিটার যন্ত্রের মাধ্যমে শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা (Audiological Test) করা হলে চূড়ান্তভাবে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা চিহ্নিত করা যায়। কোন শিশুর নিম্নে বর্ণিত সমস্যা থাকলে শ্রবণে প্রতিবন্ধিতা আছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যেতে পারে-

  1. কানের গঠনগত ত্রুটি বা বিকৃতি থাকলে, কান-পাকা রোগ ইত্যাদি সমস্যা থাকা।
  2. উচ্চারণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা বা ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণের অসুবিধা বা উচ্চারণ এড়িয়ে যাওয়া।
  3. শ্রেণি কার্যক্রমে অমনযোগিতা, শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠ গ্রহণে সমস্যা হলে।
  4. কিছু শোনার সময় একটি কান বক্তার ‍দিকে বাড়িয়ে দেযা বা কানে হাত দিয়ে শোনার চেষ্টা করা।
  5. রেডিও, টিভি শোনার সময় অতি উঁচু ভলিউমে শোনা বা কাছে গিয়ে বসা।
  6. কোন প্রশ্ন বারবার করা বা এক প্রশ্নের অন্য উত্তর দেয়া।
  7. পিছন থেকে বা পাশের রুম থেকে ডাকলে সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়া।
  8. জন্মের পর থেকে কথা না বলে হাত এবং মুখ ভঙ্গিমার মাধ্যমে ভাব বিনিময় করা।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার ইতিহাস

ষোড়ষ শতাব্দীতে গিরোলামে কারডানো (১৫০১-১৫৭৬) নামক একজন ইটালিয় গণিতবিদ ও চিকিৎসক প্রথম তাত্ত্বিকভাবে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেন। এরপর পেড্রো পন্‌স ডি লিওন (১৫২০-১৫৮৪) স্পেনে প্রথম শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল স্থাপন করেন এবং তিনিই প্রথম শিক্ষক ছিলেন। জুয়ান পাবলো বোনেট ১৫৫০ সালের দিকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের মৌখিক কথার সঙ্গে আঙ্গুলের বানান পদ্ধতির মাধ্যমে ভাব বিনিময় পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। জার্মানীর সামুয়্যেল হেইনিকি (১৭২৯-১৭৮৪) স্বাভাবিক সংকেত ও আঙ্গুলের সাহায্যে অক্ষর তৈরির মাধ্যমে ভাব বিনিময়ের পদ্ধতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আমেরিকার থমাস হপকিনস্‌ গেলোডেট (১৭৮৭-১৮৫১) শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার ইতিহাসে যুগান্তর সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, অঙ্গভঙ্গী এবং আঙ্গুলের বানান এর সহায়তায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা দেয়া যায় এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে ভাব বিনিময় করার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। বুলওয়ের নামক একজন ইংরেজ দার্শনিক ঠোঁটের নড়াচড়া অনুকরণ করে কথা বলা ও বুঝার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

তার চিন্তাধারাকে বাস্তবায়িত করেন উইলিয়াম হোল্ডার (১৬১৬-১৬৯৮) ও জন ওয়েলিস (১৬১৮-১৭০৩)। আমেরিকার বিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার গ্রাহামবেল (১৮৪৭-১৯২২) প্রমাণ করেন যে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শ্রবণ যন্ত্র দিয়ে অবশিষ্ট শ্রবণ ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষাদান করা সম্ভব। ১৭৬৭ সালে থমাস ব্রেইডউড এডিনবার্গে প্রথম শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের একটি পুর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮১৭ সালে আমেরিকার হার্টফোর্ডে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরের প্রথম আবাসিক বিদ্যালয় (American Asylum for the Education and Instruction of the Deaf) প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে গোয়াতে ১৫৮৯ সালে বা তৎপূর্বে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের পুনর্বাসনে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (গ্রেসিয়াস ১৯৯৪)। কলকাতায় প্রথম শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অনুমান করা হয়। তবে ১৮৮৪ সালে বোম্বাইতে বিশপ মিউরন কর্তৃক ‘দি বোম্বাই ইনস্টিটিউট ফর ডেফ-মিউট’ নামে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বীকৃত প্রথম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শ্রবণ সমস্যা দূর করার জন্য সহায়ক উপকরণ

শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শ্রবণ সমস্যা দূর করার জন্য শ্রবণ যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। এটি একটি ইলেকট্রিনিক যন্ত্র যা শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর কানে সংযোজন করা হলে শিশুর শ্রবণ ক্ষমতার ঘাটতি পূরণ হয় এবং শিশু প্রয়োজনীয় মাত্রায় শুনতে পায়। অডিওডিমটার যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা নির্ণয় করে উপযুক্ত শ্রবণ যন্ত্র শিশুকে দেয়া প্রয়োজন।

অতি শৈশবে শ্রবণ যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে শিশুদের শ্রবণ প্রশিক্ষণ ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে শিশু কথা শোনার ও বলার দক্ষতা অর্জন করে। তাই শ্রবণ যন্ত্রের সুফল পেতে আমাদের কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন- শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থা, শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা, কত বছর যাবৎ এই সমস্যায় ভুগছে ইত্যাদি।

শ্রবণ যন্ত্র ব্যবহারের সঠিক নিয়ম মেনে চললে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করে অনেক শিশু শ্রবণ সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারে এবং স্বাভাবিক কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে পারে। যদিও শ্রবণ যন্ত্র শিক্ষার উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা হয় তবুও শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার তীব্রতা বা ধরনের জন্য এর দ্বারা সকল শিশু উপকৃত না-ও হতে পারে। সাধারণভাবে শ্রবণ যন্ত্র শব্দের তীব্রতা বৃদ্ধি করে, কিন্তু শব্দের গুণগত মান উন্নয়ন করে না। অর্থাৎ কোন শিশুর শ্রবণ যদি বিকৃত হয় তবে সে ক্ষেত্রে শ্রবণ যন্ত্রের বিকৃত শব্দের তীব্রতা বৃদ্ধি করবে।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন

১। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আলোচনা কর। মায়ের অপুষ্টিতে সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে?
২। গর্ভকালীন সময়ে কয়েকটি পরীক্ষা বর্ণনা কর।
৩। গর্ভকালীন “ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা” ও কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়- বুঝিয়ে লিখ।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

১। সন্তানের প্রসবকাল কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? প্রসবকালীন স্তর, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে লিখ।
২। প্রসব কয় প্রকারের হয়? প্রত্যেক প্রকার প্রসবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।
৩। প্রসবকালীন জটিলতার মধ্যে মস্তিস্কের আঘাত কেন সবচেয়ে ক্ষতিকর? কিভাবে ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়া যায়?
৪। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কি কি বিষয় জানা আবশ্যক, আলোচনা কর।

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা

১। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত তা আলোচনা কর?
২। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আলোচনা কর।
৩। নবজাত শিশুর কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলে ধর। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবে?
৪। অপরিণত শিশু কাকে বলে? অপরিণত শিশুর কয়েকটি সমস্যার উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।
৫। APGAR-স্কোর সম্পর্কে আলোচনা কর। এর গুরুত্ব কি?

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা বিস্তারিত এখানে পড়ুন

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

শিশু জন্মের পর তার কি ধরনের পরিচর্যা করতে হয়? এ ব‌্যাপারে আমরা অনেকেই জানিনা। শিশু জন্মের পর তার সঠিক পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ‌্যের যত্ন, শিশুর কাপড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, শিশুর ঘুমানোর নিয়ম, শিশুর মলত‌্যাগ করার নিয়ম, শিশুর দাঁত পরিষ্কার করা ইত‌্যাদি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই সচেতন মা-বাবা হিসেবে প্রত‌্যেক পিতা-মাতার শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ। নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? নবজাতকের খাবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

অটিজম শিশুদের অন্যতম বিকাশমূলক বৈকল্য। শিশুদের আচরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হয়। মনোচিকিৎসক লিও কে'কনার এ সমস্যাকে সর্বপ্রথম ১৯৪৩ সালে আলাদা একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং অটিজম নামে অভিহিত করেন। Autism শব্দটি গ্রীক Autos শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ব্যাক্তিদের প্রতি এসব শিশুদের আগ্রহের অভাবের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন।

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

চেখের গঠন বা কার্যকারিতার ত্রুটির কারণে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতার সে পরিমাণ ক্ষতিকে বুঝায় যেক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না (ব্যারাগা ১৯৮৩)।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে