শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি?

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

১. স্নায়ুবিক ক্ষতি (Neurological Impairment) জনিত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা : মস্তিষ্ক বা স্নায়ুরজ্জুর কোন প্রকার ক্ষতির জন্য শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এ প্রকার ক্ষতি চিহ্নিত করা যায় না এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির অন্য প্রতিক্রিয়া হল মাংসপেশীর দুর্বলতা অথবা অবসতা। যেমন- সেরেব্রাল পলসি।

২. অস্থি-মাংসের ক্ষতি (Musculoskeletal Conditions) জনিত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা : হাত, পা, সন্ধি, মেরুদণ্ড ইত্যাদি অঙ্গের হাড় বা মাংসপেশী ক্ষতিগ্রস্থ।

৩. জন্মগত ত্রুটি (Congenital Malformation) জনিত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা : জন্মগতভাবে শরীরের যেকোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বিশেষ করে হাত বা পা অনুপস্থিত থাকতে পারে বা বিকৃত হতে পারে বা দুর্বল হতে পারে।

৪. দূর্ঘটনা (Accidents) জনিত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা : জন্মগতভাবে শরীরের যেকোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ সেরেব্রাল পলসি, স্পাইনা বিফিডা, পলিওমাইটিস, মাসকুলার ডেমট্রাফি, মৃগীরোগ, মেরুরজ্জুর ক্ষতি, জন্মগত শারীরিক ত্রুটি ইত্যাদি। এখানে প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা আলাদা করে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সেরেব্রাল পলসি (Cerebral Palsy)

সেরেব্রাল পলসি (Cerebral Palsy) হল মস্তিষ্কের ক্ষতির ফলে সঞ্চালন ক্ষমতার ত্রুটি। মস্তিষ্ক পরিণত হওয়ার পূর্বে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাংসপেশীর অবসতা, দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা বা অন্য কোন সঞ্চালনমূলক সমস্যার অবস্থাকে সেরেব্রাল পলসি বলে (ব্যাট'শ ও প্যারেট ১৯৮৬)।

সেরেব্রাল পলসির ক্ষেত্রে কারো শুধুমাত্র সঞ্চালন সমস্যা থাকে। কিন্তু অনেকের বুদ্ধিবৃত্তীয় সমস্যা, মৃগীরোগ বা আচরণগত সমস্যা থাকে। এটা কোন রোগ নয় কিংবা সংক্রমক নয়। এর ক্রমাবনতি হয় না কিংবা এর নিরাময়ও হয় না।

সেরেব্রাল পলসির শ্রেণিবিভাগ

সমস্যার ধরন (Clinical Classification) অনুযায়ী পলসি তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
১. স্পেসটিসিটি : মস্তিষ্কের মটর কর্টেক্স বা পিরামিডাল ট্র‌্যাক-এর ক্ষতির কারণে সমস্যা দেখা দেয় এবং মাংসপেশীর সমন্বয় সাধনের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে মাংসপেশী সম্প্রসারণ করতে গেলে দ্রুত তা অতিমাত্রায় সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে বাহুর কম্পন বা সমন্বয়হীন সঞ্চালন হয়। মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায় এবং বাহুর স্বাভাবিক সঞ্চালন কষ্টকর হয়ে যায়। একই ধরনের আরও একটি সমস্যা হল রিজিডিটি। এক্ষেত্রে বাহুর (limb) শিথিলতা আনয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

২. এথেটসিস : মস্তিষ্কের এক্সট্রা-পিরামিডল সিস্টেম এবং ব্যাসাল গ্যাংলিয়া ক্ষতির কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বাহুর অনৈচ্ছিক সঞ্চালন, ধীর সঞ্চালন কাঁপুনীযুক্ত সঞ্চালন প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। ঐচ্ছিকভাবে বাহু নাড়াচাড়া করতে গেলে এ সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু ঘুমের মধ্যে এ সমস্যা থাকে না।

৩. এটাক্সিয়া : মস্তিষ্কের সেরেবেলামের ক্ষতি হলে এ সমস্যা দেখা যায় এবং এক্ষেত্রে ভারসাম্যের সমস্যা হয়। এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশু মাতালের মত চলাচল করে এবং কথা জড়িয়ে যায়।

আক্রান্ত স্থানভিত্তিতে (topographical Classification) সেরেব্রাল পলসিকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. হেমিপ্লিজিয়া : শরীরের এক পাশ আক্রান্ত হয় এবং ৩৫-৪০ শতাংশ সেরেব্রাল পলসি শিশু এরুপ হয়।
২. কোয়াড্রপ্লেজিয় : সমগ্র শরীর তথা চারটি আক্রান্ত হয় এবং ১৫-২০ শতাংশ সেরেব্রাল পলসি শিশু এরূপ হয়।

৩. ডায়প্লেজিয় : এক্ষেত্রে চারটি বাহু আক্রান্ত হয়, তবে হাতের তুলনায় পাযুগল বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ১০-১২ শতাংশ সেরেব্রাল পলসি শিশু এরূপ হয়।
৪. প্যারাপ্লেজিয়া : শুধুমাত্র পাযুগল আক্রান্ত হয় এবং ১০-২০ শতাংশ সেরেব্রাল পলসি শিশু এরূপ হয়।

সেরেব্রাল পলসির বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

সেরেব্রাল পলসির ক্ষেত্রে সমস্যার মাত্রা কম বা বেশি হতে পারে। অনেকের সমস্যা এতটাই কম হয় যে, সামান্য সমন্বয় বা জড়তা দেখা দেয় মাত্র। অপরদিকে অনেকের সমস্যা এত বেশি হয় যে, তারা কোন শারীরিক কাজই করতে পারে না। বাহুর উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকার জন্য তাদের খাইয়ে পর্যন্ত দিতে হয়। তবে অধিকাংশ শিশু মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। অনেক সেরেব্রাল পলসি শিশুর আনুষঙ্গিক সমস্যা থাকে। যেমন- কথা বলার সমস্যা। উচ্চারণের সমস্যা বেশি থাকলে তারা প্রয়োজনীয় ভাববিনিময়ও করতে পারে না। এছাড়া অনেক শিশুর ইন্দ্রিয় সমস্যা, প্রত্যক্ষণে সমস্যা, মৃগীরোগ বা শিক্ষণ অক্ষমতা থাকে। সেরেব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুর বুদ্ধি পরিমাপ করা কঠিন, বিশেষকরে গরুতর মাত্রায় আক্রান্ত সেরেব্রাল পলসি শিশুদের বুদ্ধি সাধারণভাবে অনুমান করা হয় যে, গড় বুদ্ধিমত্তা ১০০ বুদ্ধাংকের নীচে হয়ে থাকে। প্রায় অর্ধেক সেরেব্রাল পলসি শিশু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয় এবং অনেকের বুদ্ধাংক গড় মাত্রার বেশি হয়ে থাকে।

সেরেব্রাল পলসির হার :
বিভিন্ন জরিপে সেরেব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুর হারের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তবে ক্লার্ক (১৯৭২) গবেষণাসমূহ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধন্ত আসেন যে, প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে এক বা দুজন শিশু সেরেব্রাল পলসিতে আক্রান্ত হয়।

সেরেব্রাল পলসির কারণ :
জন্মপূর্ব কালে মায়ের সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী কোন রোগ, শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা এক্সরে দ্বারা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। জন্মকালে প্রসব প্রক্রিয়া জটিল হলে শিশুর মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অপরিণত শিশুর জন্ম হওয়া, জন্মের সময় অক্সিজেনের অভাব হওয়া, উচ্চ মাত্রার জ্বর, কোন প্রকার সংক্রমণ যেমন- মেনিনজাইটিস ও এনসেফালিটিস, বিষক্রিয়া, মস্তিষ্কের রক্তপাত বা অনুরূপ কোন কারণে শিশুর মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া নিকট আত্নীয়ের মধ্যে বিবাহ, রক্তের আর-এইচ ফ্যাক্টরের অসামঞ্জস্যতা এবং খুব কম ক্ষেত্রে জিনের প্রভাবে সেরেব্রাল পলসি হতে পারে। সাধারণভাবে ৬০% ক্ষেত্রে সেরেব্রাল পলসির কারণ জানা যায়।

সেরেব্রাল পলসি প্রতিরোধ :
মায়ের সংক্রমণজনিত রোগ প্রতিরোধ করা, গর্ভকালীন সময়ে প্রসবকালীন সময় উপযুক্ত স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করা, নিকট আত্নীয়ের মধ্যে বিবাহ পরিহার করা, রক্তের আর-এইচ ফ্যাক্টরের অসামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সেরেব্রাল পলসি শিশু জন্ম প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।

সেরেব্রাল পলসি শনাক্তকরণ :
জন্মের পর পর সেরেব্রাল পলসির উল্লেখযোগ্য লক্ষণ দেখা যায় না। জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর আকষ্মিক ঝাঁকুনী, ট্যারা দৃষ্টি, জন্ডিস ইত্যাদি কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে যা দেখে তার স্নায়ুবিক ত্রুটি অনুমান করা যায়। তবে চিকিৎসক কর্তৃক প্রতিক্রিয়া, মাংসপেশীর টান, সঞ্চালনের ধরন ইত্যাদি পরীক্ষা করে সেরেব্রাল পলসির প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বয়স-আনুপাতিক সঞ্চালন দক্ষতা তথা দক্ষতা ঘাড় নিয়ন্ত্রণ, বসা, হাঁটা ইত্যাদির বিকাশ না ঘটলে সেরেব্রাল পলসি হিসাবে অনুমান করা যেতে পারে। চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়।

সেরেব্রাল পলসির ব্যবস্থাপনা :
সেরেব্রাল পলসি বহুমুখি সমস্যা হওয়ায় এর ব্যবস্থাপনাও বহুমুখি হয়ে থাকে। ত্রুটিপূর্ণ লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিংবা অবনতি প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্র্যাস বা সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা হয়। সেরেব্রাল পলসি শিশুর সঞ্চারনমূলক সমস্যা দূর করার জন্য কিংবা সঞ্চালন ক্ষমতা উন্নয়নের জন্য ফিজিওথেরাপি প্রদান করা যেতে পারে। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট দৈনন্দিন কর্মকান্ড শেখানোর মাধ্যমে শিশুর দক্ষতা উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

যেসব শিশুর সমস্যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, তারা সাধারণ বিদ্যালয়ের মূল শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যাদের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি তাদের সাধারণ বিদ্যালয় বা বিশেষ বিদ্যালয়ে শারীরিক সমস্যার জন্য সহায়ক ব্যবস্থাসহ সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা দেয়া যায় বা বিশেষ শিক্ষা প্রদান করা যায়। যে সকল সেরেব্রাল পলসি শিশু কথা বলা শিখতে পারে না তাদের ভাববিনিময়ের উপায় কিসেবে বিকল্প বা দর্শনযোগ্য ভাববিনিময় কৌশল (Alternative and Augumentative Communucation-AAC) শেখানো হয়।

তবে প্রয়োজন মনে করলে বা সম্ভাবনা থাকলে পাশাপাশি মৌখিক ভাষায়ও শিক্ষা দেয়া যেতে পারে। বিকল্প বা দর্শনযোগ্য ভাববিনিময় কৌশল যন্ত্রনির্ভর যথা- কম্পিউটার বা অনুরূপ যন্ত্রাদি হতে পারে আবার অযান্ত্রিকও হতে পারে। এ পদ্ধতিতে দুইভাবে ভাব প্রকাশের ব্যবস্থা করা যায়ঃ

১. কোন উপায় সরাসরি চাহিদা করা (direct selection)। যেমন- কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ছবিযুক্ত কার্ড প্রদর্শন করা (Picture Exchange Communication System-PECS)। অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমান শিশুদের অঙ্গভঙ্গি বা ঈশারা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে শেখানো যেতে পারে। কোন বস্তু প্রদান করে সে সম্পর্কিত চাহিদা প্রকাশ করতে পারে।

২. ছবির মাধ্যমে নির্দেশিত বিষয় যে কোন উপায়ে শনাক্ত (scanning) করা। যেমন- বিভিন্ন বিষয়ে ছবি সম্বলিত বোর্ড (Communication Board) বা বই-এর নির্দিষ্ট ছবির প্রতি ইঙ্গিত করা কিংবা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করা। আঙ্গুলি বা চোখের দৃষ্টি দ্বারা এ ধরনের ইঙ্গিত প্রদান করতে পারে। প্রদর্শিত বিষয় বা বলা বিষয়ের প্রতি মাথা নেড়ে “হ্যাঁ” বা “না” প্রকাশ করতে পারে। উপস্থাপিত বস্তু দূরে সরিয়ে দিয়ে “না” প্রকাশ করতে পারে।

স্পাইনা বিফিডা (Spina Bifida)

মেরুদণ্ড ঠিকমত তৈরি না হওয়া স্পাইনা বিফিডা (Spina Bifida) রোগের প্রধান লক্ষণ। মেরুদণ্ডের পৃষ্ঠদেশে একটি গর্ত থাকে যেখানে দিয়ে মেরুরজ্জু বাইরে বেরিয়ে আসে। অনেক ক্ষেত্রে স্নায়ুবিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যায়। একই ধরনের গর্ত যদি মাথার খুলিতে দেখা দেয় তবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে।

স্পাইনা বিফিডার বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য
জন্মের পরপর সার্জিক্যাল অপারেশনের মাধ্যমে নিরাময় করা হলে শিশু ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। অন্যথায় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রমণ হয়ে কিংবা হাইড্রোসেফালি হয়ে অনেক শিশু অল্প বয়সে মারা যায়।

স্পাইনা বিফিডার হার
প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ২/৩ জন শিশু এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।

স্পাইনা বিফিডার কারণ
স্পাইনা বিফিডার প্রকৃত কারণ সঠিকভাবে জানা যায় না। জিনগত ও পারিপার্শ্বিক উভয় প্রভাবকে দায়ী করা হলেও জিনগত কারণের পক্ষে বেশি প্রমাণ পাওয়া যায় (এন্ডাসন ও স্পেইন ১৯৭৭)।

স্পাইনা বিফিডার ব্যবস্থাপনা
যেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে নিরাময় করার সুযোগ আছে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা করা যেতে পারে। যেমন- হাইড্রোসেফালির ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল অপারেশন করে ক্ষতিকর পরিণতির প্রতিরোধ করা যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকলে সহায়ক উপকরণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ব্র‌্যাস, হুইল চেয়ার, ক্র‌্যাচ এবং অন্যান্য সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। শারীরিক সমস্যার জন্য সহায়ক ব্যবস্থাসহ সাধারণ বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা দেয়া যায়।

পলিওমাইটিস (poliomyelitis)

ভাইরাস সংক্রমণে মেরুরজ্জুর সঞ্চালন কোষসমূহ ক্ষতি হওয়ার ফলে মাংসপেশীর সাময়িক বা স্থায়ী অবসতা (paralysis) হল পলিওমাইটিস (poliomyelitis) নামক রোগ।

পলিওমাইটিসের বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য
স্নায়ুরজ্জুর কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে তার উপর কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নির্ভর করে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরের নিম্নাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পলিওমাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের পরিণতি সম্পর্কে শেরিল (১৯৬৭) নিম্নরূপ তথ্য দিয়েছেন-
১. প্রায় ৬ শতাংশ শিশু মারা যায়।
২. প্রায় ১৪ শতাংশ শিশুর গুরুতর অবসতা দেখা যায়।
৩. প্রায় ৩০ শতাংশ শিশুর মৃদু সমস্যা থাকে।
৪. প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু সম্পূর্ণ নিরাময় হয়।

পলিওমাইটিসের হার
এ রোগে আক্রান্ত শিশুর হার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। পলিওমাইটিস নির্মূল করার জন্য বিশ্বব্যাপি টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় পলিওমাইটিসমুক্ত হয়ে এসেছে। তবে ইতিপূর্বে পলিওমাইটিসজনিত বহুসংখ্যক শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশু সমাজে দেখা গেছে।

পলিওমাইটিসের কারণ
ভাইরাস সংক্রমণে পলিওমাইটিলিস নামক রোগ হয়ে থাকে।

পলিওমাইটিলিসের প্রতিরোধ
পলিওমাইটিলিস-এর বিরুদ্ধে টিকা গ্রহণ এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

পলিওমাইটিলিস শনাক্তকরণ
জ্বরের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে চিকিৎসামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায়। রোগের প্রথম অবস্থা থেকে শরীর অবশ হয়ে আসাও পলিওমাইটিলিস প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করার একটি উপায়।

পলিওমাইটিলিস ব্যবস্থাপনা
সহায়ক উপকরণ দিয়ে কিংবা অবশিষ্ট ক্ষমতা ব্যবহার করে কর্মে নিয়োজিত করা যায়। শারীরিক সমস্যার জন্য সহায়ক ব্যবস্থাপনা দিয়ে সাধারণ বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা দেয়া যায়।

মাসকুলার ডেসট্রফি (Muscular Dystrophy)

মাসকুলার ডেসট্রফি (Muscular Dystrophy) বলতে এমন কতকগুলি রোগকে বুঝায় যে ক্ষেত্রে মাংসপেশীসমূহ ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যায়। স্নায়ুবিক ক্ষতির কারণে এ সমস্যা দেখা দিলে তাকে এ্যাট্রফি বলে এবং স্নায়ুবিক ক্ষতি ছাড়া সমস্যা দেখা দিলে তাকে মায়োপ্যাথি বলে। মাসকুলার ডিসট্রফিকে আরো তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-

১. ডুসেন টাইপ মাসকুলার ডেসট্রফি : প্রথম তিন বছর বয়সের মধ্যে লক্ষণ হলেও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ পায় ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে। সাধারণত ছেলেদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
২. ফেসিওস্ক্যাপলার মাসকুলার ডেসট্রফি : সমস্যার শুরু হয় কৈশোর বয়সে, ছেলে ও মেয়েদের সমান অনুপাতে হয়। এক্ষেত্রে ঘাড় ও মুখমুন্ডল বেশি আক্রান্ত হয়।
৩. লিম্ব-গার্ডেল মাসকুলার ডেমট্রফি : ডুসেন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তবে ধীরগতিতে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রেও উভয় লিঙ্গের শিশুরা আক্রান্ত হয়। হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা ফুসফুসের সংক্রমণের ফলে ডুসেন-এর তুলনায় দেরীতে মৃত্যু ঘটে।

মাসকুলার ডেসট্রফি বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য
জন্মের সময় শিশুরা স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু ৪/৫ বছর বয়স থেকে তাদের এ সমস্যা শুরু হয়। চলাফেরা ধীরগতি ও জড়তা এ সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। শিশু হয়তো বিশেষ ধারায় হাঁটতে পারে, পেট বহির্মুখ হতে পারে এবং পৃষ্ঠদেশ বসে যেতে পারে। মাসকুলার ডেসট্রফির ক্ষেত্রে সমস্যা ক্রমান্বয়ে অবনতি হয়। হাত ও পায়ের আঙ্গুল সবশেষে আক্রান্ত হয়। সাধারণত শোয়ার পর পা গুটিয়ে নেয়া সমস্যা হয়। তারা সহজে পড়ে যায়, সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই অনেকে মারা যায়। মাসকুলার ডেসট্রফির প্রকৃত জৈবিক প্রক্রিয়া জানা যায় না। মাসকুলার ডেসট্রফি সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তির উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে না, তবে “ডুসেন” ধরনের শিশুদের অমৌখিক বুদ্ধি গড়ের তুলনায় কম হতে দেখা গেছে (ব্যাট'শ প্যারেট ১৯৮৬)।

মাসকুলার ড্রেসট্রফির কারণ
বংশগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। একই পরিবারের একাধিক সন্তান এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, পেট বহির্মুখি হতে পারে এবং পৃষ্ঠদেশ বসে যেতে পারে। মাসকুলার ডেসট্রফির ক্ষেত্রে সমস্যার ক্রমান্বয়ে অবনতি হয়। এসব লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

মাসকুলার ডেসট্রফির ব্যবস্থাপনা
এ রোগের কোন চিকিৎসা পদ্ধতি এ যাবৎ আবিষ্কার হয়নি। অনেক বিশেষজ্ঞ সমস্যার প্রথম থেকেই স্বয়ংক্রিয় হুইল চেয়ার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু অন্য বিশেষজ্ঞগণ যতদূর সম্ভব নিজ প্রচেষ্টায় চলাফেরা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন। শারীরিক কর্মকান্ড সচল রাখতে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি প্রদান ও ব্যায়াম অব্যাহত রাখা আবশ্যক। প্রয়োজনে অন্যান্য উপকরণ দেয়া যেতে পারে। বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকায় এসব শিশুদের লেখাপড়া সাধারণ নিয়মেই চলতে পারে।

মৃগীরোগ (Epilepsy)

খিঁচুনী ধরনের বিশেষ একটা রোগ হলে মৃগীরোগ (Epilepsy)। সাধারণ সিজার বা (seizure) বা মাংসপেশীর আকস্মিক সমন্বয়হীনতাসহ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হল মৃগী রোগ। কোন কারণে কোন ব্যক্তির জীবনে এক বা একাধিক বার সিজার হতে পারে। তবে তা যদি পুনঃপুন হয় এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ তরঙ্গ থাকে তবে তা মৃগীরোগ হিসেবে বিবেচিত হয় (ব্যাট'শ প্যারেট ১৯৮১)। অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে শিশু মাংসপেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু অন্য সময় তা স্বাভাবিক থাকে।

মৃগীরোগের শ্রেণিবিভাগ : মৃগীরোগের প্রকৃতি এক রকম নয়। তাই রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী মৃগীরোগ বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. গ্রান্ডমল মৃগীরোগ : এই ধরনের মৃগীরোগ বেশি দেখা যায়। এই ধরনের মৃগীরোগের লক্ষণকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা- (ক) টনিক পর্যায় : শিশু হঠাৎ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং মাটিতে পড়ে যায়। সাথে সাথে মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য এ অবস্থা থাকে।
(খ) ক্লোনিক পর্যায় : এ পর্যায়ে দ্রুত, তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনী হয়। এ অবস্থা কয়েক মিনিট চলতে পারে। এরপরে শিশু শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকতে পারে। ঘুম থেকে উঠার পর এই ঘটনার কোন কিছুই সে মনে করতে পারে না।

২. পেটিটমল মৃগীরোগ : এ ধরনের মৃগীরোগ কয়েক সেকেন্ডের জন্য চেতনা লোপ পেতে পারে। এ সময় চোখের পাতা পিট পিট করতে পারে বা হঠাৎ ঝাঁকুনী দিতে পারে কিংবা দেহভঙ্গিমার পরিবর্তনহেতু যে জিনিস নিয়ে কাজ করছিল তা পড়ে যেতে পারে। এ ধরনের মৃগীরোগ কম বিপজ্জনক।

৩. জ্যাকসোনিয়ান মৃগীরোগ : মাংসপেশীর খিঁচুনী বা ঝাঁকুনী শরীরের যেকোন অংশে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৪. সাইকোমোটর মৃগীরোগ: অনুভূতির ত্রুটি, বিড়বিড় করে অর্থহীন কথা বলা, অদ্ভুত আচরণ করা, দেখে মনে যেন কোন ঘোরের মধ্যে আছে। কিংবা আক্রমণাত্নক আচরণ এমন কি কোন অপরাধ কর্ম করাও এই ধরনের মৃগীরোগের লক্ষণ।

মৃগীরোগের বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য
উপযুক্ত চিকিৎসা দ্বারা মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তা প্রতিবন্ধিতা হিসেবে চিহ্নিত হয় না। ফলে অধিকাংশ মৃগীরোগ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। কিন্তু মৃগীরোগের প্রকোপ যদি চলতেই থাকে তখন তা প্রতিবন্ধিমূলক রোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মৃগীরোগে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুর বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকে। গুরুতর মৃগীরোগের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঔষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও পুনঃপুন সিজার হওয়ার পরে শিশুর আচরণ ও শিক্ষণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুর ‍শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু যখন কৈশোরে উপনীত হয় তখন এই রোগ ভাল হয়ে যায়। মস্তিষ্কের ত্রুটির কারণে এই রোগ হয় বলে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে ৩-৪ গুণ বেশি মৃগীরোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায় (বোসেস ও গিবস ১০৭২) এবং গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের এক- তৃতীয়াংশের বেশি শিশুর মধ্যে মৃগীরোগ দেখা যায় (ইলংসওর্থ ১৯৫৯)। জীবনের যেকোন সময় মৃগীরোগ শুরু হতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈশবে রোগের সূত্রপাত ঘটে।

মৃগীরোগের হার
প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে পাঁচজন এই রোগে আক্রান্ত হয় (টেলফোর্ড ও স'রে ১৯৭২)। এ রোগ মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। একইভাবে বড়দের তুলনায় শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

মৃগীরোগের কারণ
মৃগীরোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে মস্তিষ্কের কোন ত্রুটি থেকে মৃগীরোগ হয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মস্তিষ্কের ক্ষতি কিংবা মস্তিষ্কের ক্রিয়ার ত্রুটি উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক প্রবাহে ত্রুটি থেকে মৃগীরোগের প্রকাশ হয়। মাথায় আঘাত পাওয়া, টিউমার হওয়া, প্রচন্ড জ্বর সৃষ্টিকারী কোন রোগ ইত্যাদির প্রভাবে এ সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না (জাকারিয়াসেন ১৯৭৯)।

মৃগীরোগের প্রতিরোধ
মৃগীরোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না থাকায় তাদের প্রতিরোধের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ নেয়া যায় না। তবে মস্তিষ্কে কোন প্রকারে আঘাত লাগা প্রতিরোধ করা কিংবা মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ যেমন- টিউমারের উপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া হলে মৃগীরোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়।

মৃগীরোগ শনাক্তকরণ
খিঁচুনীর লক্ষণ দেখে মৃগীরোগ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। তবে ইইজি পরীক্ষার মাধ্যমে মৃগীরোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়। এতে রোগ নিরাময় কিংবা নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হয়।

মৃগীরোগের ব্যবস্থাপনা
মৃগীরোগের একমাত্র ব্যবস্থাপনা হল সুচিকিৎসা প্রদান করা। আর এজন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ঔষধের দ্বারা চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এছাড়া সিজার আক্রমণের সময় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে শিশুকে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করতে হয় যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। কুসংস্কারমুক্ত হয়ে শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করাও জরুরী। বিশেষ কোন সমস্যা না হলে তাদের সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষাদান করা যায়। আনুষঙ্গিক প্রতিবন্ধিতা থাকলে কিংবা শিক্ষণ ও আচরণগত গুরুতর সীমাবদ্ধতা থাকলে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মেরুরজ্জুর ক্ষতি (Spinal Cord Injury)

মেরুদণ্ডের মধ্যে অবস্থিত মেরুরজ্জু কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে শরীরের নিম্নাংশের সঞ্চালনমূলক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ অবস্থাকে মেরুরজ্জুর ক্ষতি (Spinal Cord Injury) বলে। অর্থাৎ আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের মাংসপেশী সঞ্চালনে অক্ষমতা (paralysis) এবং সংবেদনহীনতা দেখা দিতে পারে।

মেরুরজ্জুর শ্রেণিবিভাগ
মেরুরজ্জুর ক্ষতির ফলে শরীরের কোন কোন অংশের কার্যকলাপ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তার উপর নির্ভর করে মেরুরজ্জুর ক্ষতিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. প্যারাপ্লেজিয়া : শুধুমাত্র দু'পায়ের সঞ্চালন ক্ষমতা নষ্ট করা হয়।
২. কোয়াড্রপ্লেজিয়া : চারটি বাহু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে বক্ষদেশের মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও নষ্ট হয়।

মেরুরজ্জুর বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য
মেরুরজ্জুর স্থায়ী ক্ষতি হলে চলাচলে এবং দৈনন্দিন কর্মকান্ডে সমস্যা হয়। তবে এজন্য শিশুর বুদ্ধিবৃত্তির উপর কোন প্রভাব পড়ে না। আকস্মিক প্রতিবন্ধিতার জন্য অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

মেরুরজ্জুর ক্ষতির কারণ
কোন প্রকার দুর্ঘটনার কারণে মেরুরজ্জু আঘাতপ্রাপ্ত হলে মেরুরজ্জুর ক্ষতি হতে পারে।

মেরুরজ্জুর প্রতিরোধ
কোন প্রকারে মেরুরজ্জুর আঘাত লাগা প্রতিরোধ করা হলে মেরুরজ্জুর ক্ষতিজনিত প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

মেরুরজ্জু ক্ষতি শনাক্তকরণ
মেরুদণ্ডে কোনভাবে আঘাত লাগা শরীরের নিম্নাংশের অবসতা দেখা দিলে এ রোগ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মেরুরজ্জুর ব্যবস্থাপনা
সাধারণত ফিজিওথেরাপি দ্বারা মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। চলাচল ও দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ দিয়ে সাহায্য করা যায়। এছাড়া আকস্মিক প্রতিবন্ধিতার জন্য মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ দানেরও ব্যবস্থা করা আবশ্যক। বুদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় সহায়ক উপকরণ দিয়ে এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের সাধারণ বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষক্রম অনুসরণ করে শিক্ষাদান করা যায়।

জন্মগত শারীরিক ত্রুটি

জন্মগত কারণে শরীরের কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (Congenital Physical Malformation)। সেগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-
কাটা-তালু (Cleft Palate) : মুখের ভিতরের উপরের তালুর হাড় ও মাংসপেশী যথাযথভাবে গঠিত না হওয়ায় ফাঁকা অবস্থা সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিশুর খাদ্যগ্রহণ, কথা বলা এমনকি শোনার ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
কাটা-ঠোঁট (Cleft Lip) : উপরের ঠোঁট সঠিকভাবে গঠিত না হয়েও ফাঁকা অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে কথা বলা ও খাদ্য গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে সৌন্দর্যগত সমস্যা দেখা দেয়।

মুণ্ডর (Club Foot) : পায়ের গোড়ালী সঠিকভাবে গঠিত না হয়ে কোন একদিকে বেঁকে যেতে পারে। এতে শিশুর হাঁটাচলায় সমস্যা হয়।
হাত বা জন্মগত অনুপস্থিতি (Amputation) : জন্মগতভাবে কোন শিশুর হাত বা পা অনুপস্থিত থাকতে পারে।
বক্র শিরদাঁড়া (Scoliosis) : শিরদাঁড়া বিভিন্ন বাঁকাভাবে গঠিত হতে পারে। এতে শিশুর চলাচল বা শারীরিক কর্মকান্ডে সমস্যা হতে পারে।

মাংসপেশীর ত্রুটি (Arthrogryposis) : হাত বা পায়ের মাংসপেশী অনুপস্থিত থাকতে পারে, আকারে ছোট হতে পারে কিংবা দুর্বল হতে পারে।
ভঙ্গুর অস্থি (Ostegenesis Imperfecta) : শিশুর শরীরের অস্থি অতিমাত্রায় ভঙ্গুর হতে পারে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় অস্থি ভেঙ্গে যায়। তবে বয়োবৃদ্ধির সাথে এ সমস্যা দূর হয়। ঔষধ গ্রহণ যেমন-থ্যালোডোমাইড, রেডিয়েশন, এলকোহল বা নেশাদ্রব্য গ্রহণ। কোন প্রকার সংক্রমণ যেমন- রুবেলা বা জার্মান হাম ইত্যাদি কারণে জন্মগত শারীরিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

অনেক ধরনের জন্মগত শারীরিক ত্রুটি সার্জিক্যাল অপারেশনের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। যেমন- কাটা-তালু, কাটা-ঠোঁট, মুগুর-পা ইত্যাদি। মুগুর-পায়ের ক্ষেত্রে ব্র্যাস ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে। বুদ্ধিমত্তার কোন সমস্যা না থাকলে এসব শিশু সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে পারে। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ বিদ্যালয় শিক্ষা দেয়া যায়।

দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানি
সড়ক দুর্ঘটনা, খেলার সময় দুর্ঘটনা, আগুনে পুড়ে কিংবা কোন রোগের কারণে শরীরের কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা কেটে বাদ দিতে হতে পারে (Amputation)। এতে শিশুর চলাচলসহ শারীরিক কর্মকান্ডে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। দুর্ঘটনাজনিত প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধিকতা কমানো যেতে পারে। প্রতিবন্ধিতার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে এরূপ শিশুদের জন্য সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুসরণে, সহায়ক উপকরণ দিয়ে কিংবা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার ইতিহাস

বিভিন্ন দেশে বহু পূর্বে চিকিৎসা সেবা হিসাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কর্যক্রম শুরু হলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন পঙ্গু হাসপাতাল ও সিআরপি নামক দুইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সূত্রপাত হয়। সাধারণ বুদ্ধিগত কোন সমস্যা না থাকায় কিছু কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধী অনেক পূর্ব থেকেই সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। অন্যথায় তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকেছে। বর্তমানে একীভূত শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সকল শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রথাগতভাবে কম গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের আলাদা বিদ্যালয় বা শ্রেণিতে বিশেষ শিক্ষাক্রম ও বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সকল মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ বিদ্যালয়ে একীভূত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা সাধারণ শিশুদের সাথে একই শ্রেণিতে শিক্ষা গ্রহণ করে, প্রয়োজনে বিশেষ সহায়ক শিক্ষক (resource teacher) শ্রেণিশিক্ষককে সাহায্য করে থাকেন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলাদা বিশেষ সহায়ক শ্রেনিকক্ষে (resource room) বিশেষ সহায়ক শিক্ষক শিক্ষাদান করে থাকেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের একীভূত শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য নির্দেশগুলো নিম্নরূপ-

সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষাত্রম ১. সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষাত্রম অনুসরণ করেই শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে।
২. তবে গুরুতর মাত্রার প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সীমিত শিক্ষাত্রম নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৩. ‍বিশেষ করে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ বা উৎপাদনমুখি কোন কাজ শেখানোর উদ্যেগ নেয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন

১। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আলোচনা কর। মায়ের অপুষ্টিতে সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে?
২। গর্ভকালীন সময়ে কয়েকটি পরীক্ষা বর্ণনা কর।
৩। গর্ভকালীন “ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা” ও কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়- বুঝিয়ে লিখ।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

১। সন্তানের প্রসবকাল কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? প্রসবকালীন স্তর, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে লিখ।
২। প্রসব কয় প্রকারের হয়? প্রত্যেক প্রকার প্রসবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।
৩। প্রসবকালীন জটিলতার মধ্যে মস্তিস্কের আঘাত কেন সবচেয়ে ক্ষতিকর? কিভাবে ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়া যায়?
৪। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কি কি বিষয় জানা আবশ্যক, আলোচনা কর।

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা

১। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত তা আলোচনা কর?
২। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আলোচনা কর।
৩। নবজাত শিশুর কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলে ধর। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবে?
৪। অপরিণত শিশু কাকে বলে? অপরিণত শিশুর কয়েকটি সমস্যার উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।
৫। APGAR-স্কোর সম্পর্কে আলোচনা কর। এর গুরুত্ব কি?

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা বিস্তারিত এখানে পড়ুন

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

শিশু জন্মের পর তার কি ধরনের পরিচর্যা করতে হয়? এ ব‌্যাপারে আমরা অনেকেই জানিনা। শিশু জন্মের পর তার সঠিক পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ‌্যের যত্ন, শিশুর কাপড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, শিশুর ঘুমানোর নিয়ম, শিশুর মলত‌্যাগ করার নিয়ম, শিশুর দাঁত পরিষ্কার করা ইত‌্যাদি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই সচেতন মা-বাবা হিসেবে প্রত‌্যেক পিতা-মাতার শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ। নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? নবজাতকের খাবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

অটিজম শিশুদের অন্যতম বিকাশমূলক বৈকল্য। শিশুদের আচরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হয়। মনোচিকিৎসক লিও কে'কনার এ সমস্যাকে সর্বপ্রথম ১৯৪৩ সালে আলাদা একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং অটিজম নামে অভিহিত করেন। Autism শব্দটি গ্রীক Autos শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ব্যাক্তিদের প্রতি এসব শিশুদের আগ্রহের অভাবের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন।

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

চেখের গঠন বা কার্যকারিতার ত্রুটির কারণে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতার সে পরিমাণ ক্ষতিকে বুঝায় যেক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না (ব্যারাগা ১৯৮৩)।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে