মিঠা পাট গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মিঠা পাট একটি বর্ষজীবী গাছ। পাতা দুই থেকে চার ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। চওড়াতে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা, আগার দিকটা বেশ সরু। মিঠা পাট গাছের বোঁটা দুই ইঞ্চি লম্বা হয়। এক জায়গায় দুইটি থেকে তিনটি ফুল ফোটে। মিঠা পাট ফুলের বোঁটাও ছোট। এই ফুলের পাঁপড়ি পীতবর্ণ।

মিঠা পাট গাছের ফল দুই ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ফলের গায়ে লোম রয়েছে এবং দশটি শিরা স্পষ্ট বোঝা যায়। জুলাই থেকে আগষ্ট মাসে এই গাছে ফুল ফোটে এবং সেপ্টেম্বর মাসে ফল থাকে।

মিষ্টি পাট গাছের ফল কাঁচা অবস্থায় দেখেতে সবুজ হয়। তবে পাকলে পাট গাছের ফল বাদামী রং হয়। পাট গাছের ফলের ভেতরে বীজকোষে বহু বীজ থাকে। আর বীজের রং কালো হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে প্রতি বছরই পাট চাষ হয়। পাটের আগে নাল্‌তে শব্দ ব‌্যবহার করা হয়। পাটের আগে নাল্‌তে শব্দটি ব‌্যবহারের অর্থ হলো, পাটের শুকনো পাতাকে নালতে বলে।

পাট গাছের ভেষজ চিকিৎসা

পাট গাছের বিভিন্ন নাম

বিভিন্ন ভাষায় পাট গাছের বিভিন্ন নাম রয়েছে। বাংলায় মিঠা পাট বা ঘি-নালতে পাট বলা হয়। তামিল ভাষায় পাট গাছের নাম- পোরাট্টি। সংস্কৃত ভাষায় পাট গাছের নাম নাদিকা বা সিংগিকা বলা হয়। তেলেগু ভাষায় পাট গাছের নাম হলো- পারিন্তাকুরা। হিন্দি ভাষায় পাট গাছের নাম- কোস্টা বা নারচা।

পাট গাছের প্রয়োগ ও হেকিমী চিকিৎসা

মানুষের শরীরে পাট গাছের হেকিমী চিকিৎসা করে বিভিন্ন রোগ নিরাময় করা হয়। নিচে বিভিন্ন রোগে পাট গাছের প্রয়োগ ও হেকিমী চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হলো-

রক্ত আমাশয় হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- পাট পাতা শুকনো এক গ্রাম আধা কাপ পানিতে ভিজিয়ে সেটা ছেঁকে খেলে আমাশয় সেরে যায়। এছাড়াও পাটের শুকনো পাতা গুঁড়ো দেড় গ্রাম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মলের বেগ অনেকটা কমে।

রক্ত আমাশয় প্রবল হলে পাটের শুকনো গুঁড়ো এক গ্রাম এবং সমপরিমাণ হলুদগুড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে ঠান্ডা পানির সঙ্গে খেলে আরাম হবে ইনশাআল্লাহ। এই পরিমাণ ওষুধ দিনে দুইবার করে খাওয়া দরকার। সাধারণভাবে আমাশয় সারতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে।

পেট খারাপ হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- পাটের বীজের গুঁড়ো দেড় থেকে দুই গ্রাম, মধু এক চামচ এবং আদার রস সিকি চামচ এই তিনটি একসঙ্গে মিশিয়ে সামান‌্য ঠান্ডা পানি মিশিয়ে খেলে পেট খারাপ ভালো হয়। প্রথমবার ওষুধ প্রয়োগ করে যদি তেমন সুফল না পাওয়া যায় তবে তিন ঘন্টা পরে একই পরিমাণ ওষুধ আবার প্রয়োগ করা দরকার। রোগীকে এর সঙ্গে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে দেড় চামচ খাবার লবণ, অর্ধেক পাতিলেবুর রস ও পনেরো থেকে ত্রিশ গ্রাম গুড় গুলিয়ে একটু একটু করে খাওয়াতে হবে।

মূত্রাশয়ের রোগ হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- বেশি প্রস্রাব করা। কোঁথ দিলে প্রস্রাবের সঙ্গে সাদা চুনগোলা পানির মতো ঘোলাটে প্রস্রাব হয়। প্রস্রাবের বেগ থাকলেও ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হয়। এই রকম অবস্থায় ৫০ মিলিমিটার গরম পানিতে দুই গ্রাম শুকনো পাটের পাতা ভিজিয়ে দশ থেকে বারো ঘন্টা পরে সেই পানি খেলে প্রস্রাবের রোগে উপকার পাওয়া যায়। তবে পানিটা খাবার আগে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে অবশ‌্যই ছেঁকে নিতে হবে।

পেটে যন্ত্রণা হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- পেটের যন্ত্রণায় শুকনো পাট পাতা দিয়ে চিকিৎসা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শুকনো পাটের পাতাকে পুড়িয়ে তার ছাই এক থেকে দেড় গ্রাম এবং মধু তিন চামচ মিশিয়ে চেটে চেটে খেলে পেটের যন্ত্রণা সেরে যায়।

অগ্নিমান্দ‌্য হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- অগ্নিমান্দ‌্য হলে পাট পাতার হেকিমী চিকিৎসা করা যায়। টাট্‌কা পাতার (কচি পাতা হলে ভালো হয়) রস ২০-২৫ মিলিলিটার আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে সামান‌্য গরম করে একবার সকালে এবং আর একবার বিকেলের দিকে খেলে উপকার হয়।

লিভারের দোষ হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- সন্ধ‌্যাবেলায় দুই গ্রাম পাটপাতা ৫০ মিলিলিটার গরম পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পরের দিন সকালে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে পানিটা ছেঁকে নিতে হবে। এরপর খালিপেটে খেলে মাত্র সাত দিনেই ফলটা বোঝা যাবে। রোগীর অবস্থা বুঝে সাত দিন খাবার পর আরও সাত দিন খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

পায়খানা অপরিষ্কার হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- পাট গাছের নাল্‌তে পাতা বা শুকনো পাতা গুঁড়ো দুই গ্রাম এবং সামান‌্য গরম পানি এক গ্লাস সকালে খালিপেটে খেলে পেট পরিষ্কার হয়।

অবিরাম জ্বর হলে পাট গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- গাছের টাট্‌কা পাতা ত্রিশ থেকে চল্লিশ গ্রাম ছোট আকারে কেটে একটি মাটির হাঁড়ি অথবা স্টিলের পাত্রে ১৭০ মিলিলিটার পানি দিয়ে তাতে কাটা পাটপাতা সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ করার সময় পাত্রের মুখ ঢেকে দিতে হবে। পানি ফুটে পঞ্চাশ থেকে চল্লিশ মিলিলিটার পরিমাণ হলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছেঁকে সবটুকু পানি রোগীকে একসঙ্গে খাওয়াতে হবে। সারা দিনে দুইবার করে মাত্র দুই থেকে তিন দিন খেলেই জ্বর কমে যাবে। যদি সম্পর্ণভাবে জ্বর না ছাড়ে তাহলে আরও দুই দিন একই নিয়মে ঔষধ খাওয়াতে হবে।

জবা ফুলের পরিচয় ও ঔষধি গুণগুণ

অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, অনিয়মিত মাসিক স্রাব, চোখ ওঠা, সর্দি ও কাশি, অতিরিক্ত প্রস্রাব, টাক-পোকার আক্রমণ, চুলের বৃদ্ধি, পাকা চুল কালো করতে ইত‌্যাদি বিভিন্ন সমস‌্যা হলে জবা ফুলের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বা হেকিমী চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

জবা ফুল দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

কালমেঘ এর পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মনভোলা রোগ, মস্তক এর রোগ, নাকের সমস‌্যা, চোখের সমস‌্যা, মুখমন্ডল এর সমস‌্যা, জিভ, পাকস্থলী, উদর গহ্বর, মুত্র, মল, শ্বাসযন্ত্র, প্রষ্ঠদেশ, হাত-পা, চর্ম ইত‌্যাদি রোগের জন‌্য কালমেঘ এর হেকিমী চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

কালমেঘ এর ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

অর্জুন গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মানসিক সমস‌্যা, মাথা, কান, নাক, মুখ, পাকস্থলী, মল, মূত্র, শ্বাসযন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ঘুম, পুরুষ জননেন্দ্রিয়, স্ত্রী জননেন্দ্রিয়, কাশি, রক্তপিণ্ড, রক্তরোধ, আঘাত, হাড় ভাঙ্গা ইত‌্যাদি বিভিন্ন সমস‌্যায় অর্জুন গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

অর্জুন গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

নিম গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মন ভোলা, মাথা ধরা, চোখের সমস‌্যা, কান, নাক, মুখমন্ডল, মুখগহ্বর, গলদেশ, পাকস্থলী, উদর, মল, স্ত্রী জননেন্দ্রিয়, প্রস্রাব, শ্বাসযন্ত্র, হাত-পা, ঘুম, জ্বর, চর্ম রোগ ইত‌্যাদি বিভিন্ন রোগ হলে নিম গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

নিম গাছ দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন