কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয়

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি বাঙালি মনীষার এক মহত্তম বিকাশ, বাঙালির সৃষ্টিশীলতার এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি মূলত কবি হলেও সমগ্র বাঙালি সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪২) ব্যতীত অন্য কেউ এমন গভীরভাবে আমাদেরকে উজ্জীবিত করতে পারেননি। তিনি স্বকীয় রাজনৈতিক না হয়েও রাজনীতিতেও তাঁর লেখনির স্পর্শে সুস্পষ্ট ছাপ রেখেছেন। ‍তিনি একাধারে ছিলেন কবি, গীতিকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। এ ছাড়াও সুরকার, স্বরলিপিকার, গায়ক, সংগীত-পরিচালক হিসেবে তিনি অনন্য কৃতিত্ব রেখেছেন। এতসব বিচিত্র ক্ষেত্রে তিনি সচ্ছলতা আর গতিশীল সৃষ্টিকর্ম করেছেন মাত্র ২২/২৩ বছরের (১৯১৯-১৯৪২) মধ্যে।

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কবিতায় আত্মকথনমূলক চিন্তার এবং অন্তরে লালিত অভীপ্সার প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে তাঁর মননশীল চিন্তার সাবলীল প্রকাশ ঘটেছে। বিদ্রোহী-কবি বলে কাজী নজরুল ইসলামের যে পরিচয় পাওয়া যায়, এতে তাঁর সর্বব্যাপক প্রতিভার প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর প্রতিভার বেশির ভাগ স্বচ্ছন্দ প্রয়োগ দেখা যায় বাংলা সাহিত্যের কবিতা ও সংগীতে। বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য অঙ্গনে-উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, পত্রাবলি এবং অভিভাষণ-প্রতিভাষণে।

বাংলা সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে তাঁর পারদর্শিতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর বিদ্যমান, প্রাণরসে পরিপূর্ণ। যেমন- প্রবন্ধসাহিত্য, কথাসাহিত্য (উপন্যাস, ছোটগল্প), অভিভাষণ, প্রতিভাষণ, নাটক, চিঠিপত্র, সংবাদপত্রের জগত বিশেষ করে সংগীতের জগতের কথা বলা যায়। নজরুল স্বীয় প্রতিভার আনন্দ-ধারায় বর্ণাঢ্য। মৌলিক কবি-প্রতিভার অধিকারী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ ‍ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষের জীবনাচরণে ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা, গান, সম্পাদকীয় প্রবন্ধ-নিবন্ধে।

আত্মকথন বলে স্বীকৃত হলেও ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ শীর্ষক প্রবন্ধে নজরুলের যে অভিলাষ প্রকাশিত হয়েছে তা সমকালকে অতিক্রম করে বর্তমানেও সমভাবে কার্যকর। আজও আমরা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ-সরকারের রেখে যাওয়া ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি অত্যন্ত সুকৌশলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রতিফলনের চিত্র দেখতে পাই।

নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা (১৯২২) কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। এ কাব্যগ্রন্থে তিনি গণমানুষের মুক্তি-উন্নতি-কল্যাণ কামনার সূত্র ধরে আর্থ-সামাজিক ও বাস্তবজীবনের নানা বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর কাব্যে সমাজের নানা অসংগতির কথা বলে সেগুলো শোধরানোর বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্ম,সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের বিষয়াদিসহ নানা বিষয়ে মতমত প্রকাশ করেছেন। এমনকি ধর্মীয় ভেদ-নীতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন।

কবি নজরুল ইসলামই সর্বপ্রথম তাঁর অর্ধ-সাপ্তাহিক “ধূমকেতু”র মাধ্যমে পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার কথা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছিলেন। সুতরাং সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক সমতা, সকল মানুষের মধ্যে সমান অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ জাগরণের জন্য নজরুল ইসলামের কবিতা আজও আমাদের জীবনে অতীব জরুরি।

নজরুল সাহিত্য বিকাশের পটভূমি

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন কাল ১৮৯৯ থেকে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। কিন্তু তিনি ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে দুরারোগ্য ব্যাধির আক্রমণে তাঁর কর্মজীবনের অবসান হয়। তাঁর সাহিত্যিক জীবনকাল মাত্র ২২/২৩ বছর। অর্থাৎ ১৯৯৯ থেকে ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর লেখালেখির সময়। এই বাইশ/তেইশ বছর সময়ের মধ্যেই তিনি আমাদের সাহিত্যের জন্য দান করেছেন বহু কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও অভিভাষণ-প্রতিভাষণ।

তিনি মূলত কবি। কিন্তু সাধারণভাবে অন্য কবিদের মতো তাঁর ভূমিকার প্রভাব কেবলই কাব্যক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে নজরুল এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। যতই দিন যাচ্ছে ততই আমাদের সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসাধারণ মূল্যবান বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিদ্রোহ ও বিপ্লবের অঙ্গীকার উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করে তিনি আমাদের সাহিত্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই অঙ্গীকারে তিনি এক স্বাধীন, স্বতন্ত্র, স্ব-নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনের পরতে পরতে তিনি তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন।

কাজী নজরুল ইসলাম প্রধানত কবি হওয়া সত্ত্বেও গীতিকার, গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধ-নিবন্ধে তাঁর অবদান স্বীকৃত। কয়েকটি রূপক নাটকের স্রষ্টাও তিনি। সাহিত্য জীবনের শুরু থেকেই তিনি একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন।

নজরুলের কবিতা ও গানে আর সব কবির মতো প্রেম আছে, প্রকৃতি আছে কিন্তু সব কিছুর উপরে আছে স্বদেশ, সমাজ ও মানবকল্যাণ। তাঁর হৃদয়াসনে সবার উপরে আছে মানুষ। কবিতা, গান, গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধ যা-ই লিখেছেন তিনি তার বেশির ভাগ লেখায় প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশ, সমাজ ও মানুষের মুক্তির উদ্দেশ্য। তিনি বরাবরেই একজন প্রথম শ্রেণীর সমাজ-সচেতন শিল্পী। এই ভারতবর্ষে কবি নজরুলের সামাজিক ভূমিকা অনন্যসাধারণ।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান কৃতিত্ব রবীন্দ্র-প্রভাবমুক্ত আধুনিক কবিতার বলয় সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথের (১৯৬১-১৯৪১) জীবনবোধ নজরুল শ্রদ্ধার সাথে এড়িয়ে গেলেন। অশান্ত উদ্ধত ও বিদ্রোহী যুগের ভাববাণী তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়ে উঠলো, রবীন্দ্রনাথের কোমল-ললিত-বাণী, রবীন্দ্রনাথের আভিজাত্য তাঁকে ধরে রাখতে পারলো না। তাঁর হাতের স্পর্শে বাংলা কবিতা নতুন রূপ পেল-রূপ পেল নতুন বৈশিষ্ট্য।

নজরুল ছিলেন পরাধীন ভারতের নাগরিক। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে তিনি সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেছিলেন পরাধীনতার বেদনা। আর পরাধীনতা তাঁকে নুইয়ে দেয়নি, বরং উদ্দীপ্ত করেছিল। উনিশ ও বিশ শতকে বাঙ্গলা ভাষায় স্বদেশপ্রেমিক বহু কবি, সাহিত্যিক ও চারণ কবির আবির্ভাব ঘটেছে। হেমচন্দ্র (১৮৩৮-১৯০৩) স্বাধীনতাপ্রীতির জন্য উনিশ শতকে জাতীয় কবির মর্যাদা লাভ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশপ্রেমের কবিতা ও গান এদেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। দ্বিজেন্দ্রলালের স্বদেশপ্রীতি যেমন প্রকাশ পেয়েছে নাটকে তেমনি তা প্রকাশ পেয়েছে কবিতায় ও গানে। কিন্তু তাঁদের স্বাধীনতাবোধ ছিল দ্বিধান্বিত এবং স্বদেশপ্রেম ছিল খণ্ডিত।

অনেকের কাছে ভারতে ইংরেজ শাসন ভগবানের আশীর্বাদস্বরূপ বিবেচিত হয়েছিল। বিশেষ করে হিন্দুরের কাছে। তাই পলাশীর প্রান্তরে সিরাজদ্দৌলার পতন (২৩শে জুন ১৭৫৭) জাতির জন্য যে দুর্ভাগ্য এটা বুঝতে তাঁদের বহু সময় লেগেছিল। ইংরেজ শাসনের অপকারিতা বুঝলেও তার বিরোধিতা করার মতো অবস্থা তখনও সৃষ্টি হয়নি।

বলতে গেলে উনিশ শতকে দীনবন্ধু মিত্রের “নীল-দর্পণ” (১৮৬০, ঢাকা) একমাত্র বলিষ্ঠ প্রতিবাদী সাহিত্য-কর্ম। সে সময়ের কবি-লেখকেরা ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। জীবিকার জন্য,ইংরেজ সরকারের উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় ছিল না। তাই তাঁরা স্পষ্টভাবে ইংরেজ সরকারের বিরোধিতা করতে পারেননি। ইংরেজ সরকারের প্রতাপ ও ক্ষমতা তাঁদের কছে ছিল স্থায়ী ব্যাপার।

তাকে উৎখাত করা যাবে, এ রকম কেউ ভাবতেও পারেননি। তাই ইংরেজ শাসনের অধীনে থেকে ভারতবাসী যতটুকু সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারে তা-ই ছিল সেদিনের রাজনৈতিক চিন্তার বৈশিষ্ট্য। নিয়মতান্ত্রিকতা রক্ষা করাই ছিল তাদের একটি প্রধান দায়িত্ব। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫), নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (১৯০৬), হিন্দু মহসভা (১৯১০), নিখিল ভারত খেলাফত কমিটি (১৯২০) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলো ইংরেজ সরকারের আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন।

ঐ সময়ের সাহিত্যকর্মী, আর রাজনৈতিক কর্মী, তাঁরা ছিলেন কম-বেশি সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। তাঁদের জাতীয়তা স্বধর্মপ্রীতির উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। এই সময়ের সব রকম সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে কোনো না কোনোভাবে ধর্মীয় প্রভাব তথা সাম্প্রদায়িক চেতনা প্রখর ছিল। স্বদেশপ্রেমের উদ্গতা বলে পরিচিত ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের (১৮৩৮-১৮৯৪) বাঙ্গালী জাতি বলতে তিনি হিন্দু বাঙ্গালীকে বুঝিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের কথা চিন্তা করেও সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমন্বয় সাধন করতে পারেন নি। কিন্তু এখানে নজরুল ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক জীবনে সর্বক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি তাঁর কবিতা, গান ও গদ্যরচনায় এ সবের মূল উৎপাটনের কথা বলেছিলেন।

ঐ সময়ের বিপ্লবী বলে কথিত অনুশীলন দল (যুগান্তর দল) (১৯০২) রাজনীতিতে নিয়মতান্ত্রিক পথ পরিহার করেছিলেন। তাঁরা ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং তা অর্জন করতে চেয়েছিলেন সংগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু তাঁদের ঐ আন্দোলন ছিল দেশের বৃহত্তর জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও আলাদা। সেইসব দেশপ্রেমিককে সেদিন দেশের বেশির ভাগ লোক শত্রু মনে করতো।

তাই তাঁদের প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছিল। তাছাড়া এইসব বিপ্লবীরা ছিলেন প্রবলভাবে ধর্মাসক্ত। ফলশ্রুতিতে সাম্প্রদায়িক উপমহাদেশের এই পরিবেশে নজরুলকে সাহিত্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজ করতে হয়েছিল। প্রথম থেকেই লক্ষ্য করা যায়, স্বাধীনতার প্রশ্নে নজরুল ইসলাম ছিলেন আপোষহীন চেতনার প্রতীক। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে আহমেদাবাদ কংগ্রেসে মওলানা হসরত মোহানীর পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গান্ধীজীর বিরোধিতায় পরিত্যক্ত হয়। এ প্রস্তাবের জন্য হসরত মোহানীকে কারাদ- ভোগ করতে হয়েছিল।

এসব জেনেশুনেও ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে নজরুল তাঁর অর্ধ-সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন- সর্বপ্রথম, ‘ধূমকেতু ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়।’দ্বিতীয় দফায় বললেন: ‘ধূমকেতু কোনো সাম্প্রদায়িক কাগজ নয়।’ মানুষ ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। কাজেই ভারতের রাজনৈতিক চেতনার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং খন্ডিত ভাবকেই তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেন। তিনি ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রবক্তা ছিলেন।

পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের জন্য জাতিকে তিনি বিপ্লব ও সংগ্রামের পথে আহ্বান করলেন। এই আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে তাঁর কবিতায়, গানে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, অভিভাষণে-প্রতিভাষণে এবং রূপক নাটকে। সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নজরুল বিশ্বাস করতেন বিপ্লব প্রয়োজন। এ প্রত্যয়ে তাঁর দ্বিধা ছিল না, সংকোচ ছিল না। এই একটি কারণেই তাঁর হৃদয়ের প্রীতি ও ভালোবাসা অনেক পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে সে যুগের বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যে। আজকের দিনের যে বারীন্দ্রকুমার ঘোষের নাম সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত, তাঁরই উদ্দেশ্যে নজরুল উৎসর্গ করেছেন তাঁর বিখ্যাত অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থটি।

কারণ বারীণ ঘোষ ছিলেন সে যুগের বিপ্লব-প্রচেষ্টার একজন অন্যতম নায়ক। এই জন্যই তিনি স্মরণ করেছেন যতীন দাস, বাঘা যতীন, পূর্ণচন্দ্র দাস ও ক্ষদিরামকে। কাজী নজরুল ইসলাম এই উপমহাদেশের প্রথম হিন্দু-মুসলিম মিলিত জাতীয়তাবোধের সাহিত্যিক। জাতীয়তাবোধের সঙ্গে ঐতিহ্যচেতনার যোগ অবিচ্ছেদ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি মানবগোষ্ঠী একই ঐতিহ্যচেতনায় উদ্দীপ্ত হতে না পারে ততক্ষণ তাদের মধ্যে ঐক্যবোধ আসে না।

এই চেতনার সমন্বয় ও ঐক্যবোধ বাংলা কাব্যে নজরুল ইসলামের পূর্বে কেউ সার্থকভাবে প্রকাশ করতে পারেননি। নজরুল জাতির পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক সব রকম ঐতিহ্যবোধকে একসূত্রে বাঁধতে পেরেছিলেন। তাঁর চেতনার মধ্যে দুটি ধর্মীয় (হিন্দু-মুসলমান) সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন এক হয়ে উঠেছিল। নজরুলের সমাজচিন্তায় ও রাজনৈতিক চেতনায় শৃঙ্খলার অভাব থাকলেও একনিষ্ঠ সততা ও আন্তরিকতার অভাব ছিল না। তাঁর কবিতার বিষয় পৌরাণিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, ধর্মীয় যাই হোক না কেন, তাতে তিনি সঞ্চার করেছেন বিদ্রোহের আবেগ, স্বাধীনতার কামনা এবং সাম্যের আকুতি।

তাই হযরত মোহাম্মদ (সঃ), উমর ফারুক, খালেদ, কামাল পাশা প্রভৃতি কবিতা ভাবের দিক থেকে সার্বজনীন হয়ে উঠেছে। শ্রীকৃষ্ণকে তিনি সৃষ্টি করেছেন অত্যাচারী কংসের বিরুদ্ধে এক সংগ্রামী নায়করূপে। কোরবানী, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, মোহরর্‌ম-ধর্মীয় সম্প্রদায় বিশেষের ধর্মানুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব হলেও স্বাধীনতা সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষার পরিপোষক হয়ে দেখা দেয় তাঁর সাহিত্যে।

তাই তাঁর ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা ইংরেজ সরকারকে আতংকিত করেছিল। এর জন্য নজরুলকে দেয়া হয়েছিল কারাদ-। নজরুলের সাহিত্য সাধনার মূলে প্রেরণা জুগিয়েছে মানপ্রেম, স্বদেশপ্রীতি, সাম্যবাদ এবং সমাজ বিপ্লবের অদম্য আকাঙ্ক্ষা। ইংরেজ কবি শেলী, আমেরিকান কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান, রুশ সাহিত্যিক ম্যাকসিম গোর্কির মতো নজরুল কামনা করেছিলেন নতুন জগৎ ও শাসন-শোষণমুক্ত এবং পরাধীনতা ও অত্যাচার থেকে গণমানুষের মুক্তি। আমাদের সমাজ ও সাহিত্যের ইতিহাসে নজরুলের এই অবদান অবিস্মরণীয় এবং অতুলনীয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এক নজরে জীবনপঞ্জি

১৮৯৯: জন্ম, ২৪ মে। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ। বর্তমানে ১১ই জ্যৈষ্ঠ জন্মদিন হিসেবে ধরে নজরুল জন্মবার্ষিকী পালিত হয়ে থাকে। পিতা ফকির আহমদ, মা জাহেদা খাতুন।
১৯০৩: গ্রামের মক্তবে লেখাপড়া শুরু করেছেন।
১৯০৮: ৮ এপ্রিল, পিতা ফকির আহমদ মুত্যুবরণ করেন।

১৯০৯: নিম্নমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
১৯১০: মসজিদের খাদেমগিরি, লেটোদলে যুক্ত হন।
১৯১১: বর্ধমানের মাথরুন নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউশনে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯১২: গার্ডের বাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। রুটির দোকানে চাকরি করেন।

১৯১৪: দারোগা কাজী রফিজউল্লাহ নজরুলকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার (বর্তমানে উপজেলা) দরিরামপুর হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন। ডিসেম্বরে নজরুল বর্ধমানে ফিরে আসেন।
১৯১৫: জানুয়ারি, রাণীগঞ্জের শিয়ারসোল রাজস্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। দশম শ্রেণী পর্যন্ত এ স্কুলে পড়াশুনা করেন।
১৯১৭: ডিসেম্বর, সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং করাচি গমন করেন।

১৯১৮: মাসিক ‘সওগাত’ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (১৩২৬) ‘বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী’ নামে গল্প প্রকাশিত হয়।
১৯১৯: জুলাই ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় শ্রাবণ সংখ্যা (১৩২৬) প্রথম প্রকাশ ‘মুক্তি’ নামে কবিতা প্রকাশিত হয়।
১৯২০: জানুয়ারি, সেনাবাহিনী থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে কলকাতায় আসেন।

১৯২০: মজফ্‌ফর আহমদের সাথে প্রথম দেখা করেন। চুরুলিয়ায় মায়ের সাথে দেখা করে করাচি ফিরে যান।
১৯২০: মার্চ, ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন ভেঙে দেয়া হয়। করাচি থেকে এসে কলকাতার ৩২, কলেজ স্ট্রিটে মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে বসবাস শুরু করেন।
১৯২০: এপ্রিল, ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ‘বাঁধন হারা’ উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
১৯২০: ১২ জুলাই, ‘নবযুগ’ প্রকাশিত হয়।
১৯২০: ডিসেম্বর, হাওয়া পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গমন করেন।

১৯২১: এপ্রিল, আলী আকবর খানের সাথে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে যান এবং নার্গিসের সাথে বিয়ে (আকদ্‌) হয়। বিয়ের রাতেই কুমিল্লায় চলে যান।
১৯২১: ১০ জুলাই, মুজফ্‌ফর আহমদ নজরুলকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে যান।
১৯২১: অক্টোবর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে প্রথম দেখা হয়। রবীন্দ্রনাথকে ‘আগমনী’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান। সঙ্গে ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
১৯২১: ২১ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার কুমিল্লায় যান। হরতালে যোগ দেন।
১৯২১: ডিসেম্বর, নজরুলের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনা করেন।

১৯২২: ১৭ জানুয়ারি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিদ্রোহী’কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।
১৯২২: ১ মার্চ, গল্পের বই ‘ব্যথার দান’ প্রকাশিত হয়। জুন মাসে আকরম খাঁর ‘সেবক’ পত্রিকায় চাকরি নেন।
১৯২২: আগস্ট, অর্ধ-সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় নজরুল সুস্পষ্টভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দাবি করেন।
১৯২২: তৃতীয়বার কুমিল্লা যান। এবার আশালতা সেন অর্থাৎ প্রমীলার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
১৯২২: ৮ নভেম্বর ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ২৩ নভেম্বর কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন।

১৯২৩: ১৬ জানুয়ারি, এক বছরের কারাদণ্ড হয়। ১৭ জানুয়ারি নজরুলকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বসন্ত’ নাটিকাটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। ১৪ এপ্রিল হুগলি জেলে নেয়া হয়। ২১ মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনশন ভঙ্গের জন্য চিঠি লেখেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর চিঠিতে লিখেন: ‘Give up hunger strike, our literature claims you.’ ২৩ মে বিরাজসুন্দরীর অনুরোধে অনশন ভাঙেন। ১৮ জুন তাঁকে বহরমপুর জেলে নেয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর ১৯২৩ নজরুল ইসলাম জেল থেকে মুক্তি পান।

১৯২৪: বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে আসেন। ২৫ এপ্রিল প্রমীলার সাথে বিয়ে হয়।
১৯২৪: ডিসেম্বর, প্রথম ছেলে আজাদ কামাল ওরফে কৃষ্ণ মুহম্মদ-এর জন্ম হয়।
১৯২৫: ফরিদপুরে কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগদান করেন।

১৯২৬: ‘’ লাঙল পত্রিকা প্রকাশ। ২৭ জুন ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বর্ষের চতুর্থ অধিবেশনে যোগদান করেন। ৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়। অক্টোবর মাসে সিলেট ও ঢাকায় সফর করেন। নভেম্বরে তিনি কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯২৭: ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আগমণ করেন।

১৯২৮: ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সভায় যোগদান করেন। মে মাসে মা জাহেদা খাতুনের মৃত্যু হয়।
১৯২৯: জানুয়ারি, চট্টোগ্রাম সফর করেন। এ মাসেই পুত্র সব্যসাচীর জন্ম হয়। এপ্রিল মাসে গানের কোম্পানির এইচ এমভিতে যোগদান করেন।
১৯৩০: ৭/৮ মে, দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যৃ হয়। পুত্র বুলবুলের মৃত্যুতে কবি খুবই আহত হন এবং তাঁর মাঝে বিরাট পরিবর্তন হয়।

১৯৩১: ২০ জুন, ‘বর্ষবাণী’ পত্রিকার সম্পাদক জাহান আরা চৌধুরীর সাথে দার্জিলিং যান। সেখানে রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৩২: আগস্ট, নজরুল গ্রামোফোন কোম্পানিতে যোগদান করেন।
১৯৩৩: ছোটদের কবিতা ও নাট্য সংকলন ‘পুতুলের বিয়ে’, ‘সাত ভাই চম্পা’ প্রকাশিত হয়।
১৯৩৪: সিনেমা পরিচালনা এবং কয়েকটি গানের বই প্রকাশিত হয়।

১৯৩৫: গ্রামোফোন কোম্পানিতে সংগীত রচয়িতা হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৩৬: ফরিদপুর জেলা মুসলিম ছাত্র সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
১৯৩৭: নাটক রচনা ও সিনেমা পরিচালনা করেন।
১৯৩৮: ‘বেতারে হারামণি’, ‘নবরাগ- মালিকা’, ‘গীতি-বিচিত্রা’ এই তিনটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ ছাড়াও কয়েকটি নাটক পরিচালনা করেন।

১৯৩৯: গীতিনাট্য রচনা। আগস্ট মাসে নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা আমৃত্যু পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন।
১৯৩৯: বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্মেলনে সভাপতির ভাষণ দেন। দৈনিক ‘নবযুগে’র প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৪১: ৭ আগস্ট রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কলকাতা বেতারে ‘রবিহারা’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শান্ত রবিরে’ গানটি নজরুলের কণ্ঠে সম্প্রচারিত হয়।
১৯৪২: ৯ জুলাই, কলকাতা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত শিশুদের আসরে দশ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করার সময় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি আর কখনোই সুস্থভাবে কথা বলতে পারেননি। ৭ অক্টোবর লুম্বিনি পার্ক মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এতে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে তিনি আমৃত্যু অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১৯৪৩: নজরুল সাহায্য কমিটি গঠন। অবিভক্ত ভারত সরকার মাসে দুশো টাকা ভাতা প্রদান করতেন।
১৯৪৪: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘জগত্তারিণী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
১৯৪৬: শাশুড়ি গিরিবালা দেবী চিরদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

১৯৫৩: ১০ মে, উন্নততর চিকিৎসার জন্য কবিকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর বিমানযোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
১৯৬২: ৩০ জুন, নজরুলের স্ত্রী প্রমীলার মৃত্যু হয়।
১৯৬৯: ৯ সেপ্টেম্বর, রবীন্দ্র বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করা হয়।

১৯৭২: ২৪ মে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে কবিকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। সরকার কর্তৃক ধানমণ্ডির রোড নং-২৮ (পুরাতন), ৩৩০-বি বাড়িটি কবিকে প্রদান করা হয়। এ বাড়িতেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্মের উপর গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে ‘নজরুল ইন্সটিউট’ নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

১৯৭৪: ২২ ফেব্রুয়ারি, নজরুলের ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ মৃত্যুবরণ করেন। ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কবি নজরুলকে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করা হয়।

১৯৭৬: জানুয়ারি, কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। এ বছরই ২৯ আগস্ট (১২ই ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) কবি নজরুল দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর (১৯৪২-১৯৭৬) অসুস্থ থাকার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। কবির ইচ্ছানুযায়ী তাঁর মসজিদের পাশেই কবর দেয়া হয়েছিল। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর একটি গানের মধ্যে বহু পূর্বেই নিজের মৃত্যুর পরবর্তী ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেছিলেন: ‘মসজিদেরি পাশে আমার কবর দিও ভাই যেন গোরে থেকেও মোয়জ্জিনের আজান শুনতে পাই।’ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সমাহিত করা হয়।

সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি : বাংলাদেশ বিষয়াবলী

সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ পরিচিতি, ছিটমহল, জনসংখ্যা ও উপজাতি। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি। ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ। আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া, জলবায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদ-নদী, নদ-নদীর সংখ্যা ও পরিচিতি। সমুদ্র সৈকত, দ্বীপ ও চর। শিক্ষা তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রতিষ্ঠাকাল। শিল্প ও বাণিজ্য। সরকারি কর্ম কমিশন। বাঁধ, বিল ও ঝরনা। চর্যাপদ। কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয়। মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান।

সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ পরিচিতি, ছিটমহল, জনসংখ্যা ও উপজাতি সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। ১৬ ডিসেম্বর : বিজয় লাভ সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া, জলবায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের নদ-নদী। বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা ও পরিচিতি সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত, দ্বীপ ও চর সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের শিক্ষা তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রতিষ্ঠাকাল সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের বাঁধ, বিল ও ঝরনা চর্যাপদ কি? চর্যাপদ আবিষ্কার এর ইতিহাস। বাংলা নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান আলোচনা কর

General Knowledge Bangladesh

General Knowledge Short Questions and Answers Bangladesh. Bangladesh at a Glance. National Affairs of Bangladesh. National Topics of Bangladesh. GK Bangladesh Arrival of the Europeans in Indian Sub-continent. Awakening of Bengal. Different Reigns in Ancient Bengal, Independent Muslim and Sultani Rule in Bengal. Bridges in Bangladesh.

General Knowledge Short Questions and Answers Bangladesh General Knowledge Bangladesh at a Glance General Knowledge National Affairs of Bangladesh General Knowledge National Topics of Bangladesh GK Bangladesh Arrival of the Europeans in Indian Sub-continent General Knowledge Bangladesh Awakening of Bengal GK-Different Reigns in Ancient Bengal, Independent Muslim and Sultani Rule in Bengal General knowledge about bridges in Bangladesh