জবা ফুলের পরিচয় ও ঔষধি গুণগুণ

জবা ফুলের গাছ ছোট আকারের হয়। এই গাছ লম্বায় বাড়ে পাঁচ থেকে আট ফুট পর্যন্ত। জবা ফুলের চারটি শ্রেণী রয়েছে। আমাদের চারপাশে সাধারণত একপাটি এবং পঞ্চমুখী এই দুই জাতের জবা দেখা যায়। আর একটি শ্রেণীর জবা রয়েছে যা খুব কম চোখে পড়ে। এই জবা ফুলের নাম হলো লঙ্কা জবা। এখানে আমরা জাবা ফুলের বিভিন্ন নাম, প্রয়োগ ও ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানবো।

জবা গাছের বহু শাখা হয়। পাতা ডিম্বাকৃতি ও দাঁতযুক্ত। আগার দিকটা সরু। জবা ফুল বিভিন্ন রকম রং-এর হয়। লাল, নীল, হলুদ, সাদা, ফিকে গোলাপী ও সাদা এবং লাল এই দুটি রং এর সংমিশ‌্রণের জবা ফুলও দেখা যায়।

জবা ফুলের বীজকোষ গোলাকার এবং তার মধ‌্যে বহু বীজ থাকে। জবা ফুল প্রায় সারা বছর ধরেই ফোটে এবং এর ফলও ধরে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জবাফুলের গাছ জন্মায়। বাংলাদেশের গৃহস্থবাড়ির উঠানে অথবা বাগানে এই গাছ রোপণ করা হয়।

জবা ফুলের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

জবা ফুলের বিভিন্ন নাম

জবা ফুলের বিভিন্ন নাম রয়েছে। বাংলা ভাষায় এই ফুল জবা নামেই পরিচিত। মারাঠী ভাষায় এই ফুলকে বলা হয় জাসবিন্দ। সংস্কৃত ভাষায় জবা ফুলের নাম- জপা, জবা পুষ্পম্‌। তামিল ভাষায় জবা ফুলের নাম- সপ্পট টুপ্পু। হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয়- জাসুম্‌, বোড়হুল। আর তেলেগু ভাষায় জবা ফুলের নাম- ডাসানা।

জবা ফুলের প্রয়োগ ও ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হলে জবা ফুলের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- অতিরিক্ত ঋতুস্রাব দেখা দিলে জবা ফুল পাঁচ থেকে সাতটি সামান‌্য গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে খেলে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব অবশ‌্যই নিবারিত হবে। যদি এভাবে খেতে অসুবিধা হয়, তাহলে পঞ্চমুখী জবার দুটি কুঁড়ি (পঞ্চমুখী জবাফুলের রং অবশ‌্যই লাল হবে) ঢেঁকিছাঁটা আতপচাল ধোয়া পানিতে বেটে সেটা ৫০ মিলিলিটার পরিমাণে খেলে ঋতুর পরিমাণ স্বাভাবিক হবে।

অনিয়মিত মাসিক স্রাবে জবা ফুলের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- মাসিক শুরু হলেও এক থেকে দেড় দিনের মধ‌্যে বন্ধ হয়ে যায় এমন সমস‌্যা হলে। আবার কোন সময় মাসিক শুরু হবার নির্দিষ্ট দিন পার হয়ে গেলেও আদৌ ঋতু হয় না এমন সম‌স‌্যা দেখা দিলে। তিনটি পঞ্চমুখী জবার কুঁড়ি, দারুচিনি ৫০০ মিলিগ্রাম, এই দুটি একসঙ্গে বেটে বেলার দিকে শরবতের মতো খেলে মেয়েদের স্রাব স্বাভাবিক হয়।

চোখ ওঠার রোগ হলে জবাফুল দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক- জবাফুল বেটে চোখের ওপর এবং নিচের পাতায় প্রলেপ দিলে উপকার হয়। তবে জবা ফুলের ওষুধ প্রয়োগ করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন ফুলের রস চোখের ভেতর না যায়।

সর্দি ও কাশি হলে জবাগাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- যে কোন কারণে সর্দি এবং কাশি হলে জবাগাছের টাট্‌কা মূল তিন থেকে চার গ্রাম পরিস্কার পানি দিয়ে বেটে তার রসটা আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে সকালে একবার এবং বিকেলে একই পরিমাণ আরও একবার খেতে হবে। মাত্র তিন দিন খেলে রোগী সুস্থতা লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

ঘনঘন প্রস্রাবের চাপ হলে জবাগাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- রোগীর যদি প্রচন্ড পিপাসা বোধ হয় এবং এর জন‌্য তেষ্টা মেটাতে রোগী যেমন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে, তেমনি প্রসাবও ঘনঘন হয়। গরমকাল হলে কষ্ট বেশি হয়। এ ধরণের সমস‌্যা দেখা দিলে জবাগাছের ছালের রস দেড় চামচ এবং ঠান্ডা পানি আধা কাপ মিশিয়ে সেটা সকালে একবার করে কয়েকদিন খেলে প্রচন্ড প্রচন্ড পিপাসা যেমন কমবে, তেমনি ঘনঘন প্রস্রাবও বন্ধ হয়ে যাবে।

টাক-পোকার আক্রমণে জবাফুল দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় মাথার খানিকটা অংশে চুল উঠে গিয়ে টাকের মতো চক্‌চক্‌ করছে। এইরকম অবস্থা শুধুমাত্র মাথায় নয়, দাড়ি এবং চোখের ভ্রুতেও হতে পারে। এটা এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র পোকা যা চুলের কিছুটা খেয়ে ফেলে। চুল গজালেই এই পোকাগুলো সেটা খেতে থাকে। ফলে মনে হয় টাক পড়েছে। জবাফুল বেটে গোসল করার পর ভিজা চুল শুকিয়ে গেলে ঐ জায়গায় কয়েকদিন প্রলেপ লাগিয়ে দিলে আবার নতুন চুল গজাবে এবং টাক থাকবে না ইনশাআল্লাহ। তবে, এসব রোগের প্রথম অবস্থায় ব‌্যবস্থা নিলেই উপকার হবে ইনশাআল্লাহ। এই সমস‌্যা দীর্ঘদিনের হলে কোন কাজ হবে না।

চুলের বৃদ্ধি করতে জবা ফুলের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা- মাথায় চুল বৃদ্ধিতে জবা ফুলের হেকিমী চিকিৎসা অনেক ফলপ্রসু। টাট্‌কা জবা পাতার রস এবং সমপরিমাণ অলিভ অয়েল অর্থাৎ জলপাই তেল মিশিয়ে ভালোভাবে ফোটাতে হবে। রস তেলের মধ‌্যে মিশে কেবল তেলটা থাকবে, তখন আঁচ থেকে পাত্র নামিয়ে ঠান্ডা হলে কাঁচের শিশিতে ভরে রাখতে হবে। এই তেল নিয়মিত মাথায় মাখলে একদিকে চুল যেমন বাড়বে তেমনি সহজে পাকবে না ইনশাআল্লাহ।

পাকা চুল কালো করতে জবা ফুলের হেকিমী চিকিৎসা- চার লিটার গরুর দুধ, জবাফুল বেটে তার রস সমপরিমাণে এবং যষ্টিমধুর কল্ক ৯০ গ্রাম একটি স্টিলের পাত্রে এক লিটার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে আগুনে ফোটাতে হবে। দুধ ও ফুলের রস মিশে গেলে পাত্র আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হলে কাঁচের বোতলে ভরে রাখতে হবে। এই তেল নিয়মিত ব‌্যবহার করলে পাকা চুল ধীরে ধীরে কালো হয়। এটা বহু যুগ ধরে প্রচলিত ওষুধ।

কালমেঘ এর পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মনভোলা রোগ, মস্তক এর রোগ, নাকের সমস‌্যা, চোখের সমস‌্যা, মুখমন্ডল এর সমস‌্যা, জিভ, পাকস্থলী, উদর গহ্বর, মুত্র, মল, শ্বাসযন্ত্র, প্রষ্ঠদেশ, হাত-পা, চর্ম ইত‌্যাদি রোগের জন‌্য কালমেঘ এর হেকিমী চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

কালমেঘ এর ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

অর্জুন গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মানসিক সমস‌্যা, মাথা, কান, নাক, মুখ, পাকস্থলী, মল, মূত্র, শ্বাসযন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ঘুম, পুরুষ জননেন্দ্রিয়, স্ত্রী জননেন্দ্রিয়, কাশি, রক্তপিণ্ড, রক্তরোধ, আঘাত, হাড় ভাঙ্গা ইত‌্যাদি বিভিন্ন সমস‌্যায় অর্জুন গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

অর্জুন গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

নিম গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

মন ভোলা, মাথা ধরা, চোখের সমস‌্যা, কান, নাক, মুখমন্ডল, মুখগহ্বর, গলদেশ, পাকস্থলী, উদর, মল, স্ত্রী জননেন্দ্রিয়, প্রস্রাব, শ্বাসযন্ত্র, হাত-পা, ঘুম, জ্বর, চর্ম রোগ ইত‌্যাদি বিভিন্ন রোগ হলে নিম গাছের ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

নিম গাছ দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন

মিঠা পাট গাছের পরিচয় ও হেকিমী চিকিৎসা

রক্ত আমাশয়, পেট খারাপ, প্রস্রাবের রোগ, পেটে যন্ত্রণা, অগ্নিমান্দ‌্য, লিভারের দোষ, পায়খানা অপরিষ্কার, অবিরাম জ্বর ইত‌্যাদি বিভিন্ন রোগ হলে পাট গাছ দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

পাট গাছ দিয়ে ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জানতে এখানে ক্লিক করুন