জরায়ু, ঋতু বা মাসিক, গর্ভসঞ্চার কি?

স্ত্রীরোগ চিকিৎসা শুরু করার আগে স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় সম্বন্ধে জানতে হবে। জরায়ু (uterus), ঋতু বা মাসিক (menstrution), গর্ভসঞ্চার কি? এ বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। এখানে স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় এবং বিভিন্ন স্ত্রীরোগ এর নাম ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

জরায়ু (uterus) কি?

IMAGENAME

১। মেয়েদের তলপেটে মূত্রাধার ও মল-ভান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় জরায়ু (uterus) আছে, জরায়ুর অপর নাম নাড়ী, পো-নাড়ী বা গর্ভাশয়। এটি একটি শক্ত থলিবিশেষ, আকৃতি পেয়ারা বা নাসপাতি ফলের ন্যায়। এই জরায়ু-গহ্বর মধ্যে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ নয় মাস বাস করে। জরায়ু স্থিতিস্থাপক গুণসম্পন্ন অর্থাৎ এটি রাবারের মত বাড়তে ও কমতে পারে। সুতরাং গর্ভাবস্থায় এর ভেতর ভ্রূণ বাড়তে থাকলে এটিও বড় হয় এবং শিশু ভূমিষ্ঠ হলে ২১ দিনের মধ্যে সঙ্কুচিত হয়ে পূর্বের আকার প্রাপ্ত হয়। এর উপরিভাগটিকে জরায়ুর গোড়া (fundus) বলে। নিম্নভাগটি অপেক্ষাকৃত সরু, এটিকে জরায়ু-গ্রীবা (cervix) বলে। জরায়ু-গ্রীবায় একটি ছিদ্র আছে, এর নাম জরায়ুর মুখ (os)। প্রায় তিন ইঞ্চি লম্বা একটি বক্র সরুঙ্গ জরায়ু-গ্রীবার চতুর্দিক জুড়ে আছে, এটিকে যোনিপথ (vagina) বলে।

২। জরায়ুর উভয় পাশে এক ইঞ্চি লম্বা বাদামাকৃতি দুইটি যন্ত্র আছে, একে ডিম্বকোষ, ডিম্বাশয় বা ডিম্বাধর (ovary) বলে। প্রত্যেক ডিম্বকোষে সরিষার মত অতি ক্ষুদ্র বহু ডিম্ব (ovum) থাকে।

জরায়ুর গোড়ার দুই পাশ দিয়ে বাহুর ন্যায় দুইটি নল (তিন ইঞ্চি লম্বা) ডিম্বকোষদ্বয় পর্যন্ত আছে। এগুলোকে কালল-নল (Fallopian Tubes) বা স্ত্রী-বীর্য্যবাহী নল বলে। প্রতিবার ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে একটি বা দুইটি পক্কডিম্ব ডিম্বাশয়ের দেহ ভেদ করে নির্গত হয় ও কালল-নল এর সাহায্যে জরায়ু অভিমুখে নীত হয়।

ঋতু বা মাসিক (menstrution) কি?

ঋতু বা মাসিক- যৌবন সমাগমে যখন স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় পরিপুষ্ট হতে থাকে, তখন ডিম্বকোষ হতে ডিম্ব নিঃসৃত হয়। তখন জরায়ু গাত্রে রক্তাধিক্য হয়ে তা হতে রক্ত বা রজঃ নিঃসরণ হয়, একেই ঋতু, স্ত্রীধর্ম বা মাসিক বলে। প্রায় চৌদ্দ বৎসর বয়স হতে পঁয়তাল্লিশ বা পঞ্চাশ বৎসর বয়স পর্যন্ত প্রত্যেক আঠাশ দিন অন্তর একবার করে ঋতু বা মাসিক হয়। মানুষের মুখের ভিতরে যেমন নরম লালবর্ণ চামড়া আছে, ঠিক তেমনি লালবর্ণ কোমল চামড়া (mucous membrane) জরায়ুর ভিতরেও বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি ২৮ দিন পর জরায়ুর চামড়ার ঐ খোলসটি বদল হয়ে থাকে। প্রত্যেকবার খোলস বদলসহ সাধারণত চার দিবসব্যাপী জরায়ু হতে মাসিক বা ঋতু (menstrution) স্রাব হয়ে থাকে। মাসিকের সময় বা ঋতুকালে বা ঋতুমতী হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে ঔষধ সেবন নিষিদ্ধ। মাসিকের বা ঋতুস্রাবের চার দিন বাদ দিয়ে তারপর ঔষধ সেবনের মুখ্য সময়। মাসিকের সময় বা ঋতুকালে ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম লাগান, ভ্রমণ ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ করা নিষেধ।

গর্ভসঞ্চার কি?

গর্ভসঞ্চার- মেয়েদের-বীর্য (ডিম্ব) যেমন ডিম্বকোষে থাকে, ছেলেদের বীর্য বা রেত (semen) সেইরূপ মুষ্ক (testes) মধ্যে থাকে। পুরুষের বীর্য বা শুক্রে খুব সরু ও লম্বা একপ্রকার কীট আছে, এগুলোকে শুক্রকীট (spermatozoa) বলে। মেয়েদের পরিপক্ক ডিম্ব ও ছেলেদের সতেজ শুক্রকীট এই দুটি গর্ভসঞ্চারের উপাদান। সাধারণত ঋতুর বা মাসিকের সপ্তম বা অষ্টম দিন হতে আরম্ভ করে গর্ভসঞ্চার হয়। কিন্তু কখনও কখনও ঋতুর বা মাসিকের দুই-এক দিন আগেও গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষের সঙ্গমের ফলে পুরুষের মুষ্ক হতে পুরুষাঙ্গ দ্বারা যে বীর্য নিঃসৃত হয়, সেই বীর্যস্থ শুক্রকীট নারীর যোনিপথ দিয়ে জরায়ুর ভিতর প্রবেশ করে ক্রমে কালল-নলে গিয়ে যদি ডিম্বকোষের পরিপক্ক ডিম্বের সাথে মিলিত হয়, তাহলে নারী গর্ভবতী হয়।

এই সংযোগ কিভাবে একটি নব-জীবনের উৎপত্তি হয়, বিন্দু পরিমাণ ভ্রূণে কিভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়- এই শুক্রকীট ও ডিম্ব মিলিত হয়ে প্রকৃতির অন্তরালে নিহিত কোন শক্তির প্রভাবে মানুষের সৃষ্টি হয়- তীক্ষবুদ্ধি বিজ্ঞানগর্বী মানব কখনও কি এই জটিল প্রশ্নের সমাধান করতে সক্ষম হবে? বিজ্ঞান ও মানব প্রতিভা যুগপৎ তথ্য নির্ধারণে বা রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রভাবে জীব-উৎপাদনের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকুক, আমরা এর যৌক্তিকতা বা সম্ভাব্যতা সম্বন্ধে কিছুই বলতে চাই না। আমরা এখানে স্ত্রীরোগসমূহ ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

স্ত্রীরোগসমূহ নিম্নলিখিত নয়টি শ্রেণীতে ভাগ করে প্রত্যেকটির লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হয়েছে-

১। আর্ত্তব-ব্যাধি, ২। জরায়ু ব্যাধি, ৩। ডিম্বকোষের ব্যাধি, ৪। যোনির ব্যাধি, ৫। বন্ধ্যাত্ব, ৬। স্তনের পীড়া, ৭। মেরুদন্ডের পীড়া, ৮। পিক-চঞ্চু-অস্থিবেদনা, ৯। গর্ভিণী রোগ। চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের লিংকগুলো ভিজিট করুন।

আর্ত্তব-ব্যাধি (ঋতু বা মাসিকের রোগ) (Disorder of Menstruation)

ঋতু বা মাসিকের বিভিন্ন ধরনের রোগকে আর্ত্তব-ব্যাধি বা Disorder of Menstruation বলা হয়। এখানে বিভিন্ন প্রকার আর্ত্তব-ব্যাধি (ঋতু বা মাসিকের রোগ) ও এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

ঋতু বা মাসিকের রোগ (Disorder of Menstruation) বিস্তারিত এখানে

অনিয়মিত ঋতু (Irregular Menstruation)

অনিয়মিত ঋতু বা অনিয়মিত মাসিক মেয়েদের জন‌্য কষ্টদায়ক এবং অস্বস্থির কারণ। অনিয়মিত ঋতু বা Irregular Menstruation সম্পর্কে মেয়েদের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে তারা বিভ্রান্তিতে ভোগে। অনিয়মিত ঋতু বা Irregular Menstruation এর লক্ষণ ও এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

অনিয়মিত মাসিক ও এর চিকিৎসা বিস্তারিত এখানে

অতিরজঃ (Menorrhagia)

অনেক মেয়ে বা মহিলা মাসিক চলাকালে অতিরজঃ বা Menorrhagia সমস‌্যায় ভুগে থাকেন। অতিরজঃ বা Menorrhagia কি? এর লক্ষণ কি? এর এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কি? এই সব প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

মাসিক চলাকালে অতিরজঃ বিস্তারিত এখানে