দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) কি?

চেখের গঠন বা কার্যকারিতার ত্রুটির কারণে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতার সে পরিমাণ ক্ষতিকে বুঝায় যেক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না (ব্যারাগা ১৯৮৩)।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (১৯৩৪)-এর মতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে কোন শিশুর সে পরিমাণ দৃষ্টি ক্ষমতাকে বুঝাবে যে, ভাল চোখে সংশোধনী লেন্স ব্যবহার করা সত্ত্বেও দৃষ্টিক্ষমতা (visual acuity) ২০/২০০ বা এর চেয়ে কম। অথবা দৃষ্টিক্ষেত্র (visual field) ২০ ডিগ্রির কম। ২০/২০০ দৃষ্টিক্ষমতা বলতে বুঝায়, স্বাভাবিক দৃষ্টিক্ষমতা সম্পন্ন শিশু ২০০ ফুট দূরে যেরূপ দেখে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু ২০ ফুট বা তার চেয়ে কম দূরত্ব থেকে সেরূপ দেখতে পায়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (কোলেনব্রান্ডার ১৯৭৭) মাত্রা অনুযায়ী দুইটি শ্রেণিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতকে ভাগ করেছে। যথা-
১. অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা(Blind) : অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বলতে দৃষ্টিক্ষমতার সম্পূর্ণ ঘাটতি অথবা সামান্য মাত্রার আলোক প্রত্যক্ষণ ক্ষমতাকে বুঝায়। অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিকতাকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
ক. প্রায় অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা(Near Blind) : এ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা সম্পন্ন শিশুরা আলো দেখতে পায়। কিন্তু এর অর্থ বা উৎস নির্ধারণ করতে পারে না। তাই তারা প্রধানত অন্য ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত হয়। অনির্ভরযোগ্য দৃষ্টিক্ষমতা, যার ফলে অন্য ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করতে হয়।
খ. সম্পূর্ণ অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Total Blind) : কোন রকম দৃষ্টি সংবেদন থাকে না, তাই সম্পূর্ণরূপে অন্য ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করতে হয়।

২. আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Low Vison) : আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বলতে দূরবর্তী স্থানে দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে। কিন্তু খুব নিকটবর্তী অর্থাৎ কয়েক ইঞ্চি বা কয়েক ফুট দূরত্বের স্থানের জিনিস দেখার ক্ষমতা থাকতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ দৃষ্টিক্ষম শিশুদের তুলনায় কম দেখে এবং সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করতে পারে। আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতাকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়।

ক. গুরুতর আংশিক ‍দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Severe Low Vision) : সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করেও অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং কম সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে পারে।

খ. চরম আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Profound Low Vision) : সূক্ষ্ম দৃষ্টির কাজ করতে পারে না, সূক্ষ্ম দৃষ্টির প্রয়োজন হয় না এমন কাজ করতেও সমস্যা হয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

সঞ্চালন দক্ষতার বিকাশ (Motor Development) :
দৃষ্টি সমস্যার কারণে অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি শিশুরা চোখে দেখে কোন বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে না। ফলে তাদের চলন প্রক্রিয়া স্লথ হয়ে যায়। দৃষ্টিমান শিশুরা প্রায় ৫ মাস বয়সের মধ্যেই কোন খেলনা ধরার জন্য এগিয়ে যায়। কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশু প্রায় ১০/১১ মাস বয়সে এরূপ আচরণ করে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুর এ সীমাবদ্ধতার জন্য সঞ্চালনমূলক দক্ষতার বিকাশ বিলম্বিত হয় এবং পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। পারিপার্শ্বিক উদ্দীপনার অভাবে অনেক শিশু আত্মকেন্দ্রীক নানা আচরণে লিপ্ত হয়। যেমন- আঙ্গুল দিয়ে চোখ খোঁচানো, শরীর দোলানো, কোন জিনিস ঘোরানো, কোন উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকা ইত্যাদি।

(Cognitive Development) : টিলম্যান (১৯৬৭) এবং টিলম্যান ও অসবর্ণ (১৯৬৯) দৃষ্টিক্ষম ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুদের পরিজ্ঞানমূলক ক্ষমতা তুলনা করে নিম্নরূপ বৈশিষ্ট্য দেখতে পান-
১. দৃষ্টিক্ষম শিশুদের মত অন্ধা মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা শিশুদের নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকে, কিন্তু সে অভিজ্ঞতা কম সমন্বিত।

২. অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুরা অংক, সংখ্যা ধারণা, তথ্য, শব্দভাণ্ডার, ইত্যাদি ক্ষেত্রে দৃষ্টিক্ষম শিশুদের অনুরূপ থাকে কিন্তু বোধ ও সম্পর্ক নির্ণয়ে কম দক্ষতা সম্পন্ন হয়।

৩. অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুরা কোন শব্দের শাব্দিক অর্থ বুঝতে পারে। কিন্তু দৃষ্টিক্ষম শিশুরা শাব্দিক অর্থ ছাড়াও বিশেষ অর্থ বুঝতে পারে।

৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুরা দৃষ্টিক্ষম শিশুদের মত মৌখিকভাবে ভাব বিনিময়ের দক্ষতা অর্জন করে। কিন্তু কোন সাধারণ বিষয়ে ধারণা বিচ্ছিন্ন হয় এবং তা অবিকল মানের হয় না (কেপার্ট, কপার্ট ও সেয়ার্টজ ১৯৭৪)। শিক্ষাবিদগণ মনে করেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুদের পরিজ্ঞানমূলক ক্ষমতা কম হয় না বরং তা দৃষ্টিক্ষম শিশুদের মত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণ সুযোগের অভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়। (ওয়ারেন ১৯৮৪)।

ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষণ ও সম্পূরক ব্যবস্থা (Sensory Perception and Compensation)

দৃষ্টি ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে শ্রবণ ও স্পর্শ ইন্দ্রিয় অধিক সক্ষম হয় বলে যে মতবাদ প্রচলিত আছে গবেষণা দ্বারা তা প্রমাণিত হয়নি (গোটেসম্যান ১৯৭১)। বরং দেখা গেছে পেশী সংশ্লিষ্ট সংবেদনসমূহ যা দৃষ্টিক্ষম শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমে আসে তা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুদের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় (স্যামুয়্যেলসন ১৯৮১)।

এর কারণ হিসেবে স্যামুয়্যেলসন বলেন, পেশী সংশ্লিষ্ট অনুভূতি ব্যবহার করে কাজ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুরা দৃষ্টিক্ষমতা ব্যবহার করে সে প্রত্যক্ষণ করতে পারে না বলে পেশী সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কোন বস্তু সম্পর্কে ধারণা গঠনের জন্য দৃষ্টি, স্পর্শ, সঞ্চালন ইত্যাদি উৎসভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হলে এ ধারণা গঠন ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সে তথ্য পূরণ করা যায় (মিলার ১৯৮১)।

ভাব বিনিময় বা যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ (Communication Development)

স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন সমপর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের ভাষার বিকাশ হয়। শুধুমাত্র তাদের ভাষার বিকাশ পড়া ও দেখার মাধ্যমে উন্নতি লাভ করে না। স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন শিশুরা যে জিনিস সম্পর্কে দেখার মাধ্যমে ধারণা লাভ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা সে জিনিস সম্পর্কে স্পর্শের মাধ্যমে ধারণা লাভ করে এবং নাম বলতে শেখে। অন্ধ মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা কোন শব্দের শাব্দিক অর্থ বুঝতে পারে। কিন্তু দৃষ্টিক্ষম শিশুরা শাব্দিক অর্থ ছাড়াও বিশেষ অর্থ বুঝতে পারে। বাস্তবভাবে অনুভব করা যায় না এরূপ শব্দের অর্থবোধ সমস্যা থাকে।

ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিকাশ (Personal and Social Development)

প্রতিবন্ধিতা প্রত্যক্ষভাবে ব্যাক্তিত্ব ও সামাজিক বিকাশে কোন প্রকার নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে না। শুধুমাত্র চলাচলের সীমাবদ্ধতা তাদের কিছুটা নিস্পৃহ ও পরনির্ভরশীল করে রাখে। টাটল (১৯৮৪) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুর নিজের সম্পর্কে ধারণা বিশ্লেষণ করে দেখেন যে, দৃষ্টিমান ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের মনোবল ও অন্যদের সাথে উপযোজনকে প্রভাবিত করে।

অন্যদের আচরণের বৈষম্য না হওয়া পর্যন্ত জন্মগতভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা অন্যদের থেকে তাদের পার্থক্য বুঝতে পারে না। কিন্তু যেসব শিশু পরবর্তীতে দৃষ্টি হারায় তারা তীব্র মনোকষ্ট, নিজেকে গুটিয়ে নেয়া ও নিজের সম্পর্কে ধারণা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এক সময় দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতাকে মেনে নিতে পারে। তারা অন্যের অনুগ্রহ নিতে পছন্দ করে না।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার হার
দেশ বা আর্থ-সামাজিক অবস্থাভেদে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার হার বিভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দৃষ্ট প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১.৮% বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার কারণ

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার কারণ প্রধান চারভাগে উপস্থাপন করা যায়। যথা-
ক. বংশগতি, সংক্রমণ, বিষক্রিয়া ইত্যাদির প্রভাব,
খ. চোখের প্রতিসরণ ত্রুটি,
গ. মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণ ত্রুটি,
ঘ. রোগমূলক অবস্থা।

ক. বংশগতি, সংক্রমণ, বিষক্রিয়া ইত্যাদির প্রভাব
১. বংশগতি কারণ : বিভিন্ন রোগের প্রভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে। ফ্রেশার ও ফ্রেডম্যান (১৯৬৮) এক সমীক্ষায় দেখেন যে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার অন্যতম কারণ বংশগত রোগ। যেমন- রেটিনোব্লাস্টেমা, শিশুর জন্মগত ছানী, রেটিনিটিস পিগমেনটোসা, টোসিস, অ্যালবিনিজম ইত্যাদি।

২. জন্মপূর্ব কারণ : গর্ভাবস্থায় মায়ের রুবেলা বা জার্মান হাম, সিফিলিস, গনোরিয়া, গুটিবসন্ত, টক্সোপ্লাজমোসিস, সাইটোমেগালাস ভাইরাস, হার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি সংক্রমণের ফলে শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্ষতিকর উপাদান অনুপ্রবেশ যেমন- অতিরিক্ত মদ্যপান, তেজস্ক্রিয়তা, মায়ের অপুষ্টি, রক্তের রেসাস ফ্যাক্টরজনিত অসামঞ্জস্যতা ইত্যাদি। এছাড়া নিকট-আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ হলে শিশু ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

৩. জন্মকালীন কারণ : অপরিণত বা কম ওজনের শিশুকে ইনকিউবিটরে রেখে অতিরিক্ত অক্সিজেন দেয়া হলে রেট্রোলেন্টাল ফাইব্রোপ্লাসিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হতে পারে। প্রসবকালীন সময়ে শিশু কোন প্রকার সংক্রমণের শিকার হয়েও শিশুর দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এছাড়া প্রসবকালীন জটিলতার জন্য অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হয়ে শিশু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হতে পারে।

৪. জন্মপরবর্তী কারণ : জন্মপরবর্তী সময়ে শৈশবকালে কোন সংক্রমণ রোগ। যেমন- ট্রাকোমা, কনজাংটিভাইটিস, চোখের টিউমার, অপুষ্টি বিশেষ করে ভিটামিন-এ এর অভাব, চোখে আঘাত ইত্যাদি কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে।

খ. চোখের প্রতিসরণ (Reflactive Errors) : চোখের প্রতিসরণমূলক ত্রুটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিসরণমূলক ত্রুটিগুলি নিম্নরূপ-

১. মায়োপিয়া : সম্মুখ থেকে পশ্চাদ দিকে চক্ষু স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় দূরের কোন বস্তু অস্পষ্ট বা ঝাপসাভাবে দেখে। যদিও কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায়।

২. হাইপারোপিয়া : সম্মুখ থেকে পশ্চাদ দিকে চক্ষু স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এ অবস্থায় শিশু কাছের বস্তু ঝাপসা বা অস্পষ্টভাবে দেখে। কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে পায়।

৩. অ্যাসটিগম্যাটিজম : অ্যাসটিগম্যাটিজম-এর ক্ষেত্রে কর্নিয়া বা চোখের অন্য কোন অংশের গঠনের বিকৃতি ঘটলে বস্তুর বিকৃত বা ঝাপসা প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে দূরের বা কাছের দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণ ত্রুটি (Muscle Control Problem)

১. স্ট্র‌্যাবিসমাস : চোখের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণকারী মাংসপেশীসমূহের সমন্বয়ের অভাব হলে উভয় চোখে দুইটি প্রতিবিম্ব একিত্রিত হয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি সম্ভব হয় না। ফলে দৃষ্টির সমস্যা হয়।

২. নিসট্যাগমাস : চোখের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণকারী মাংসপেশীসমূহের সমন্বয়ের অভাবে চক্ষুমণির দ্রুত ও আকস্মিক কম্পন হয়, ফলে উভয় চোখের প্রতিবিম্ব একত্রিত হয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করতে না পারায় দৃষ্টির সমস্যা হয়।

ঘ. রোগমূলক অবস্থা : চোখের কয়েকটি বিশেষ রোগ সৃষ্টি করে। সেগুলি হলো-

১. রেটিনিটিস পিগমেনটোসা : বংশগত কারনে সৃষ্টি হওয়া এ রোগের ফলে চোখের রেটিনা ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যায়। শিশু প্রথমে প্রান্তীয় দৃষ্টি হারায়, পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীয় দৃষ্টি কমে আসে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে রং প্রত্যক্ষণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং রাত্রীকালীন দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২. রেট্রোলেন্টাল ফাইব্রোপ্লাসিয়া : চোখের লেন্সের পিছনে অস্বচ্ছ টিস্যু তৈরি হয়ে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জন্মের পর ইনকিউবিটরে রাখা অবস্থায় শিশুকে অতিরিক্ত অক্সিজেন দেয়া হলে এ সমস্যা দেখা দেয়।

৩. ছানি: চোখের লেন্স অস্বচ্ছ হরে রেটিনায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় আলো প্রতিফলিত হতে পারে না। ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

৪. গ্লুকোমা : চোখের তরল পদার্থ স্বাভাবিক নিয়মে অপসারিত হতে না পারলে এ তরল পদার্থের চাপে দর্শন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সমস্যার শুরুতে চিকিৎসা করা হলে দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি হওয়া প্রতিহত করা যায়।

৫. জেরেপথেলমিয়া : ভিটামিন-এ অভাবজনিত কারণে চোখের কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা দেখা দিতে পারে। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০,০০০ শিশু ভিটামিন-এ অভাবজনিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত হয়।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন

১। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আলোচনা কর। মায়ের অপুষ্টিতে সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে?
২। গর্ভকালীন সময়ে কয়েকটি পরীক্ষা বর্ণনা কর।
৩। গর্ভকালীন “ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা” ও কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়- বুঝিয়ে লিখ।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

১। সন্তানের প্রসবকাল কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? প্রসবকালীন স্তর, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে লিখ।
২। প্রসব কয় প্রকারের হয়? প্রত্যেক প্রকার প্রসবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।
৩। প্রসবকালীন জটিলতার মধ্যে মস্তিস্কের আঘাত কেন সবচেয়ে ক্ষতিকর? কিভাবে ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়া যায়?
৪। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কি কি বিষয় জানা আবশ্যক, আলোচনা কর।

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা

১। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত তা আলোচনা কর?
২। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আলোচনা কর।
৩। নবজাত শিশুর কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলে ধর। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবে?
৪। অপরিণত শিশু কাকে বলে? অপরিণত শিশুর কয়েকটি সমস্যার উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।
৫। APGAR-স্কোর সম্পর্কে আলোচনা কর। এর গুরুত্ব কি?

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা বিস্তারিত এখানে পড়ুন

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

শিশু জন্মের পর তার কি ধরনের পরিচর্যা করতে হয়? এ ব‌্যাপারে আমরা অনেকেই জানিনা। শিশু জন্মের পর তার সঠিক পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ‌্যের যত্ন, শিশুর কাপড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, শিশুর ঘুমানোর নিয়ম, শিশুর মলত‌্যাগ করার নিয়ম, শিশুর দাঁত পরিষ্কার করা ইত‌্যাদি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই সচেতন মা-বাবা হিসেবে প্রত‌্যেক পিতা-মাতার শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ। নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? নবজাতকের খাবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

অটিজম শিশুদের অন্যতম বিকাশমূলক বৈকল্য। শিশুদের আচরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হয়। মনোচিকিৎসক লিও কে'কনার এ সমস্যাকে সর্বপ্রথম ১৯৪৩ সালে আলাদা একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং অটিজম নামে অভিহিত করেন। Autism শব্দটি গ্রীক Autos শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ব্যাক্তিদের প্রতি এসব শিশুদের আগ্রহের অভাবের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন।

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোন প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয় এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hearing Impairment)’ বলতে মৃদু থেকে চরম পর্যন্ত যেকোন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায়। এর আওতায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা ও আংশিক মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এ দুই উপ-বিভাগ অন্তর্ভুক্ত (ব্রিল, ম্যকনেইল ও নিউম্যান-১৯৮৬)।

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে