প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

১। সন্তানের প্রসবকাল কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? প্রসবকালীন স্তর, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে লিখ।
২। প্রসব কয় প্রকারের হয়? প্রত্যেক প্রকার প্রসবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।
৩। প্রসবকালীন জটিলতার মধ্যে মস্তিস্কের আঘাত কেন সবচেয়ে ক্ষতিকর? কিভাবে ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়া যায়?
৪। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কি কি বিষয় জানা আবশ্যক, আলোচনা কর।

প্রসবের প্রস্তুতি ও নিরাপদ মাতৃত্ব

নানাদিক দিয়ে প্রসবকালীন সময় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা না হলে, রোগ সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি মা ও শিশু উভয়েরই জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। প্রসবকালীন সময়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানা আবশ্যক যা নিরাপদ মাতৃত্বকে প্রভাবিত করে। এসব বিষয়গুলো হচ্ছে-

১। প্রসবের বিভিন্ন ধাপে সতর্ক থাকা : ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে প্রসব বেদনা ও প্রসবকাল স্থায়ী হলে মা ও শিশু উভয়েই ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। গর্ভফুল ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও স্বাস্থ্যহানি হয়। জরায়ুর মুখ ১২-২০ ঘন্টার মধ্যে প্রসারিত হবে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। এর বেশি সময় হলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

২। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা অব্যাহত রাখা : সুস্থ মায়ের দেহের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। প্রসবকালে তাপমাত্রা বাড়লে, রক্ত ও পানির অব্যাহত ক্ষরণ থাকলে, রক্তচাপ কমে বা বেড়ে গেলে, নাড়ীর গতি বেড়ে গেলে “maternal distress”-এর লক্ষণাদি দেখা দেয়। মায়ের খিঁচুনী হলে বা অসুস্থ, অজ্ঞান হয়ে পড়লে, তাড়াতাড়ি চিকিৎসার প্রয়োজন।

প্রসবকালে শিশুর হৃদপিণ্ডের গতি ও শিশুর অবস্থানের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। স্বাভাবিক গতি প্রতি মিনিটে ১২০-১৬০ হতে পারে। তবে জরায়ুর সংকোচনের সময় এই গতি কিছুটা কমে। যদি হৃদপিণ্ডের বিট প্রতি মিনিটে ১৬০-এর বেশি অথবা ১২০-এর কম থাকে, তাহলে ভ্রুণের অবস্থা সংকটজনক বলে ধরা হয়। দুই সংকোচনের মাঝে হৃদপিণ্ডের শব্দ যদি ১-২ মিনিটেও না শোনা যায়, তাহলে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন হয়।

৩। প্রসবকালীন সময়ে যে সকল কাজ করা উচিত সেগুলো হচ্ছে-
(ক) প্রসবের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।
(খ) প্রসবকালীন সময়ে মূত্রথলি খালি রাখা। প্রসবের আগে মলমূত্র ত্যাগ করানো।
(গ) ভ্রুণের হৃদস্পন্দন এবং মায়ের নাড়ীর গতি ও দেহের তাপমাত্রা মনিটর করা।
(ঘ) মায়ের তলপেটে ব্যাথা এবং রক্তক্ষরণ পর্যবেক্ষণ করা।
(ঙ) ভ্রুণের মাথার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা এবং জরায়ুর মুখের প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করা।
(চ) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুর আশু পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
(চ) গর্ভফুল ও অন্যান্য পদার্থের সুষ্ঠু বর্জন, যাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (post partum haemorrhage) না হয়।

৪। মায়ের দেহে পানির ঘাটতি : প্রসবকালে অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লেশে মায়ের দেহে পানির ঘাটতি হতে পারে। পানি স্বল্পতায় মায়ের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাই প্রতি ঘন্টায় ১ কাপ চিনির সরবত, ফলের রস, ডাবের পানি প্রভৃতি পানীয় মায়ের শক্তি বাড়াতে সহায়ক। মায়ের ক্ষুধা পেলে, আধা তরল সহজপাচ্য খাবার দেওয়া যায়। প্রসবকালে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর প্রস্রাব করানো ভাল।

৫। সদ্যপ্রসূত শিশু ও মায়ের সুস্থতা রক্ষা : সদ্যপ্রসূত শিশু ও মায়ের সুস্থতা রক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শিশুর মাথা বের হওয়ার অল্প পরেই গোটা দেহটা বের হয়ে আসে। অনেক মায়ের যোনীপথ ছিঁড়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ হয়। ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এই স্থানে জীবাণুনাশক ক্রীম দেয়া উচিত। হাসপাতালে এই স্থানে সেলাই করা হয়। জন্মের পরপরই শিশুর নাভিরজ্জু চেপ্টা ও নীলচে দেখায় এবং ধুক্‌ ধুক্‌ (pulsate) করে। যখন গর্ভফুল জরুয়ু হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন নাভিরজ্জু চিকন ও সাদা হয়। এই সময়ে জীবাণুমুক্ত যন্ত্র দ্বারা নাভিরজ্জু কাটা হয়।

৬। জীবাণুমুক্ত পরিবেশে প্রসব : ডাক্তার, নার্স, ধাত্রী যিনিই প্রসবকালীন সময়ে মাকে পরিচর্যা করেন, তাকে অবশ্যই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা পালন করতে হবে। প্রসবে ব্যবহৃত চাদর, তোয়ালে, ন্যাপকিন, যন্ত্রপাতি, বালতি, মগ ও অন্যান্য তৈজসপত্র জীবাণুমুক্ত থাকতে হবে। পানিতে ফুটানো, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা জিনিসপত্র ব্যবহার করা উচিত। পরিচর্যাকারীরা সুস্থ ও তাদের যেন কোন সংক্রামক রোগ না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ প্রসবকালীন অবস্থায় সহজেই রোগ জীবাণু মা ও শিশুকে সংক্রামিত করে।

প্রসব নিরাপদ ও জটিলমুক্ত রাখা : প্রসব নিরাপদ ও জটিলমুক্ত রাখতে হলে তিনটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এগুলো হচ্ছে- support, guide এবং guard. প্রসূতি মাকে ভরসা ও সাহস দিতে হবে। বিশেষ করে অল্পবয়সী, নতুন মাকে প্রসবে সহযোগিতা করার জন্য একজন ধৈর্যশীল, অভিজ্ঞ নার্স বা ধাত্রীর প্রয়োজন।

প্রসবকালে মাকে রক্ষা করা আবশ্যক। পরিবারের অন্যান্য সদস্য যেন অহেতুক ঝামেলা না করে এবং কোন রকম কুসংস্কার জনিত কর্মকান্ড হতে বিরত থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রসূতি মাকে একভাবে শোয়ানো অবস্থায় না রেখে, অবস্থান পরিবর্তন করা দরকার। মাকে সময়মত বেগ দিতে উৎসাহিত করা উচিত। জরায়ুর দুই সংকোচনের মাঝে দীর্ঘ নিঃশ্বাস গ্রহণ করে অক্সিজেনের সরবরাহ অব্যাহত রাখা দরকার। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে ১ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে মা যদি বেগ দিতে থাকে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা না যায়, তাহলে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে গর্ভফুল ও নাভিরজ্জু বের হয়, তবে এই সময়ে মাকে আবারও কিছুটা বেগ দিতে হয়। একে “after birth” বলে। খেয়াল রাখতে হবে যে গর্ভফুল যেন ছিঁড়ে না যায় বা এর কোন অংশ জরায়ুতে না থাকে। পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ বা রোগ সংক্রমণে মায়ের স্বাস্থ্যহানি হয়।

প্রসবের পর মা ও শিশু উভয়কেই আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে একটু গরম কাপড়ে ঢেকে রাখলে আরামবোধ হয়। বর্তমানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই শিশুকে মায়ের স্তন চুষতে দেওয়া হয়। এতে মায়ের বুকে দুধ আসে ও জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত হয়।

প্রসবকাল বা শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় নির্ধারণ

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঠিক সময় নানাভাবে নির্ধারণ করা যায়। এ সময়ের কিছুদিন আগে বা কিছুদিন পরেও শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে। সাধারণত মায়ের ঋতুচক্রের প্রথম দিন হতে (প্রত্যেক ঋতুচক্রকে ২৮ দিন ধরা হয়) ২৮০ দিন পর্যন্ত সময়কে গর্ভকালীন সময় ধরা হয় এবং এর পরেই শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ধার্য করা হয়। অর্থাৎ এ হিসেবে শিশুর গর্ভকালীন সময়কে ৪০ সপ্তাহ অথবা ১০ মাস ধরা হয়। এছাড়াও শিশুর প্রথম নড়াচড়া হতে তার গর্ভকালীন বয়স আন্দাজ করা হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাস হতে ভ্রুণের নড়াচড়া অনুভূত হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে আল্ট্রাসনোগ্রাফ ও এক্স-রের মাধ্যমে ভ্রুণের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা হয়, তবে এ দুটো পদ্ধতি নেহায়েত প্রয়োজন না হলে করা হয় না।

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার নির্ধারিত সময় সীমার ১-২ সপ্তাহ পূর্ব হতে প্রসবের লক্ষণাদি পরিলক্ষিত হয়। জন্মপূর্ব বর্ধনের তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের অন্তিমে শিশু জন্ম প্রস্তুতি নিতে আরম্ভ করে। শিশুর মাথা জরায়ুর নিচে নামার ফলে মায়ের মূত্রথলির উপর চাপ পড়ে এবং ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ দেখা দেয়। কখনও কখনও মায়ের জরায়ু হতে স্বচ্ছ পিচ্ছিল পদার্থও নির্গত হয় এবং জরায়ুর সংকোচনে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়। এ সময়ে এ রকম বেদনা প্রকৃত প্রসব বেদনা নাও হতে পারে। তাই সত্যিকারভাবে আসন্ন প্রসবকাল নিচের লক্ষণগুলো উপস্থিতির মাধ্যমেই যাচাই করা হয়। মনে রাখতে হবে যে, এসব লক্ষণের প্রকাশ ও মাত্রা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ভিন্ন হতে পারে, এবং এ লক্ষণগুলো একসাথে বা পর্যায়ক্রমে দেখা দিতে পারে।

(ক) জরায়ুর মুখে যে শ্লেষ্মার ছিপি থাকে, তা জরায়ুর মুখ খুলে যাবার ফলে ঢিলে হয়ে পড়ে এবং রক্তমিশ্রিত শ্লেষ্মা নির্গত হতে থাকে।
(খ) জরায়ুর সংকোচনের ফলে ব্যাথার মাত্রা (যাকে “Braxton Hicks Contractions” বলে) বাড়তে থাকে। এ ব্যথা ক্রমান্বয়ে ঘন ঘন অনুভূত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
(গ) জরায়ুতে শিশুর চারধারে যে পানির চাকা বা amniotic fluid থাকে, তা ফেটে যেতে পারে এবং পানির মত স্বচ্ছ পদার্থ নির্গত হতে পারে। এ পিচ্ছিল পদার্থ শিশুকে ভূমিষ্ঠ হতে সহায়তা করে। অনেক সময় জরায়ুর সংকোচন হয়, অথচ পানির চাক ফাটে না, সেক্ষেত্রে সূঁচের মত অস্ত্র দ্বারা এটা ফাটানো হয়। একবার পানির চাক বা রক্তস্রাব আরম্ভ হলে, জরায়ু জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি, তাই আজকাল চিকিৎসকেরা ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মাকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে।

প্রসবের ধাপ (Stages of Labour)

উপরের লক্ষণগুলো পর্যালোচনা করে প্রকৃত প্রসবকাল নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসবকালকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে; যথা-
১। Stage of dilation, ২। Stage of expulsion ও ৩। The placental stage.

(১) প্রথম স্তরে জরায়ুর প্রসারণ ঘটে। এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়, এমনকি ১০-১৪ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ স্তরে জরায়ুর সংকোচনের সাথে জরায়ুর মুখ প্রসারিত হতে থাকে। ক্রমে সংকোচন তীব্রতর হয় এবং কোমরে ও নিচে অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। এ পর্বের শেষে অর্থাৎ যখন সংকোচনের আবির্ভাব প্রতি ৩ হতে ৫ মিনিটের মধ্যে ঘটে, তখন মাকে ধীরে ধীরে দীর্ঘশ্বাস নেয়া ও সন্তানকে ভূমিষ্ঠ করানোর জন্য নিচের দিকে চাপ দেবার প্রয়োজন হয়। এ সময় ভয়ভীতি পেলে বা উত্তেজিত হলে এ পর্ব আরও বিলম্বিত হতে পারে এবং মা ও শিশু উভয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ স্তরের শেষে জরুয়ুর মুখ ৮-১০ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। দুই সংকোচনের মাঝে যেটুকু সময় বিরতি হয়, সেই সময়ে মাকে শ্বাস টেনে শিশুর দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করা প্রয়োজন। প্রসবকালে এ স্তর সম্পর্কে জানা থাকলে অনেক মায়ের পক্ষে এটা মোকাবেলা করতে সহজ হয়। সংকোচনের সময় যথাসম্ভব শ্বাস-প্রশ্বাস ও দেহটা স্বাভাবিক রাখা একান্তই আবশ্যক। এতে শিশু মায়ের সহযোগিতায় সহজে ভূমিষ্ঠ হতে পারবে।

(২) প্রসবের দ্বিতীয় স্তরে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। এ স্তরে যদিও ঘন ঘন জরায়ুতে সংকোচন হয় না, তবুও এক একটি সংকোচন বেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়। জরায়ুর মুখ প্রসারণের ফলে শিশুর মাথা নিচের দিকে যোনীপথে নামতে থাকে যাকে “crowning” বলে। এ সাথে পিঠের নিচে ও গুহ্যদ্বারে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং মাকে শ্বাস টেনে শিশুকে ঠেলে দেবার প্রয়োজন হয়। অনেক চিকিৎসকেরা এ সময় ধারালো অস্ত্র দ্বারা মায়ের যোনীপথের আশ-পাশের চামড়া ও কলা কেটে দেন (একে episioitomy বলে) যাতে শিশুর মাথা নির্বিঘ্নে ভূমিষ্ঠ হতে পারে। এ কাটা স্থান পরে সেলাই করা হয়। শিশুর মাথা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই শিশুর কাঁধ ও গোটা দেহটা বের হয়ে পড়ে। প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় দীর্ঘ হয় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তানের বেরাতে এ সময় আরও সংক্ষিপ্ত হয়। এছাড়াও জরায়ুর নিচে শিশুর মাথার পরিবর্তে যদি শিশুর পাছা বা পা অবস্থান করে তাহলে প্রসবকাল (breech presentation) আরও দীর্ঘ ও কষ্টকর হয়।

অনেক শিশু প্রথমবারের মত কেঁদে ওঠে যাকে “first cry” বলে। শিশুর নাভিরজ্জু কাটা হয়, শিশুর চোখ, নাক ও মুখ হতে শ্লেষ্মা পরিষ্কার করা হয়। এই সময়ে শিশুকে কাপড় জড়িয়ে গরম রাখা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, শিশুর রক্তসঞ্চালন আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথেই নাভিরজ্জু কাটা উচিত।

(৩) তৃতীয় ও শেষ স্তরে জরায়ুর মধ্যে অবস্থিত ফুল ভূমিষ্ঠ হয়। অনেক সময় মাকে এটা ভূমিষ্ঠ করানোর জন্য চাপ দিতে হয়। জরায়ুর আকার অনেকটা চুপসে যাওয়া বেলুনের মত হয়।

প্রসবের প্রকারভেদ (Types of Birth)

কয়েকভাবে শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে। প্রসবকালীন সময় দীর্ঘস্থায়ী হলে অথবা শিশুর অবস্থানে কোন পরিবর্তন হলে বিকল্প জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। কিভাবে শিশুকে প্রসব করানো হয়েছে এবং তার প্রভাব কি হয় এ সম্পর্কে অনেক গবেষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার প্রসব সম্পর্কে সব মায়েরই কিছু ধারণা থাকা আবশ্যক। এগুলো নিচে দেয়া হল।

১। স্বাভাবিক প্রসব (Natural birth) : সাধারণত শতকরা ৯০ ভাগ শিশু মায়ের জরায়ু হতে যোনীপথ ও জন্মনালীর (birth canal) ভেতর দিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। শিশুর মাথা জরায়ুর নিচের দিকে অবস্থান করে এবং প্রসবকালে প্রথমে মাথা ও পরে ধড় ও গোটা দেহটা বের হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে স্বাভাবিক প্রসবে মা ও শিশু উভয়েই প্রসবকালীন ক্লেশ, প্রচেষ্টা, উত্তেজনা ও আনন্দ ইত্যাদি অভিজ্ঞতা লাভ করে। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে শিশুকে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে প্রভাবিত করে।

২। যন্ত্র দ্বারা প্রসব (Instrumental birth) : প্রসবকালীন সময় যত দীর্ঘ ও বিলম্বিত হয়, প্রসবে ততই জটিলতা দেখা দেয় এবং শিশুর জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুর মাথা বড় হলে অথবা শিশুর মাথা স্বাভাবিক সংকোচনের ফলে জরায়ুর নিচে না নামলে, যন্ত্র দ্বারা শিশুকে ভূমিষ্ঠ করা হয়। এক ধরনের চ্যাপ্টা চিম্‌টা (forceps) দিয়ে শিশুর মাথা আটকিয়ে এবং আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে শিশুকে বের করা হয়।

Forceps-এর ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হয়, কারণ high forceps-এ মায়ের জরায়ুর ভেতর হতে শিশুর মাথা টেনে বের করা হয়। এতে শিশুর মাথায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে এসব ঝুঁকি এড়াবার জন্য অপারেশন করা হয়।

৩। ব্রীচ প্রসব (Breech birth) : এক্ষেত্রে শিশুর পেছন দিক, পাছা ও পা মায়ের জরায়ুর নিচের দিকে নামে এবং প্রথমে বের হয়। ব্রীচ প্রসব কষ্টকর, তাই যন্ত্র দ্বারা শিশুকে ভূমিষ্ঠ করানো হয়। ব্রীচ প্রসব সতর্কতার সাথে করানো উচিত এবং কোন অসুবিধা দেখা দিলে অপারেশন করা উচিত।

৪। সিজারিয়ান প্রসব (Caesarian birth) : মায়ের পেটে অপারেশনের মাধ্যমে শিশুকে বের করা হয়। এটি খুবই নিরাপদ, তবে মাকে ওষুধ প্রয়োগ করা হয় বলে মায়ের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং সারতে সময় লাগে। শিশুর জন্মকালীন অভিজ্ঞতা, যাকে “birth trauma” বলে, লাভ হয় না বলে শিশু অনেকটা অক্ষত ও শান্ত থাকে।

শিশুর বিকাশে প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ও শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ে কিছু বিষয়াদির প্রভাবের গুরুত্ব উপলব্ধি করা হচ্ছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ে মায়ের স্বাস্থ্য, প্রসবের প্রকৃতি, শিশুর গর্ভকালীন বয়স, অক্সিজেনের সরবরাহ, ওষুধের প্রভাব প্রভৃতি পরবর্তীতে শিশুর বিকাশে যে প্রভাব ফেলে, তা বিভিন্ন গবেষণা হতে প্রমাণিত হয়েছে। এখানে এরকম কয়েকটি প্রভাবকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

১। ভ্রূণের বয়স ও পরিণতি (Gestational age and maturity) : সাধারণত মায়ের গর্ভে শিশু ৩০-৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে থাকে। তবে ৩০ সপ্তাহের আগে শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তাকে অপরিণত শিশু বলা হয়। এসব শিশুদের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে বেগ পেতে হয়। হজম ক্রিয়া, শ্বসন ক্রিয়া এবং প্রতিবর্তী ক্রিয়াও দুর্বল থাকে। এরা সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। অপরিণত শিশুর দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ঠিকমত কার্যকরী হয় না। এদেরকে ঠাণ্ডা লাগার হাত হতে রক্ষা করা উচিত। ৪০ সপ্তাহের পর যে সব শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তাদেরকে Post mature বলে। এরা ওজনে বেশি ও আকারে বড় হয় এবং পরিবেশের সাতে ভালভাবে খাপ খাওয়াতে পারে।

২। প্রসবের প্রকৃতি : শিশুর বিকাশে প্রসবের প্রভাব সম্পর্কে জানা গেছে। স্বাভাবিকভাবে ‍ও প্রকৃতিগতভাবে মায়ের যোনীপথ (vaginal canal) হতে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুরা সক্রিয় থাকে, কান্নাকাটি করে, হাত পা নাড়ে এবং এদের পরবর্তী ক্রিয়াও বেশ কার্যকর থাকে। সিজারিয়ান প্রসবে শিশুরা জন্মের সংকট উপলব্ধি করে না বলে এরা অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে। তবে প্রসব জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হলে, শিশুর মস্তিষ্কে ক্ষতির সম্ভবনা থাকে, শিশু নিস্তেজ ও দুর্বল হয়ে পড়ে।

৩। Anoxia বা অক্সিজেনের অভাব : প্রসবকালীন যেসব বিষয় শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তার মধ্যে অক্সিজেনের অভাব অন্যতম। জরায়ুর সংকোচনের সময় শিশুর দেহে রক্ত চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়, ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। তবে প্রাকৃতিক নিয়মে এ সংকোচন ৬০-৯০ সেকেণ্ডের বেশি স্থায়ী হয় না এবং দুটো সংকোচনের মাঝে যে ২-১০ ‍মিনিট বিরতি হয়, তাতে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হয়। কখনও কখনও সন্তানের নাভিরজ্জু জরায়ুর মুখ ও সন্তানের দেহের মধ্যখানে চাপা পড়ে এবং তখন অক্সিজেনের সরবরাহ বিশেষভাবে বিঘ্নিত হয়। শিশুর হৃদস্পন্দনের গতি হতে শিশুর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে কি না তা বুঝা যায়। বিশেষ ধরনের stethescope দ্বারা এ গতি নির্ণয় করা হয়। শিশুর স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের গতি প্রতি মিনিটে ১২০ হতে ১৬০ পর্যন্ত হয়। অক্সিজেনের অভাবে এ গতি সাময়িকভাবে বেড়ে ১৮০ পর্যন্ত উঠতে পারে, তবে অক্সিজেনের অভাব চলতে থাকলে এ গতি কমে আসে এবং এ গতি যদি ১০০-এর নিচে আসে তাহলে শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক ভাবা উচিত এবং কালবিলম্ব না করে শিশুকে খুব তাড়াতাড়ি ভূমিষ্ঠ করানো উচিত। দেখা গেছে যে অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মস্তিস্কের যে ক্ষতি হয়, তা স্থায়ী হয়। এসব শিশু বেঁচে থাকলেও তাদের অঙ্গসঞ্চালন ক্ষমতা ও মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ তারা সারাজীবনের জন্য পরিবারের ও সমাজের বোঝা হয়ে পড়ে।

অপরিণত শিশু বা premature infant-এর ভূমিষ্ঠকালে অক্সিজেনের সরবরাহের উপর বিশেষ জোর দেয়া উচিত। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব শিশু দুর্বল হয়ে থাকে। আবার ভূমিষ্ঠ হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ২-৩ সপ্তাহ পরে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করে (post-mature) তাদের বেলাতেও এ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থার সময় পূর্ণ হলে গর্ভফুল বা placenta-এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে এবং কখনও কখনও জরায়ুর গা হতে খসে পড়ে, যদিও শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। এ অবস্থায় শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই আজকাল চিকিৎসকেরা নির্ধারিত সময়সীমার দুই সপ্তাহের মধ্যেই শিশুকে ভূমিষ্ঠ করার উপদেশ দেন।

৪। ওষুধের প্রভাব : প্রসবকালে মায়ের দেহে যে কোন ওষুধ শিশুর দেহে প্রবেশ করে। শিশুর দেহে ওষুধের প্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে আজকাল অনেক তথ্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। মায়ের বেদনা ও উত্তেজনা উপশমের জন্য অনেক সময় sedative বা নিস্তেজ জাতীয় ড্রাগ দেয়া হয়। অতিরিক্ত নিস্তেজকের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ শিশুর হৃদস্পন্দনের গতির পরিবর্তন হতে দেখা গেছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এসব শিশু বেশ কিছুদিন পর্যন্ত নিস্তেজ থাকতে দেখা গেছে। এসব শিশুকে খাওয়ানো বেশ কষ্টকর হয় এবং পরবর্তীকালে এসব শিশু ৪, ৮ ও ১২ মাস বয়সেও অন্যান্য শিশুদের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। ওষুধের প্রভাবে এসব শিশুরা পারিপার্শ্বিকতার প্রতি অসাড় এবং নিষ্ক্রিয় থাকতেও দেখা গেছে।

৫। মস্তিস্কের আকার : শিশুর মস্তিষ্কে আটটি নরম পাতলা হাড়ের থালা বা plate অস্থিবৎ ঝিল্লী দ্বারা যুক্ত থাকে। প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচনে এ হাড়ের থালা অবস্থানচ্যুত হয়ে একটার ওপর আরেকটা এসে পড়ে। ফলে অনেক সময় শিশুর মাথা চ্যাপ্টা বা লম্বাটে হয়ে পড়ে। এটা স্বাভাবিক বলে ধরা হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে মাথার আকার ঠিক হয়ে যায়। যদি প্রসবকাল বিলম্বিত হয় এবং সন্তানের মাথা জন্মনালীতে আটকা পড়ে, তবে মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষতির আশঙ্কা অপরিণত শিশুর বেলাতে বেশি হয়। প্রসবকালে এসব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখা আবশ্যক, সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

প্রসবকালীন সময়ে শিশুর মস্তিস্কের আঘাত

প্রসবকালীন সময়ে মস্তিস্কের কোন আঘাতের প্রভাব যে কত ক্ষতিকর, তা বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হতে প্রমাণিত হয়েছে। প্রসবকালে শিশুর মস্তিষ্কে যাতে কোন রকম আঘাত বা ক্ষতি না হয়, তার জন্য বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন আছে। এ কারণে মস্তিস্কের আঘাত সম্পর্কে আলাদাভাবে আলোচনা করা হচ্ছে, যা সব অবিভাবকের জানা একান্ত আবশ্যক। “Brain damage is so harmful that the hereditary potentials of a child may never be reached.” মস্তিস্কের আঘাত শিশুকে কোন না কোন ভাবে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়।

মস্তিস্কের আঘাত দু'ভাবে হতে পারে। প্রসবকালীন সময়ে মাথায় অতিরিক্ত চাপের ফলে আঘাত লাগতে পারে। মায়ের জরায়ুর অপর্যাপ্ত সম্প্রসারণ, জটিল প্রসব, দীর্ঘমেয়াদী প্রসব, ফরসেপ্‌ দ্বারা প্রসব প্রভৃতিতে শিশুর মাথায় আঘাত লাগা খুবই স্বাভাবিক। মাথায় চাপ বেশি হলে মস্তিস্কের ভেতর রক্তক্ষরণ হয় এবং তা বেশি হলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসাধন হয়। মস্তিস্কের যে স্থানে আঘাত লেগেছে, তার প্রতিক্রিয়াও পরে পরিলক্ষিত হয়। বামপাশে আঘাত লাগলে ভাষা ও কথা বলায় ত্রুটি দেখা যায়।

আঘাত ছাড়াও মস্তিস্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবেও (anoxia) ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অভাবের তীব্রতার উপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। ১৮ সেকেন্ড অক্সিজেনের অভাব হলে সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক নষ্ট হয়। এর বেশি সময় হলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। শিশুর দেহে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলেই অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। গর্ভফুল বিচ্ছিন্ন হরে অথবা নাভিরজ্জু পেঁচানো থাকলে, প্রসবকালীন সময়ে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে।

ব্রীচ প্রসবে শিশুর পাছা, নিতম্ব এবং পা প্রথমে জন্মনালী (birth canal)-তে প্রবেশ করে এবং এভাবে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। এই ধরনের প্রসবে অক্সিজেনের অভাবের সম্ভবনা বেশি হয়। ব্রীচ প্রসবের ফলে অনেক শিশুর মধ্যে মৃগী রোগ বা (epilepsy) দেখা দেয়। এক্ষেত্রে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে শিশুকে ভূমিষ্ঠ করানো উচিত। তড়িঘড়ি করে যন্ত্র দিয়ে প্রসব করালেও অক্সিজেনের অভাব হতে পারে, কারণ ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছু পরেই শিশু তার নিজস্ব শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। এর আগে মায়ের দেহ হতে শিশুকে বিচ্ছিন্ন করা হলে অক্সিজেনের ঘাটতি হতে পারে।

মস্তিস্কের ক্ষতিকর প্রভাব বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। কারও মধ্যে জন্মাবার কিছুকাল পর আবারো কারও মধ্যে ৯-১০ বছর পরেও এই ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়। অল্প ক্ষতিতে শিশু অতিরিক্ত অস্থির, খিটখিটে এবং স্পর্শকাতর হয়। ক্ষতি বেশি হলে, শিশু প্রতিবন্ধীও হতে পারে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে শিশুর অবস্থান সনাক্ত করা হয় এবং কি ধরনের প্রসব ব্যবস্থা নিতে হবে তাও নির্ধারণ করা হয়। তাই প্রত্যেক বাবা-মা ও অভিভাবকের উচিত গর্ভবতী মাকে নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করানো, যাতে প্রসবে জটিলতা না আসে এবং সময়মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া যায়।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন

১। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আলোচনা কর। মায়ের অপুষ্টিতে সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে?
২। গর্ভকালীন সময়ে কয়েকটি পরীক্ষা বর্ণনা কর।
৩। গর্ভকালীন “ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা” ও কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়- বুঝিয়ে লিখ।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা

১। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত তা আলোচনা কর?
২। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আলোচনা কর।
৩। নবজাত শিশুর কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলে ধর। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবে?
৪। অপরিণত শিশু কাকে বলে? অপরিণত শিশুর কয়েকটি সমস্যার উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।
৫। APGAR-স্কোর সম্পর্কে আলোচনা কর। এর গুরুত্ব কি?

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা বিস্তারিত এখানে পড়ুন

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

শিশু জন্মের পর তার কি ধরনের পরিচর্যা করতে হয়? এ ব‌্যাপারে আমরা অনেকেই জানিনা। শিশু জন্মের পর তার সঠিক পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ‌্যের যত্ন, শিশুর কাপড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, শিশুর ঘুমানোর নিয়ম, শিশুর মলত‌্যাগ করার নিয়ম, শিশুর দাঁত পরিষ্কার করা ইত‌্যাদি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই সচেতন মা-বাবা হিসেবে প্রত‌্যেক পিতা-মাতার শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ। নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? নবজাতকের খাবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

অটিজম শিশুদের অন্যতম বিকাশমূলক বৈকল্য। শিশুদের আচরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হয়। মনোচিকিৎসক লিও কে'কনার এ সমস্যাকে সর্বপ্রথম ১৯৪৩ সালে আলাদা একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং অটিজম নামে অভিহিত করেন। Autism শব্দটি গ্রীক Autos শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ব্যাক্তিদের প্রতি এসব শিশুদের আগ্রহের অভাবের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন।

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

চেখের গঠন বা কার্যকারিতার ত্রুটির কারণে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতার সে পরিমাণ ক্ষতিকে বুঝায় যেক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না (ব্যারাগা ১৯৮৩)।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোন প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয় এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hearing Impairment)’ বলতে মৃদু থেকে চরম পর্যন্ত যেকোন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায়। এর আওতায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা ও আংশিক মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এ দুই উপ-বিভাগ অন্তর্ভুক্ত (ব্রিল, ম্যকনেইল ও নিউম্যান-১৯৮৬)।

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে
Document