শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন করতে যা করণীয়

আজকাল শিশুদের লালন পালনের জন‌্য শিশু স্বাস্থ‌্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যায়। কেন্দ্রের ডাক্তারগণ যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে পরামর্শ দেন এবং রোগ বালাই সহ যে কোন সমস‌্যায় পাশে দাঁড়ান।

শিশু লালন পালন করতে যা করণীয়

শিশুর জন্মের পর মায়ের বুকের শাল দুধ অবশ‌্যই খাওয়াবেন। মায়ের দুধ ফেলা যাবে না। শিশু দিনে যতবার খেতে চায় ততবারই বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। এতে শিশুর জন‌্য পরিপূর্ণ পুষ্টির ব‌্যবস্থা রয়েছে। শিশু দুধ চুষে খেতে না চাইলে জোর করে খাওয়ানোর দরকার নেই। দুধ চামচ দিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক দুই হতে আড়াই বছর পর্যন্ত দুধ পান করতে বলা হয়েছে।

মা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর জন‌্য স্তনের বোটার উপরের যতটা অংশ শিশুর মুখের মধ‌্যে দেয়া সম্ভব হবে ততটুকুই তার মুখে দিবে। সে দুধ চুষতে চুষতে আস্তে করে ছেড়ে এসে বোটা চুষবে এবং দুধের স্বাদ পাবে। মা কিছুতেই প্রথমে শুধু বোটা মুখে দেবেন না। স্তনের কিছু অংশ সহ শিশুর মুখে দিলে দুধ পান করার ব‌্যাপারে শিশুর স্পৃহা ও রুচি বাড়ে। এতে বারবার খেতে চাইবে।

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়

শিশুদের যত্নের কথা উঠলে তার মায়ের কথা আগে এসে যায়। শিশুর মা যিনি হবেন তাকে হতে হবে রুচিশীল, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত স্বভাবের। তাহলেই শিশু তার মাকে দেখে সমস্ত কিছু শিখতে পারবে।

প্রথমেই শিশুর খাবারের বিষয়টি এসে যায়। শিশুকে খাওয়ানোর সময় মাকে তার হাত পরিষ্কার করতে হবে। শিশু বুকের দুধ পান করলে প্রতিবারই দুধ পান করানোর আগে স্তন ধুয়ে নিতে হবে। তারপর শিশুকে যখন সুজি, সাবু দানা, সবজি খিচুড়ি ইত‌্যাদি খাওয়াতে হবে তখন তার ব‌্যবহারের প্লেট, গ্লাস, চামচ ইত‌্যাদি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

শিশু যখন খুব ছোট থাকে তখন মাঝে মাঝে কেঁদে ওঠে, এটা মাকে বুঝতে হবে যে সে কি কারণে কাঁদছে, ক্ষুদার জন‌্য নাকি অন‌্য কোন সমস‌্যা আছে। যদি ক্ষুধার জন‌্য হয় তাহলে তাকে খেতে দিতে হবে। আর রোগের জন‌্য হলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তারপর আসে শিশুর ঘুমের বিষয়টি। শিশুকে ঘুমানোর জন‌্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পূর্ণ খোলামেলা ঘর হতে হবে। ঘরটি কোন অবস্থাতেই স‌্যাঁতসেঁতে হবে না। শিশুর বিছানা খুব নরমও হবে না আবার খুব শক্তও হবে না। শিশু বেলায় সন্তান বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকে, এতে চিন্তার কোন কারণ নেই। মাঝে মাঝে জেগে উঠলে তাকে খাবার দিতে হবে। বেশি কান্নাকাটি করলে কান্নার কারণ উদঘাটন করতে হবে।

শিশুকে সবসময় আবহাওয়া উপযোগী পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে। কোন সময় উলঙ্গ রাখা ঠিক হবে না। পোশাক হবে নরম। শীতের সময় শীতের পোশাক আর গরমের সময় পাতলা পোশাক। শিশুর পোষাক অবশ‌্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। কোন অবস্থাতেই শিশুকে ময়লা পোশাক পরিধান করানো যাবে না।

শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি

শিশুর স্বাভাবিক শিক্ষা খুবই আশ্চর্যজনক। শিশু নিজ থেকেই যে শিক্ষা পায়, তাকেই স্বাভাবিক শিক্ষা বলে। স্বভাব বা প্রকৃতি তাকে তার আবশ‌্যকীয় শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা-তৃষ্ণাই এর উদাহরণ। এছাড়াও শিশুর হাসি-কান্নাও একটি স্বভাব শিক্ষা।

পিতা-মাতার উপর গুরু দায়িত্ব হল প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষা প্রদান করা। কোরআন হাদীসে শিক্ষার ব‌্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের (সাঃ) উপর সর্বপ্রথম যে ওহী পাঠিয়েছেন সেখানে প্রথম কথা হল, "পড়"। আরবিতে একটি প্রবাদ আছে- যার অর্থ হল মায়ের কোল হলো সন্তানের জন‌্য উত্তম মাদ্রাসা। শৈশবকালে মাকেই তার শিশুকে সুুশিক্ষা প্রদান করিয়ে তার চরিত্র গঠনে সহযোগিতা করতে হবে। তাদের কোমল হৃদয়ে যে শিক্ষা দেয়া হবে, ভবিষ‌্যৎ জীবনে তাই হবে তার পাথেয়। অতএব, শিশুকে আদর্শবান নাগরিক করে গড়ে তুলতে চাইলে মাকেই এজন‌্য বেশির ভাগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। আজকের শিশুই আগামীতে দেশের সুনাগরিক হয়ে সমাজ ও জাতির খেদমত করবে।

শিশু যখন তার কচি মুখে দাদ্দা, নান্না, মাম্মা, বাবা, চাচ্চা বলতে শুরু করবে, তখন হতেই পিতা-মাতা তাকে শুদ্ধভাবে দাদা, নানা, মা, বাবা, চাচা ইত‌্যাদি বলতে শিক্ষা দিবে। আর এ সময় হতেই শিশুকে শুদ্ধ ও মিষ্টি ভাষা এবং আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়া দরকার।

শিশুদের জন‌্য শৈশবকালই হলো সুশিক্ষা লাভের একমাত্র উপযুক্ত সময়। এ বয়সে শিশুরা সুশিক্ষা না পেলে বড় হলে তারা অসৎ হয়ে থাকে এবং তা তার সমস্ত জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে তারা যৌবনকালে এবং বৃদ্ধাবস্থায়ও অসভ‌্য হয়ে থাকে। শিশুকে সবসময় সত‌্য কথা বলতে শিক্ষা দিতে হবে। এই শিক্ষা দিতে গিয়ে নিজেকেও তার সঙ্গে সব সময় সত‌্য কথা বলতে হবে। আর মিথ‌্যা বলতে নিষেধ করতে হবে। শিশু সন্তানের মুখে কোন অশ্লীল বাক‌্য বা মিথ‌্যা কথা শোনামাত্র মা তাকে আদরের সঙ্গে ‍বুঝিয়ে বলবে যে, সোনামনি আর কোন সময় মিথ‌্যা কথা বলবে না বা খারাপ ভাষা ব‌্যবহার করবে না। কিংবা কাউকেই গালি দিবে না। এগুলো করলে পাপ কাজ করা হয়। আল্লাহ তাআলা মিথ‌্যাবাদীকে ঘৃণা করেন। আর শিশুদেরকে এটাও শিক্ষা দিতে হবে যে, কারো কোন জিনিস বা খাদ‌্যদ্রব‌্য তাকে না বলে নিবে না বা খাওয়া যাবে না। এতে চুরি করার মতো অপরাধ হয়। যা আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না, ফলে কিয়ামতে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। শিশুদেরকে অসৎ ও দুষ্ট ছেলে-মেয়ের সঙ্গে উঠা-বসা করতে দেয়া উচিৎ নয়। কৌশলে এ থেকে তাকে ফিরিয়ে রাখতে হবে। সব সময় সৎ স্বভাব ও ভদ্র ছেলে-মেয়েদের সাথে মেলামেশা, উঠা-বসা ও খেলাধূলা করতে দেয়া প্রয়োজন।

শিশুর আদব-কায়দা কি

ছোটবেলা থেকেই ছেলে-মেয়েদেরকে আদব-কায়দা ও উত্তম ব‌্যবহার শিক্ষা দেয়ার উপযুক্ত সময়। এই সময় তাদেরকে আদব-কায়দা ও সদ্ব‌্যবহার শিক্ষা দিতে হবে। মুরব্বীদের সঙ্গে কথা-বার্তা বলা শিখাতে হবে। বিভাবে তাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হয়, কেমন করে তাদেরকে সালাম করবে ও তাদের সঙ্গে কিরূপ ব‌্যবহার করবে এই সকল বিষয় মাতা-পিতাকেই শিক্ষা দিতে হয়।

সন্তান যেন কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ, খারাপ ব‌্যবহার বা বেয়াদবি না করে সে দিকে পিতা-মাতাকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদেরকে বেশি করে খাওয়া-দাওয়া করাবেন না বা তাদের অন‌্যায় আবদার মত এটা, ওটা খেতে দিবেন না। আর যা চাইবে তাই খেতে দিবেন না, বরং পরিমাণ মত খাদ‌্য গ্রহণ করাবেন। মা তাদেরকে যখন যা খেতে দিবে তা খেয়েই তৃপ্তি লাভ করে শিশু বয়স হতে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। সন্তানের স্বাস্থ‌্যের প্রতি লক্ষ‌্য রেখে যখন যে খাদ‌্যের প্রয়োজন তখন সে খাদ‌্য খাওয়াবেন।

সন্তানকে সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পাক-পবিত্র থাকতে শিক্ষা দিবেন। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোষাকের ব‌্যবস্থা করবেন। অতিরিক্ত দামী পোষাক পরিধানের অভ‌্যাস মোটেই করাবেন না, কারণ এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। আল্লাহ না করুন যদি অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয় তা হলে ঝামেলায় পড়তে হবে। মেয়েদেরকে ছোটবেলা হতে ওড়না ব‌্যবহারে অভ‌্যস্থ করাবেন, বড় হলে বোরখার ব‌্যবস্থা করবেন। সন্তান যাতে কোন জিনিসের ব‌্যাপারে অতিরিক্ত আবদার না করে বা অন‌্যায়ভাবে জেন না ধরে সে দিকে বিশেষভাবে লক্ষ‌্য রাখবেন। স্নেহের বসবর্তী হয়ে তাদের সব রকম আব্দার পূরণ করবেন না। এতে তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে। তবে প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ‌্য রেখে সে প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করবেন। পিতা-মাতার সামর্থ‌্য থাকা অবস্থায় সন্তানের সকল আবদার রক্ষা করতে থাকলে এতে ছেলে-মেয়েরা সৌখিন প্রিয় হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ‌্যৎ জীবনে তারা মিতব‌্যায়ী হবে না। সন্তানদেরকে ইসলামিক পোষাক-পরিচ্ছদ ব‌্যবহার করতে অভ‌্যস্ত করবেন। তাদের আবদারের প্রেক্ষিতে চুল অতিরিক্ত লম্বা রাখতে দিবেন না। এটা ভদ্রতার খেলাপ। মুসলমানদের রীতি-নীতি অনুযায়ী তাদেরকে চালাতে চেষ্টা করবেন।

ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে দিয়ে গরীব-মিসকীনদেরকে দান খয়রাত দেওয়ার অভ‌্যাস করাবেন। তাতে শিশুকাল হতেই তাদের মনে দান খয়রাত করার আগ্রহ তৈরি বা সৃষ্টি হবে।

শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন?

বেবী ন‌্যাপকিনঃ বেশির ভাগ মা-ই নবজাতক শিশুর জন‌্য ছোট ত্রিকোণ বিশিষ্ট‌্য ন‌্যাপকিন তৈরি করেন। কিন্তু এগুলো খুবই অনুপযোগী। এতে প্রয়োজনীয় জায়গা উপযুক্তভাবে ঢাকা যায় না। এই ধরনের ন‌্যাপকিনের পাতলা আস্তরণ শিশুর প্রস্রাব শুষে নিতেও পারে না। অনেক সময় ঐ ত্রিকোণ ছোট ন‌্যাপকিনে শিশুর কুঁচকি কেটে যায়। যথেষ্ট পরিমাণে পুরানো কাপড় শিশুর ব‌্যবহারের জন‌্য সরবরাহ করা শুধু ভালই নয়, সবচেয়ে ভাল। তা না হলে ন‌্যাপকিন যদি অগত‌্যা তৈরি করতে হয়, তবে তা আকারে বড়, ১৮ ইঞ্চি লম্বা ১৮ ইঞ্চি চওড়া কাপড়ে করতে হবে। সংখ‌্যায় অন্তত দুই ডজন করতে হবে, যাতে শিশুর কাঁথায় শোয়ার বয়স পার হয়। ন‌্যাপকিনের কাপড় নরম এবং পানি বিশোষক হওয়া প্রয়োজন। এর জন‌্য মোটা মখমল কাপড় ব‌্যবহার করা যায়। পুরনো শাড়ি হলে তো চমৎকার। সেগুলো যেমন নরম, তেমনি কয়েক ভাঁজ করে ন‌্যাপকিন করলেও ভারী হবে না। প্রস্রাবও ভালো করে শুষে নেবে। ন‌্যাপকিনের কিনারাগুলোতে হেম সেলাই দিলে মজবুত হবে। ১৮ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি কাপড়কে প্রথমে একদিকে সমানভাবে ভাঁজ করলে মোটা তিন ভাঁজ হবে। শিশুর পেছন দিকের সমান চওড়া হবে এটা।

শিশু যত বড় হতে থাকবে, তত ভাঁজ খুলে খুলে ব‌্যবহার করা যাবে। আস্তে আস্তে এমন হবে যখন কেবলমাত্র দুটো ভাঁজই থাকবে। শিশু যদি ছেলে হয়, তবে সামনের অংশ পুনরায় এক তৃতীয়াংশ ভাঁজ করে নিতে হবে। আর শিশু যদি মেয়ে হয়, তাহলে পেছনের অংশ এক তৃতীয়াংশ ভাঁজ করে নিতে হবে। কারণ ছেলেদের সামনের এবং মেয়েদের পেছনের দিকে প্রস্রাবে ভিজে যায়।

ভাঁজ করা ন‌্যাপকিনের ওপর শিশুকে শুইয়ে ভাঁজ করা কাপড়ের অর্ধেক শিশুর দুটি উরুর মধ‌্য দিয়ে উঠিয়ে পেছনের কোণা দুটিকে সামনের ভাঁজ করা কাপড়ের কোণা দুটির সঙ্গে দুটো সেফটিপিন দিয়ে আটকে দিতে হবে।

যতটা জটিল শোনাচ্ছে ব‌্যাপারটা মোটেই কঠিন বা জটিল নয়। খুবই সহজ এবং সরল। শিশু যত বড় হতে থাকবে, ন‌্যাপকিনের সাইজ প্রয়োজনমত বাড়ানো যাবে এবং ভাঁজও দরকার মত বাড়ানো-কমানো সম্ভব হবে। সেফটিপিন দিয়ে আটকাবার সময় ন‌্যাপকিন ঢিলে রাখতে হবে যেন কোন ভাবেই কুঁচকি কেটে না যায়, যেমন ত্রিকোণ ন‌্যাপকিনের বেলায় কুঁচকি কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। শিশুদের ব‌্যবহারের জন‌্য বিশেষ সেফটিপিন আজকাল কিনতে পাওয়া যায়। এই সেফটিপিন ব‌্যবহার করলে কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না। কারণ এই সেফটিপিনের বিশেষ ধরনের গার্ড থাকে যাতে হঠাৎ পিনটি খুলে যেতে না পারে।

শিশুর অন‌্যান‌্য পোশাক ব‌্যবহার আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। যদি গরমকালে শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাহলে মাত্র কয়েকটি সুতির জামাতেই চলে। কেনা তৈরি পোষাক আকর্ষনীয় বটে কিন্তু তার শক্ত কুঁচি, ফিতে ও বোতাম বাচ্চার পক্ষে কষ্টকর। তার চেয়ে কম কুঁচি ও জোড়া দেওয়া এবং বোতাম ছাড়া জামা শিশুর পরিধানের জন‌্য বেশি আরামদায়ক। জামার পেছনের দিকটা পুরো খোলা থাকলে জামা পরানো ও খোলা সহজ হয়। হাত ধরে টানাটানি করতে হয় না এবং মাথা দিয়ে জামা ঢুকানোর জন‌্য কসরৎ করতেও হয় না।

শিশুর পোশাক প্রথম কয়েক মাস খুব উপযোগী ও সহজসাধ‌্য। কাপড়ের ফিতে দিয়ে দুটো দিক বাঁধাও যায় অথবা জামাটিকে দিয়ে শিশুটিকে কেবল জড়িয়েও রাখা যায়। রেডিমেড হোক বা বাড়িতে তৈরি পোশাক হোক, শিশুর জন‌্য যে কোন পোশাক ব‌্যবহারের আগে গরম পানিতে ফুটিয়ে ধুয়ে নিলে খুব ভাল হয়। শীতের সময় হলে ফ্লানেল বা উলের জামা প্রয়োজন। বোনা উলের কোট সামনের দিকে খোলা রেখে বোতাম লাগাবার ব‌্যবস্থা করতে হবে। কখনই মাথা দিয়ে খোলা বা পরানোর ব‌্যবস্থা করা উচিত নয়।

শিশুর মাথা তার দেহের একটা বড় অংশ, ফ্লানেলের বা উলের বোনা টুপি দিয়ে মাথা শীতকালে ঢেকে রাখতে হবে। কাপড় দিয়ে ঢাকা তুলোর টুপি পরানো ঠিক নয়। কারণ তা ধোয়া যায় না। শিশু যতদিন পর্যন্ত পা দিয়ে লাথি দিয়ে গায়ের ঢাকনা ফেলে দিতে না পারে, ততদিন পর্যন্ত উলের মোজা পরালে মলমূত্রে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিকের প‌্যান্টি বাইরে বেরোবার সময়ে কেবল ব‌্যবহার করা যেতে পারে। প্লাস্টিকের প‌্যান্টি ব‌্যবহার না করাই ভাল। কারণ প্লাস্টিক মলমূত্র শুষে না নেওয়ায় শিশুর দেহে তা লেগে ফুসকুড়ি জন্মাতে পারে। শিশুকে খাওয়াবার সময় বীব ব‌্যবহার করতে হবে। পরে অবশ‌্য তার লালা ঝরবে। খাওয়ার পর ওক করে শিশু কিছুটা দুধ ফেলে দেয়।

একথা মনে রাখতে হবে যে, বেশিরভাগ হাসপাতালে নবজাত শিশুর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাকে শোয়াবার জন‌্য বস্ত্রাদি সরবরাহ করে না। আর এই সময়েই শিশুর ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা বেশি। হাসপাতালে এমনিতেই নানা রকম রোগের জীবাণুতে ছেয়ে থাকে। সুতরাং হাসপাতালে ভর্তি হবার সময় শিশুর জন‌্য পরিষ্কার কাপড় ও পোশাক পরিচ্ছদের উপযুক্ত ব‌্যবস্থা করে যাওয়া উচিত।

প্রত্যেক পিতা-মাতার জন‌্য যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

প্রত্যেক পিতা-মাতার জন‌্য যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন তা বিভিন্ন পেজে আলোচনা করা হয়েছে। পেজের লিংকগুলো নিচের বাটনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিচের বাটনগুলোতে ক্লিক করে পেজগুলো ভিজিট করার জন‌্য অনুরোধ করছি।

শিশু জন্মের পর কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়? বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন নবজাতকের খাবার কি? নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন ভাল নাম রাখা পিতার ওপর সন্তানের হক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন নামের গুরুত্ব কি? বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন আরবী নামের প্রয়োজনীয়তা কি? বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন পিতার নামেই সন্তানের প্রকৃত পরিচয়। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দৃষ্টি আকর্ষণঃ সম্মানিত ভিজিটর, ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমাদের একটি দল এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আপনি ইচ্ছা করলে এই ওয়েবসাইটে কর্মরত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে যে কোন পরিমাণ টাকা বিকাশ-এর মাধ্যমে হদিয়া করতে পারেন। হাদিয়া দেওয়ার জন্য বিকাশ পার্সোনাল নাম্বারটি নিচে দেওয়া হলোঃ

01750101908

আরবি, বাংলা ও ইংরেজী অক্ষর দিয়ে মেয়েদের নাম

আরবি, বাংলা ও ইংরেজী অক্ষর দিয়ে মেয়েদের নাম দেখতে আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

আ (ع-ا) (A) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব (B) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন গ (G) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন হ (ح-ه) (H) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ই-ঈ (I-Y-E) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন খ (Kha) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ক (Q-K) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ছ-শ-স ث-ش-س S দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন জ-য (ج-ض-ظ-ز-ذ) Z-J দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন উ (U) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ও (W) দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ত (ت-ط) T দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ন (ن) N দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ফ-ف-F দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ম-م-M দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আরবি, বাংলা ও ইংরেজী অক্ষর দিয়ে ছেলেদের নাম

আরবি, বাংলা ও ইংরেজী অক্ষর দিয়ে ছেলেদের নাম দেখতে আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

এ (ع-ا) (A-E-I) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন আ (ا-ع) (A) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব (ب) (B) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন দ (د) (D) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ফ ف F দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন গ (غ) (G) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ই-ঈ (ى-ا-ع) (I-Y-E) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন জ (ج) (J) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন খ (خ) (Kha) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ল ل L দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ম (م) (M) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ন (ن) (N) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন উ (ا-ع) (O-U) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন অ (و) (O) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ক (ك-ق) (Q-K) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন র ر R দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন শ (ش) (S) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ছ-স (ث-ص-س) (S) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ত (ط-ت) (T) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন ও (و) (W) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন য (ز-ذ) (Z-J) দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেখতে এখানে ক্লিক করুন