গর্ভবতী মায়ের যত্ন

১। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আলোচনা কর। মায়ের অপুষ্টিতে সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে?
২। গর্ভকালীন সময়ে কয়েকটি পরীক্ষা বর্ণনা কর।
৩। গর্ভকালীন “ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা” ও কি কি কারণে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়- বুঝিয়ে লিখ।

জন্মপূর্বক বর্ধনে পরিবেশের প্রভাব যে কত গুরুত্বপূর্ণ তাতে আজ আর কোন সন্দেহ নেই। মায়ের অসুস্থতা বা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য শিশু কালা বা অন্ধ পর্যন্ত হতে পারে, তার জীবনযাত্রা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের চাইতে যথেষ্ট শোচনীয় হতে পারে। যেহেতু শিশু সম্পূর্ণভাবে মায়ের উপর নির্ভরশীল, সেহেতু মায়ের স্বাস্থ্য, উপযুক্ত খাদ্য ও পুষ্টি, বিশ্রাম ও শান্তিকর পরিবেশের প্রয়োজন আছে। যে মা দৈহিক দিক দিয়ে সুস্থ, রোগ-ব্যধি বা অপুষ্টি হতে মুক্ত, সেই মা স্বাভাবিকভাবেই তার সন্তানের জন্য উপযুক্ত জন্মপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবেন। এখন আমরা গর্ভবতী মায়ের যত্নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করব।

মায়ের খাদ্য ও পুষ্টি

খাদ্য ও পুষ্টির উপর শুধু গর্ভিনীর স্বাস্থ্যই নির্ভর করে না, মাতৃগর্ভে শিশুর বেড়ে ওঠার ধারাও এর উপর নির্ভরশীল। নিয়মিত সুপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এজন্যই বেশেষ প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্যের ঘাটতিতে রক্তশূন্যতা, শোথ রোগ, গর্ভস্রাব ইত্যাদি দেখা দেয়। মায়ের দেহের সঞ্চিত খাদ্য উপাদান থেকে ভ্রুণ শিশু তার বেড়ে ওঠার চাহিদা পূরণ করে। সুতরাং মায়ের দেহের পুষ্টির সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা আবশ্যক। পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী গর্ভাবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন-

ক. প্রথম তিন মাস বা First trimester : ১ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময়ে ভ্রুণের বৃদ্ধি সামান্যই হয় বলে এ সময়ে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না, তবুও দেহকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত সুষম আহার (balanced diet) গ্রহণ করতে হবে। সুষম আহার গ্রহণের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আহারে পাঁচমিশালি খাদ্যের সংমিশ্রণ- মাছ ও মাংস বা কলিজা, দুধ, ডিম, ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাদ্য দেহের প্রয়োজনীয় গঠনের ও রক্ষণাবেক্ষণের উপাদান প্রোটিন সরবরাহ করে; ভাত, আলু, রুটি, মিষ্টি ইত্যাদি শর্করাজাতীয় উপাদান দেহে কর্মশক্তি যোগান দেয় এবং টাটকা ফল, সবুজ ও হলুদ বর্ণের শাক-সবজি নানারকম ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস বলে এগুলো প্রত্যহ কিছু পরিমাণে খেতে হবে।

খ. দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রিমাসিক বা Second trimester and third trimester : ৪-৬ মাস সময়ে ভ্রুণের বৃদ্ধি দ্রুত হয়, প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গ্রন্থির গঠন কাজ চলে, তাই ৩/৪ মাস হতে মাকে তার আহারের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়াতে হবে। ৫/৬ মাস হতে গর্ভবতী মায়ের ক্ষুধা বৃদ্ধি পেতে থাকে- দেহে বিপাকক্রিয়ার গতিও বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদেরা ২য় ও ৩য় Trimester-এ প্রোটিনের চহিদার পরিমাণ ২০ গ্রামে নির্ধারণ করেছেন। এ অতিরিক্ত প্রোটিন জরায়ুর ও স্তনের বর্ধন এবং ভ্রুণের বৃদ্ধির জন্যে প্রয়োজন হয়। মোট প্রোটিনের / অংশ উৎকৃষ্টমানের অর্থাৎ মাছ, মাংস, দুধ, ডিম জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করতে হবে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হলে অন্যান্য উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, লৌহ এবং B ভিটামিনের চাহিদাও পুরণ হবে। প্রোটিনের অভাবে গর্ভবতী মায়ের শোথ রোগ (Edema) হয়; রক্তশল্পতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ও ওজনহীনতা প্রভৃতি দুর্লক্ষণ দেকা দেয়। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’ এবং ফসফরাস-এ তিনটি খনিজ উপাদানের গুরুত্ব পরস্পর সম্পর্কিত বলে একই সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়াম ভ্রূণের দাঁত, মাড়ি ও অস্থিবৎ পেশী গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়। এ দুটো উপাদানের অভাবে ভ্রুণের অস্থিবৎ পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রিকেট রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। লৌহের অভাবে দেহে রক্ত তৈরির উপাদান কমে যায় ফলে রক্তশল্পতা রোগ হয়। এছাড়াও লৌহের অভাবে দেহে অক্সিজেন-এর সরবরাহ হ্রাস পায়; ফলে ভ্রুণ শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যান্য খাদ্য উপাদান যেমন- আয়োডিন ও B-ভিটামিন-এর চাহিদাও গর্ভাবস্থায় বৃদ্ধি পায়।

আমাদের সমাজে গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কে কতকগুলো ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে যা এদের পুষ্টির উপর দারুণভাবে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন- মৃগেল মাছ খেলে সন্তানের মৃগি রোগ হবে, শাক-সবজি খেলে বদহজম হবে ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের ভ্রান্ত ও কুসংস্কার ধারণা। ফলে উল্টোটাই হয়, বাছাই করে কম খাবারের জন্য মায়ের অপুষ্টি হয়, ফলে সন্তান খুবই কম ওজন আর অপুষ্টি নিয়ে জন্মায়। খাদ্যাভ্যাসের এ ভ্রান্ত ধারণাগুলো পরিহার করে আহার পাঁচমিশালি ও পুষ্টিকর করে খেতে হবে।

গর্ভাবস্থায় শ্রম ও বিশ্রাম

শ্রম ও বিশ্রাম : গর্ভাবস্থায় শ্রম ও বিশ্রামের মধ্যে সমতার প্রয়োজন আছে। মাংসপেশীর শক্তি ও সবলতা প্রসবধারাকে সহজ করে। তাই রক্ত চলাচল ও কোষ্ঠ নিয়মিত রাখার জন্য ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্য-ক্ষমতা সুষ্ঠু রাখার জন্য নিয়মিত শ্রমের প্রয়োজন। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার জন্য সংসারের কাজ-কর্মে কোন ভারী কাজের পর হালকা কাজের ব্যবস্থা করলে, সময় ও কাজের তালিকা প্রণয়ন করে কাজ করলে দেহ ও মন প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাবে। রাতে ভালমত ঘুমাবার ব্যবস্থা করা উচিত এবং দুপুরে আহারের পর ঘন্টা দুয়েক বিশ্রাম নেওয়া ভাল। তবে গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস কোনরকম ভারি কাজ হতে বিরত থাকা ভাল।

স্বাস্থ্যবিধি পালন করা, যেমন নিয়মিত গোসল করা, কোষ্ঠ পরিষ্কার করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দাঁত, মুখ পরিষ্কার রাখা সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।

গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা : গর্ভবতী মাকে তার মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা করা উচিত। পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং মায়ের সাথে জড়িত সকলেরই উচিত গর্ভিণীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রাখা। গর্ভবতী মা বিরক্ত ও নৈরাশ্য, উত্তেজনা প্রভৃতি হতে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন এবং বিনোদনমূলক কাজে মনের প্রফুল্লতা বজায় রাখবেন। মনে রাখা উচিত যে, গর্ভের সন্তানের প্রতি মায়ের মনোভাব, মায়ের মানসিক অবস্থা, তার স্বাস্থ্য প্রভৃতি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মা ও শিশুর সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন, কারণ এ সময়ে কোন জটিলতা ধরা পড়লে তা সময়মত চিকিৎসা করা যায়, ফলে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারে। এছাড়াও শিশুর দৈহিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ

ডাক্তারি পরীক্ষা : গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হলে, প্রত্যেক মাসে মাসে একবার চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষার জন্য দেখাতে হবে। ৭ মাস পর মাসে ২ বার এবং ৯ মাস হতে সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার দেখাতে হবে। ডাক্তারি পরীক্ষার মেধ্যে যে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো হচ্ছে-

(ক) ওজন : গর্ভাবস্থায় মায়ের ওজন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে এবং মোট ওজন ৯-১৩ কেজি বাড়ে, তবে এর মধ্যে সন্তানের ওজন মাত্র ৩-৩.৫ কেজি। বাকি ওজন মায়ের গর্ভফুল, জরায়ু, স্তন, চর্বি ও এ্যামনিওটিক রসের জন্য হয়। ওজন বৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে হয়, প্রথম ১০ সপ্তাহে ওজন বৃদ্ধি সামান্যই হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতি সপ্তাহে ২০০-২৫০ গ্রাম এবং শেষ ২০ সপ্তাহে প্রতি সপ্তাহে ৩০০-৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়ে। অতি কৃশ মায়ের ওজন (<৪০ কেজি) বৃদ্ধি ৯ কেজির কম হলে এবং মধ্য বাহুর পরিধি ২০ সেমি-এর কম হলে, শিশু ক্ষীণ ও দুুর্বল হয়ে জন্মাবার সম্ভাবনা থাকে। হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে শেষ ৩ মাসে এবং সেই সাথ পায়ে পানি জমলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

(খ) ভ্রূণের বৃদ্ধির পরিমাণ : গর্ভস্থ সন্তান ঠিকমত বাড়ছে কি না, তা মায়ের পেটের পরিধি ও লম্বালম্বি মাপ হতে ধরা পড়ে। ভ্রুণের বৃদ্ধির সাথে জড়ায়ুও বাড়তে থাকে এবং এই বৃদ্ধি ৩২-৩৫ সেমি পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়। ভ্রুণের নড়াচড়া এবং হৃদস্পন্দন ১৪-১৬ সপ্তাহ পর হতেই পরিলক্ষিত হয়। ৫ মাস পর ভ্রুণের নড়াচড়া যদি কম আসে, তাহলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।

(গ) সংক্রামক রোগ : বেশ কিছু সংক্রামক রোগ ভ্রুণের ক্ষতিসাধন করে- এগুলো হচ্ছে রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার জাতীয় রোগ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি পালন করলে রোগমুক্ত থাকা যায়। তবে প্রত্যেক গর্ভবতী মাকে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ ইনজেক্‌শন (tetanus toxoid) দেওয়া উচিত। এছাড়াও মূত্র ও কিড্‌নীর সংক্রমণও মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া, মূত্রনালীতে ও কোমরে ব্যথা, জ্বর প্রভৃতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

(ঘ) জটিলতার জন্য পরীক্ষা : গর্ভকালীন সময়ে কিছু জটিলতা আশংকাজনক হতে পারে। এসব জটিলতা সম্পর্কে জানা থাকলে সময়মত চিকিৎসা ও যত্ন নেওয়া যায়। এগুলো হচ্ছে-

(১) রক্তচাপ ও নাড়ীর গতি : রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ বলে ধরা হয়। গর্ভবতী মায়ের জন্য উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার। স্বাভাবিক নাড়ীর গতি প্রতি মিনিটে ৬০-৮০ ধরা হয়। এর বেশি হলে, অর্থাৎ ৯০-১০০ হলে জ্বর, দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড সমস্যা ইত্যাদি নির্দেশ করে। এগুলো পরীক্ষা করা দরকার।

(২) টক্সিমিয়া (Toxemia) : গর্ভকালীন সময়ে eclampsia বা pre-eclampsia এক প্রকারের টক্সিমিয়া। এর কারণ হিসেবে ‍উচ্চ রক্তচাপ, হাতে পায়ে পানি জমা, প্রস্রাব হতে এলবুমিন বের হওয়া ইত্যাদি দেখা দিলে এই রোগ হয়। এই সময়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

(৩) রক্তস্বল্পতা : রক্তস্বল্পতা সাধারণত অপুষ্টিজনিত রোগ। দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তিবোধ, বুক ধড়ফড়, ফ্যাকাসে চেহাড়া প্রভৃতি রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। লৌহ ও ভিটামিনের বড়ি গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি পালন করলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। তবে পাইলস, রক্তক্ষরণ, আলসার প্রভৃতি সমস্যা থাকলে এগুলোর চিকিৎসা প্রয়োজন।

(৪) ডায়াবেটিস : অনেক সময় গর্ভাবস্থায় gestational diabates দেখা দেয়। প্রস্রাবে গ্লুকোজের উপস্থিতি এবং রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে গ্লুকোজ থাকলে ডায়াবেটিস সনাক্ত করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এসব উপসর্গ মিলিয়ে যায়। এ ছাড়াও ডায়াবেটিস দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

(৫) ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সনাক্তকরণ : গর্ভাবস্থায় ডাক্তারি পরীক্ষায় মায়ের ঝুঁকি ও জটিলতা দুটোই পরীক্ষা করা হয়। “High risk mothers”-কে পৃথকভাবে সনাক্ত করা একান্ত আবশ্যক। তবে যে সকল গর্ভবতী মাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অবহিত করা হয়, তাদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যা জানা দরকার।

(১) অল্পবয়সী মা (<১৫ বছর) অথবা বেশি বয়সী মা (>৩৫ বছর)।
(২) খাটো মহিলা (<১৫০ সেমি)।
(৩) গর্ভাবস্থায় ৭ কেজির কম ওজন বৃদ্ধি।
(৪) পূর্বের ইতহাস- মৃত সন্তান, গর্ভপাত, জটিল প্রসব।
(৫) বিবাহের বহুদিন পর গর্ভধারণ।
(৬) টক্সিমিয়া।

গর্ভকালীন যত্নের মধ্যে মায়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা যাকে “at risk” বলে, তা সনাক্ত করা এবং সময়মত চিকিৎসা করা খুবই দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের সন্তান মৃত, দুর্বল ও অপুষ্ট রোগাক্রান্ত হয়ে জন্মায় এবং এদের মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি থাকে। প্রয় ৫% মায়েদের মধ্যে প্রকট ঝুঁকি (high risk) থাকতে দেখা গেছে এবং ২৫% মায়েদের মধ্যে মাঝারি ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকতে দেখা গেছে। নিচের ছকে গর্ভকালীন সময়ে যে সব বিষয় মায়ের ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা বাড়ায়, তার বর্ণনা দেওয়া হল।

বিষয় কাদের মধ্যে বেশি হয়
আর্থ-সামাজিক কারণ শহরে ঘনবসতি বস্তি, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল, গরিব, ছিন্নমূল নারী, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা।
জৈবিক কারণ ১৮ বছরের কম ও ৩৫ বছরের বেশি বয়সের মহিলা, বেশি বয়সে প্রথম সন্তান ধারণ, খুব খাট মহিলা, ঘন ঘন সন্তান ধারণ।
অসুস্থতা রক্তস্বল্পতা, হার্ট ও কিডনীর অসুখ, ডায়াবেটিস, হেপাটাই, যক্ষা প্রভৃতি।
গর্ভকালীন ইতিহাস মৃত সন্তান, গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্মদান, দীর্ঘমেয়াদী প্রসব, জটিল প্রসব।
বর্তমান জটিলতা টক্সিমিয়া, রক্তক্ষরণ, অবিরাম বমি, গর্ভকালীন সময়ে কম ওজন বৃদ্ধি, হাতে পায়ে পানি আসা, মাথা ঘোরা, গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া থেমে যাওয়া, জরায়ুর মুখ হতে পানি বের হওয়া।

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

১। সন্তানের প্রসবকাল কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? প্রসবকালীন স্তর, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে লিখ।
২। প্রসব কয় প্রকারের হয়? প্রত্যেক প্রকার প্রসবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।
৩। প্রসবকালীন জটিলতার মধ্যে মস্তিস্কের আঘাত কেন সবচেয়ে ক্ষতিকর? কিভাবে ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়া যায়?
৪। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কি কি বিষয় জানা আবশ্যক, আলোচনা কর।

প্রসবকাল, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রসবকালীন বিষয়াদির প্রভাব

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা

১। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কি কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত তা আলোচনা কর?
২। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আলোচনা কর।
৩। নবজাত শিশুর কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলে ধর। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবে?
৪। অপরিণত শিশু কাকে বলে? অপরিণত শিশুর কয়েকটি সমস্যার উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।
৫। APGAR-স্কোর সম্পর্কে আলোচনা কর। এর গুরুত্ব কি?

নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিমাপ, শিশুর নাভিরজ্জু কাটা বিস্তারিত এখানে পড়ুন

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

শিশু জন্মের পর তার কি ধরনের পরিচর্যা করতে হয়? এ ব‌্যাপারে আমরা অনেকেই জানিনা। শিশু জন্মের পর তার সঠিক পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ‌্যের যত্ন, শিশুর কাপড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, শিশুর ঘুমানোর নিয়ম, শিশুর মলত‌্যাগ করার নিয়ম, শিশুর দাঁত পরিষ্কার করা ইত‌্যাদি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাই সচেতন মা-বাবা হিসেবে প্রত‌্যেক পিতা-মাতার শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

শিশু জন্মের পর পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ। নবজাতক শিশুকে তার মায়ের বুকের দুধ কেন খাওয়াবেন? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম কি? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা কি? নবজাতকের খাবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

নবজাতকের খাবার - মায়ের বুকের দুধ

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

শিশুদের সেবা-যত্ন কিভাবে করতে হয়? শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা কি? শিশুর আদব-কায়দা কি? শিশুর পোষাক পরিচ্ছদ কি? শিশুর ন‌্যাপকিন কিভাবে ব‌্যবহার করবেন? এখানে শিশু লালন পালন বিষয়ক কিছু উপদেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত‌্যেক পিতা-মাতার এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করা উচিত।

শিশু লালন পালন বিষয়ক উপদেশ

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

অটিজম শিশুদের অন্যতম বিকাশমূলক বৈকল্য। শিশুদের আচরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হয়। মনোচিকিৎসক লিও কে'কনার এ সমস্যাকে সর্বপ্রথম ১৯৪৩ সালে আলাদা একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং অটিজম নামে অভিহিত করেন। Autism শব্দটি গ্রীক Autos শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ব্যাক্তিদের প্রতি এসব শিশুদের আগ্রহের অভাবের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য তিনি অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন।

অটিজম (Autism) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা

সীমিত অর্থে শারীরীক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চালনমূলক প্রতিবন্ধিতা (Motor disability)- এর সমন্বিত অবস্থা। দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমবয়সীদের মত শারীরীক কর্মকান্ড বিশেষ সাহায্য ব্যতিরেখে করার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতা যুক্ত থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকতে পারে, কম থাকতে পারে কিংবা গড়ের বেশিও থাকতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জন্মগত বা রোগ বা দুর্ঘটনা দ্বারা অর্জিত হতে পারে এবং তা মৃদু বা গুরুতর হতে হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা শিশুর শিক্ষা গ্রহণ ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। সে কারণে অনেকের বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শারীরীক প্রতিবন্ধিতা কি? বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য

চেখের গঠন বা কার্যকারিতার ত্রুটির কারণে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (Visual Impairment) বলতে শিশুর দৃষ্টিক্ষমতার সে পরিমাণ ক্ষতিকে বুঝায় যেক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ অথবা শিক্ষার পরিবেশের পরিবর্তন করা না হলে শিশুর সর্বোচ্চ শিক্ষণ ও সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না (ব্যারাগা ১৯৮৩)।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কি? এর শ্রেণিবিভাগ, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোন প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয় এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (Hearing Impairment)’ বলতে মৃদু থেকে চরম পর্যন্ত যেকোন মাত্রার শ্রবণ অক্ষমতাকে বুঝায়। এর আওতায় বধির মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা ও আংশিক মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এ দুই উপ-বিভাগ অন্তর্ভুক্ত (ব্রিল, ম্যকনেইল ও নিউম্যান-১৯৮৬)।

শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কি? শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এখানে