জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, ন দিয়ে বাগধারা

প্রত্যেক ভাষার এরূপ বহু শব্দ সমষ্টি রয়েছে, যেগুলো শব্দগত অর্থের পরিবর্তে সমষ্টিগতভাবে একটি বিশেষ অর্থ প্রদান করে, একে বাগধারা বলে। নিচে জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, ন দিয়ে বাগধারা দেয়া হলো।

জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, ন দিয়ে বাগধারা

জ, ঝ ‍দিয়ে বাগধারা

  1. জিলাপির প্যাঁচ (কুটিলাতা) - বাইরে দেখতে নিতান্ত ভদ্রলোক কিন্তু ভেতরে যে এত জিলাপির প্যাচ তা কে জানতো?
  2. জগদ্দল পাথর (গুরুভার) - ভালোবাসার জগদ্দল পাথর সহজে মাথা থেকে নামতে চায় না।
  3. জগাখিচুড়ি (বিশৃঙ্খলা) - বইপত্রগুলো জগাখিচুড়ি করে না রেখে একটু গুছিয়ে রাখতে পার না।
  4. জবরজং (জমকালো কিন্তু বেমানান) - তোমাকে ঐ জবরজং পোশাকে একটুও মানায় নি।
  5. জোর কপাল (সুপ্রসন্ন ভাগ্য) - এত অল্প পড়ে প্রথম বিভাগে পাস করেছ, তোমার তো দেখি জোর কপাল!
  6. ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো (ইশারায় শেখানো) - বড় ছেলের অপরাধে ছোট ছেলেকে পিটিয়ে চেয়ারম্যান সাহেব ঝিকে মেরে বৌকে শেখালেন।
  7. ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত অবস্থা) - এমন ঝড়ো কাকের মতো অবস্থা কেন? কোনো খারাপ খবর নাকি?
  8. ঝাঁকের কই (এক দলের লোক) - বাদল ঝাঁকের কই তাকে ধরলেই সব ধরা পড়বে।
  9. ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগের সদ্যবহার করা) - ঝোপ বুঝে কোপ মেরে সে জমিটা হাত করে নিয়েছে।

ট, ঠ দিয়ে বাগধারা

  1. টাকার গরম (অর্থের অহংকার) - টাকার গরমে কামালের এখন মাটিতে পা পড়ে না।
  2. টনক নড়া (সচেতন হওয়া) - সময় হারিয়ে গেলে টনক নড়লেও কোন লাভ হয় না।
  3. টাকার কুমির (অনেক টাকার মালিক) - টাকার কুমির মুত্তালিব সাহেব শেষ পর্যন্ত অবিচার করতে শুরু করলেন।
  4. টক্কর দেয়া (প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া) - সবার সঙ্গে টক্কর দিতে যেও না।
  5. টইটুম্বুর (ভরপুর) - একদিনের বৃষ্টিতে খাল বিল একেবারে টইটুম্বুর হয়ে গেছে।
  6. টুপ ভুজঙ্গ (নেশাগ্রস্ত) - বেটা টুপ ভুজঙ্গ- এ পাড়ায় মাতলামি করতে এসো না।
  7. টানাপড়ন (বিরক্তিকর যাতায়াত) - ছুটাছুটি করে টানাপড়নে প্রাণ যায় যায়।
  8. ঠোঁট কাটা (বেহায়া) - রহিমের মুখে কিছু আটকায় না সে একেবারে ঠোঁট কাটা।
  9. ঠুটো জগন্নাথ (দায়িত্বহীন ব্যক্তি) - তোমার মত ঠুটো জগন্নাথকে সমিতির সভাপতির পদ দেওয়া যাবে না।

ড, ঢ দিয়ে বাগধারা

  1. ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বস্তু) - আগে এত আসতে যেতে এখন যেন ডুমুরের ফুল হয়ে গেছ।
  2. ডান হাতের ব্যাপার (আহার) - আগে ডান হাতের ব্যাপারটা সেরে নাও, তারপর অন্য কাজ করা যাবে।
  3. ডাকাবুকো (নির্ভীক) - এমন ডাকাবুকো ছেলে না হলে এই কাজ সমাধা হতো না।
  4. ডিমে রোগ (সর্বদা রুগন) - এ তো দেখছি ডিমে রোগা ছেলে, কোন কাজে আসবে না।
  5. ডামাডোল (গোলযোগ) - যুদ্ধের ডামাডোলে সারা দেশটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।
  6. ডুব মারা (অদৃশ্য হওয়া) - যখন তখন কোথায় ডুব মারো তুমি?
  7. ঢাকের কাঠি (তোষামোদ) - টাকা পয়সা থাকলে অনেক ঢাকের কাঠি পাওয়া যায়।
  8. ঢাকের বাঁয়া (অকেজো) - তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না, সে ঢাকের বাঁয়া হয়ে বসেছে।
  9. ঢাক ঢাক গুড়গুড় (লুকোচুরি, কপটতা) - ঢাক ঢাক গুড়গুর করে লাভ কি, যা বলার স্পষ্ট করে বলে ফেল।
  10. ঢাকঢোল পেটানো (প্রচারণা) - তুমি বিষয়টা চেপে কি করবে; ইতোমধ্যে ঢাকঢোল পেটানো হয়ে গেছে।
  11. টি টি পড়া (দুর্নাম রটনা) - তোমার কেলেঙ্কারির কথায় সারা গ্রামে টি টি পড়ে গেছে।
  12. ঢুঁ মারা (অনুসন্ধান/ চেষ্টা) - অফিসে অফিসে ঢুঁ মেরে আর পারা যাচ্ছে না, সর্বত্র ‘নো ভ্যাকেন্সি’।

ত, থ দিয়ে বাগধারা

  1. তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী) - ছেলেটি ফেল করায় ভবিষ্যতের সুখ স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে গেল।
  2. তুলসী বনের বাঘ (ভণ্ড সাধু) - সে তো তুলসী বনের বাঘ, তোমরা ব্যস্ত হয়েছ কেন?
  3. তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব) - অঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ায় তার চোখে আর মানুষ ধরে না, নিশ্চয়ই তামার বিষে ধরেছে।
  4. তুষের আগুন (দহনকারী দুঃখ) - ছেলের মৃত্যুতে মাতা তুষের আগুনের মতো জ্বলছে।
  5. তীর্থের কাক (সুযোগ সন্ধানী) - সুদিনে অনেক তীর্থের কাকের আবির্ভাব ঘটে।
  6. তিলকে তাল করা (অতিরঞ্জিত করা) - তিলকে তাল করার স্বভাবটা তোমার গেল না।
  7. তালপাতার সেপাই (রুগন/ ছিপছিপে) - এত যে খাও-দাও সে সব যায় কোথায়? দেখতে তো তালপাতার সেপাই।
  8. তালকানা (কাণ্ডজ্ঞানহীন) - তালকানা লোকটার ওপর এমন দায়িত্ব দিলে? সব না যেন আবার পণ্ড হয়!
  9. তালগোল পাকানো (বিশৃঙ্খলা) - সেলিমটা কোন কাজের না, সবকিছুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে।
  10. তিলে তিলে (ধীরে ধীরে) - সৎ মায়ের অত্যাচারে নিরীহ মেয়েটি তিলে তিলে মারা গেল।
  11. তুর্কি-নাচন (হুলুস্থুল অবস্থা) - আর ধার দিচ্ছি নে- আগের পাওনা আদায় যে তুর্কি-নাচন নাচিয়েছো, তা আজও ভুলিনি, বুঝেছ?
  12. তুলকালাম (হইচই/ সাংঘাতিক ঘটনা) - সামান্য ব্যাপারে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেল।
  13. তুলসি বনের বাঘ (ভণ্ড, শয়তান) - নাম শুভ হলে হবে কি, আসলে ও তুলসি বনের বাঘ।
  14. তেল মাখানো (তোষামদ) - যতই তেল মাখাও কাজের বেলায় ফক্কা।
  15. থ মারা/ থ বনে যাওয়া/ থ হয়ে যাওয়া (অবাক হওয়া/ বিস্মিত হওয়া/ স্তম্ভিত হওয়া) - কর্তার চাকরি গেছে শুনে গিন্নি হয়ে গেল।
  16. থৈ পাওয়া (অবস্থা নাগালে আসা) - দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারে থৈ পাওয়া মুশকিল।

দ, ধ দিয়ে বাগধারা

  1. দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু) - পকেটে টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না।
  2. দাও মারা (সুবিধা লাভ) - আজকাল প্রায় সব সবাইকেই দাও মারা স্বভাবে পেয়ে বসেছে।
  3. দুমুখো সাপ (বন্ধুবেশী শত্রু) - তোমার মতো দুমুখো সাপকে আমার চিনতে আর বাকি নেই।
  4. দহরম মহরম (গভীর বন্ধুত্ব) - এতদিনের দহরম মহরম এটুকিতেই শেষ হয়ে গেল।
  5. দা-কুমড়া সম্বন্ধ (শত্রুভাব) - গ্রামের দুই মাতাব্বরের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক, একের দোষ পেলেই অন্যজন ঢাকা ঢোল পেটায়।
  6. দক্ষিণ হস্ত (প্রধান সহযোগী) - হাবিব তো তোমার দক্ষিণ হস্ত।
  7. দেঁতো হাসি (কৃত্রিম হাসি) - আমার সফলতায় তুমি খুশি হতে পারোনি, তা তোমার দেঁতো হাসি দেখেই বুঝতে পেরেছি।
  8. দাঁত ফোটানো (কঠিন বিষয় আয়ত্ত করা) - অঙ্কের বিষয়ে দাঁত ফোটানো যাচ্ছে না।
  9. দিনকে রাত করা (অসাধ্য সাধন বা দুষ্কর্ম করা) - ধুরন্ধর ব্যক্তিদের পাল্লায় পড়ো না, দিনকে রাত করে ছেড়ে দেবে।
  10. দিবাস্বপ্ন (অলীক কল্পনা) - আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, কিন্তু দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ হয় না।
  11. দিল্লিকা লাড্ডু (যে জিনিস পেলে অনুতপ্ত হয় অথচ না পেলেও হতাশ হয়) - এ দেশে সরকারি চাকরি হলো দিল্লিকা লাড্ডু, যতদিন পাইনি ততদিন মনে কি দুঃখই ছিল, এখন পেয়ে দেখছি স্বভাব চরিত্র সব নষ্ট হয়ে গেল।
  12. দু’কান কাটা (বেহায়া/ নির্লজ্জ) - দু’কান কাটাদের বকে-মেরে লাভ নেই।
  13. দুধে আলতা রঙ (রঙের উজ্জ্বল্য) - মেয়েটার দুধে আলতা রঙ, একবার দেখলেই পছন্দ হয়ে যাবে।
  14. দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো (আসলের অভাব নকলে মেটানো) - কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই।
  15. ধর্মপুত্রের যুধিষ্ঠির (পরম ধার্মিক বলে ব্যঙ্গ করে অধার্মিক বোঝানো) - সারাজীবন লোক ঠকিয়ে এখন বিচারাসনে বসেছেন- কি আমার ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির।
  16. ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই) - ভেবেছ তোমার চালাকি কেউ ধরতে পারবেনা ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
  17. ধরাকে সরা জ্ঞান করা (তুচ্ছ জ্ঞান করা) - কাঁচা টাকা এসেছে কিনা, তাই সত্তার ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে।
  18. ধোপে টেকা (সুফল দেওয়া) - তোমার ওই যুক্তি আদালতে গেলে ধোপে টিকবে ভাবছ?
  19. ধোপদুরস্ত (বাবুয়ানি) - লেখাপড়া জানে না, অথচ সব সময় ধোপদুরস্ত হয়ে চলে।
  20. ধামা ধরা (তোষামোদকারী) - লোকটা চেয়ারম্যানের একেবারেই ধামা ধরা। তাই তার পক্ষেই কথা বলে।

ন দিয়ে বাগধারা

  1. ননীর পুতুল (অত্যন্ত আদরের) - আবুল তো ননীর পুতুল, এত পরিশ্রম তার সহ্য হবে না।
  2. নয়-ছয় (অপচয় করা) - সে অল্প দিনেই তার সব কিছু নয় ছয় করে শেষ করল।
  3. নকড়া ছকড়া করা (তুচ্ছ জ্ঞান করা) - কাজের জিনিস নকড়া ছকড়া করা ঠিক নয়।
  4. নদের চাঁদ (সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ) - তুমি তো বাবা নদের চাঁদ- তোমাকে দিয়ে এই কাজ হবে না।
  5. নাক সিটকানো (অবজ্ঞা করা) - সব ব্যাপারেই তোমার নাক সিটকানো অভ্যাস গেল না।
  6. নাড়ির খবর/ হাঁড়ির খবর (সকল তথ্য) - নাড়ির খবর/ হাঁড়ির খবর নিয়েই তবে তোমার দলে ভিড়তে চাই।

অন‌্যান‌্য বর্ণ দিয়ে বাগধারা

অন‌্যান‌্য বর্ণ দিয়ে বাগধারা পড়তে নিচের বাটনগুলোতে ক্লিক করুন।

অ, আ দিয়ে বাগধারা ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ও দিয়ে বাগধারা ক, খ দিয়ে বাগধারা গ, ঘ, চ, ছ দিয়ে বাগধারা প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ দিয়ে বাগধারা

পরীক্ষার জন‌্য ব‌্যাকরণ-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

সকল প্রকার ভর্তি পরীক্ষা, চাকরির পরীক্ষা, HSC পরীক্ষা ও SSC পরীক্ষার জন‌্য বাংলা ব‌্যাকরণ-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের লিংক নিচে দেয়া হলো। হলুদ বাটনে ক্লিক করে বিষয়ভিত্তিক পেজগুলো ভিজিট করুন।

সন্ধি কি? সন্ধি শব্দের অর্থ কি? পড়তে এখানে ক্লিক করুন। সমাস ‍কি? সমাস কত প্রকার? পড়তে এখানে ক্লিক করুন। কারক কাকে বলে? কারক কত প্রকার? বিভক্তি কি? বিভক্তি কত প্রকার? পড়তে এখানে ক্লিক করুন। সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ কি ও এর উদাহরণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন। বিরামচিহ্ন কাকে বলে? বাংলায় বিরামচিহ্ন কয়টি ও কি কি? পড়তে এখানে ক্লিক করুন। প্রমিত বাংলা বানান কী? প্রমিত বাংলা বানানের দশটি নিয়ম লেখ। পড়তে এখানে ক্লিক করুন। প্রমিত বাংলা বানানের প্রয়োজনীয়তা কী? বুঝিয়ে লেখ। পড়তে এখানে ক্লিক করুন। বিদেশি শব্দে প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম লেখ। পড়তে এখানে ক্লিক করুন। জোড় বা সমোচ্চরিত শব্দ- অ থেকে ঔ পর্যন্ত পড়তে এখানে ক্লিক করুন। জোড় বা সমোচ্চারিত শব্দ- ক থেকে ন পর্যন্ত পড়তে এখানে ক্লিক করুন। জোড় বা সমোচ্চারিত শব্দ ও তার প্রয়োগ। প থেকে হ পর্যন্ত পড়তে এখানে ক্লিক করুন।